Advertisement Placeholder

জনমত জরিপ : রাজনৈতিক বিভাজনে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৯৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জনমত জরিপ : রাজনৈতিক বিভাজনে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত  মার্কিন সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর জনপ্রিয়তা উদ্বেগজনকহারে হ্রাস পেয়েছে। রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেন্সিয়াল ফাউন্ডেশনের জরিপে উদ্বেগজনক এ তথ্য উদঘাটিত হয়েছে এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে শুক্রবার। উদারপন্থীরা চরমপন্থীদের ভয় পায়, রক্ষণশীলরা ‘জাগ্রত’ নীতির নিন্দা করে-এমন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারিরা। রক্ষণশীলরা মনে করেন একটি “জাগ্রত” সামরিক বাহিনী যুদ্ধের চেয়ে সামাজিক কর্মসূচির অগ্রগতির দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।

রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেন্সিয়াল ফাউন্ডেশনের এই জরিপ অনুসারে, বেশিরভাগ আমেরিকান এখন বলছেন যে, পেন্টাগণের সিনিয়র নেতারা যুদ্ধের পরিবর্তে রাজনীতিতে অত্যধিক মনোনিবেশ করেছেন। তারফলে সামরিক পরিষেবাগুলির প্রতি ঐতিহ্যগতভাবে উচ্চ ধারনার পরিবর্তে হতাশা বাড়ছে তীব্রভাবে। “মাত্র চার বছর আগে, একই ধরনের জরিপে উত্তরদাতাদের ৭০% বলেছিলেন যে, সামরিক বাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ ছিল। কিন্তু এখন তা ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়েছে’’- জরিপ পরিচালনাকারিরা উল্লেখ করেছেন।

গত বছর, মাত্র ৪৫% আমেরিকানের সামরিক বাহিনীতে সর্বোচ্চ আস্থা ছিল। সেই প্রবণতা স্থিতিশীল বলে মনে হচ্ছে, ৪৮% এখন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। কিন্তু মাত্র কয়েক বছর আগের তুলনায় জনপ্রিয়তার সে রেটিং ২০ পয়েন্টেরও বেশি কমে গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারিগণের মনোভাব পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেছেন, মার্কিন কংগ্রেস, সুপ্রিম কোর্ট, প্রেসিডেন্সি বা মিডিয়া সহ অন্য কোনো পাবলিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থার ভীত এমনভাবে নড়বরে হয়নি-যেমনটি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, তিনি জরিপ রিপোর্টটি পড়েননি, তাই ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তবে বিমান বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্যাট্রিক রাইডার মার্কিন সামরিক বাহিনীকে “বিশ্বে দেখা সেরা যুদ্ধ সংস্থা” বলে অভিহিত করেছেন। “যখন আপনি মিশনের প্রশস্ততা এবং পরিধি বিবেচনা করেন, এবং যুদ্ধরত পুরুষ ও মহিলাদের কার্যকারিতা বিবেচনা করেন-যারা বিশ্বজুড়ে রনাঙ্গনে রয়েছেন, তাদের অনেকেই নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও কমান্ডারের নির্দেশ পালনে দ্বিধা করেন না। এটিই হচ্ছে সেনাবাহিনীর দায়িত্বনিষ্টার অন্যতম উদাহরণ”-মন্তব্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাইডারের। তিনি দাবি করে বলেন, “আমেরিকানরা তাদের মিলিটারিদের জন্য গর্বিত হতে পারেন।’’

যাহোক, জরিপে উত্তরদাতাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রতিরক্ষা বিভাগের সিনিয়র বেসামরিক এবং সামরিক নেতৃত্বের কর্মক্ষমতা এবং যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন।

রিগ্যান ফাউন্ডেশনের এ জরিপ অনুসারে, যারা বিশ্বাস করে যে অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব বিশ্বের সেরা, সেখানেও চির ধরেছে। ২০২১ সালে ছিল ৩৩% এবং চলতি জরিপে তা ২৫% এ নেমে এসেছে। ঠিক অর্ধেকই বলেছেন, তথাকথিত “জাগ্রত” অনুশীলনগুলি সামরিক কার্যকারিতাকে দুর্বল করে, ৪৬% বলেছেন সামরিক বাহিনী সম্পর্কে তাদের দুর্বল মতামত প্রদানের ভয়কে প্রতিফলিত করে যে, খুব বেশি ডানপন্থী বা চরমপন্থী ব্যক্তি ইউনিফর্মে রয়েছে।

জরিপ অনুসারে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়েসীদের মধ্যে মাত্র ১৩% বলেছেন যে, তারা সেনাবাহিনীতে ভর্তি হতে উদগ্রিব হয়ে আছেন। ২৫% বলেছেন যে, তারা “কিছুটা ইচ্ছুক”। রিগ্যান ফাউন্ডেশন আরো জেনেছে যে, ২০% সামরিক বাহিনীতে যোগদিতে ইচ্ছুক নয়। ২৬% বলেছে যে, তারা সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে মোটেও ইচ্ছুক নন।

১ অক্টোবর অর্থাৎ ২০২২ অর্থবছরের শেষে, সেনাবাহিনী কমপক্ষে ১৫০০০ সৈন্য নিয়োগের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, সমসংখ্যক নতুন লোক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা তারা সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছে।
“দুর্ভাগ্যবশত, ২০২৩ সাল আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। সমস্ত সামরিক পরিষেবাগুলি অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। সেনাবাহিনীতে সবচেয়ে বেশি লোকের প্রয়োজন, অথচ নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হচ্ছে,”-জরিপ পরিচালনাকারিরা উল্লেখ করেছেন।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘সেন্টার ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স’র ডিরেক্টর অবসরপ্রাপ্ত আর্মি লেফটেন্যান্ট জেনারেল টমাস স্পোহর মঙ্গলবার একটি ইভেন্ট পরীক্ষার সময় এমন অভিমত পোষণ করেছেন। পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ক্যাপিটল হিলের রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং তার প্রশাসনের নিন্দা করে বলেছেন যে, হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগণ নেতারা জাতির প্রতি হুমকির দিকে মনোনিবেশ না করে বৈচিত্র্য এবং গতানুগতিক রাজনীতির প্রগতিশীল এজেন্ডা অনুসরণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করছে। শুধু তাই নয়, সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে টেনে আনছে-অভিযোগ রিপাবলিকানদের।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার