রবিবার ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযোদ্ধাদের শীর্ষ ৩ সংগঠনের বিবৃতি

সম্মাননা প্রদানের আগে ‘মুক্তিযোদ্ধা নম্বর যাচাইয়ের অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট  

সম্মাননা প্রদানের আগে ‘মুক্তিযোদ্ধা নম্বর যাচাইয়ের অনুরোধ

বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স।

বিজয়ের মাসে কম্যুনিটিসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশেষভাবে সম্মানীত করা হয়। জাতির শ্রেষ্ঠ্য সন্তানেরাও এজন্যে গৌরব ও অহংবোধ করেন। এটাই হওয়া উচিত। ৫২ বছরের পথ-পরিক্রমায় বাংলাদেশ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছে। প্রকৃতির নিয়মের পাশাপাশি অনেকে ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাগণের তালিকা নিয়ে বিতর্ক ছিল এবং এখনও রয়েছে। এমনি অবস্থার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহে সর্বশেষ একটি তালিকা ওয়েবসাইটে স্থান পেয়েছে।

সেখানে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার একটি নম্বর রয়েছে। ইস্যু করা হয়েছে পরিচয়পত্রও। সে নম্বর অনুযায়ী দূতাবাস, মিশন, কন্স্যুলেট বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তালিকাভুক্তগণকে আমন্ত্রণ জানালে এই প্রবাসেও বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে। অন্তত: বিশেষভাবে সম্মান জানাতে আগ্রহীরা নম্বরটি জেনে নিতে পারেন সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাকে ফোন করে। তারপর সন্দেহের উদ্রেক হলে অনলাইনে সন্ধান করা যেতে পারে। তবে যারা একাত্তরে যৌবনে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাননি, রাজাকার-আল বদরেও তালিকা লেখাননি, তারা এখন হিংসায় জ্বলছেন। এই শ্রেণীর কিছু জ্ঞানপাপী গণমাধ্যমে রয়েছে কিংবা কম্যুনিটিতে নানাভাবে প্রভাব রয়েছে, তারাই হর-হামেশা মুক্তিযোদ্ধাগণকে বিতর্কিত করার মিশন নিয়ে কাজ করছে। এর সাথে যোগ হয়েছে জামাত-শিবিরের ধ্বজাধারী একটি গ্রুপ।

তাদের কোনভাবেই সহ্য হচ্ছে না বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সম্মাননা। নিউইয়র্কে বেশ কটি আঞ্চলিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছে জামাত-শিবিরের লোকজন। আমব্রেলা সংগঠনের দাবিদার একটির শীর্ষ নেতৃত্বে জামাতীরা থাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে বিতর্কিত করার কৌশল অবলম্বন করেছে। অমুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানিয়ে তারা সেই বিতর্কে ঘি ঢালতে চায়। এই শ্রেণীর লোকজনের তালিকা রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেও। তারা সামনের সাড়িতে চেয়ার দখলে নিয়ে নিজেই নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এরা সকলের কাছেই চিহ্নিত, তবুও বেহায়ার মত মিথ্যা পরিচয় দিচ্ছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু লোকের সাথে কানেকশন থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি দমনে কেউই সাহস পাচ্ছে না বলে শোনা যায়। তবে সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধাগণের নম্বর সহ ওয়েবসাইট ওপেন হওয়ায়, কন্স্যুলেট, মিশন কিংবা দূতাবাসের সুযোগ হয়েছে নম্বরটি জানতে চাওয়া। এরপর ওয়েবসাইটে তারা যাচাই করতে পারেন। অতি সম্প্রতি সোনালী এক্সচেঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন। সেখানে শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা একমাত্র একজনকে এই কম্যুনিটির বিশিষ্ট হিসেবে অভিহিত করেন। অথচ সেই লোকটি হচ্ছেন সর্বক্ষেত্রে ‘ভু’য়া’ হিসেবে সমালোচিত।

উদ্ভ’ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়্যার ভেটারন্স-ইউএসএ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে কম্যুনিটির সকলের প্রতি বিনীত আহবান জানানো হয়েছে আমন্ত্রণ জানানোর সময়েই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র নম্বরটি জেনে নিতে। তাহলে সকলের জন্যেই ভালো হবে। বিবৃতিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধার নম্বরসহ (১১ ডিজিট) সর্বশেষ গ্যাজেট নোটিফিকেশন সংরক্ষণ করার জন্যে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-আঞ্চলিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সহজেই তালিকাটি যাচাই করতে পারেন এই ( http://mis.molwa.gov.bd/freedom-fighter-list) )ওয়েবসাইটে গিয়ে। বিবৃতি প্রদানকারিরা হলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র কমান্ড ইনকের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত আব্দুল চৌধুরী (০১৩৬০০০০৯৪৮), সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার (০১৩৯০০০২৩০৪) এবং সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী (০১৮৮০০০২৯৬৩), বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটার্ন্স’-ইউএসএর প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ ( ০১৩৫০০০৪৮৬৫) এবং সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জি এম ফারুক ( ০১০৬০০০১১৪৪)। বিবৃতিতে সকল সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়েছে যে, শত প্রতিবন্ধকতা সত্বেও বাঙালির বিজয়ের মহান দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকেও সম্মানীত করার যে আন্তরিক আগ্রহ জাগ্রত রয়েছে-তা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। শুধু বিজয় দিবস নয়, স্বাধীনতা দিবস, মুজিবনগর সরকার দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভা-সমাবেশেও মুক্তিযোদ্ধাগণকে সম্মানিত করার আগে নম্বর জেনে তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হলে সব ধরনের পরিস্থিতির সহজ নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার কফিনে রাষ্ট্রীয় অভিবাদনের সময়েও আর কোন ঝামেলা হবে না কূটনীতিকদের জন্যে। বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যারা বাংলাদেশে যেতে সক্ষম হচ্ছেন না অর্থাৎ এনআইডি কার্ড করতে পারেননি, তাদের ক্ষেত্রে ভারতীয় তালিকার নম্বর, লাল মুক্তি বার্তা নম্বর অনুসরণ করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, এনআইডি ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে না এবং তারা ভাতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটেরানস ১৯৭১, ইউএসএ ইনক এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে: মহান বিজয়ের মাসে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি সকল বাঙালি ভাইবোনদেরকে জানাই আমাদের পরম শ্রদ্ধা,ভালবাসা, সালাম ও কৃতজ্ঞতা। আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে আরো স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষাধিক সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তাকারী সকল বাঙালী জাতিগোষ্ঠীকে।

আমরা লক্ষ্য করছি, বিজয়ের মাসে নিউইয়র্কে কর্মরত/অবসস্থানরত বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন সমাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন ও স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার স্বীকৃতিস্বরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্বর্ধনা প্রদান সহ বিভিন্নভাবে সন্মানিত করছেন। আমরা কৃতজ্ঞ চিত্তে ঐ সকল মহানুভব সদয় ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি জানাই আমাদের পরম শ্রদ্ধা ও অনাবিল কৃতজ্ঞতা। তবে দু:খজনক হলেও আমরা লক্ষ্য করছি সম্বর্ধনা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন নাই-এমন ব্যক্তিদেরকে বা অ-মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ভুলবশত: সম্বর্ধনা প্রদান করছেন। এতে নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটেরানস-১৯৭১ ইউএসএ ইনক এর পক্ষে এর তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রসংগত উল্লেখ্য, সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ডাটাবেজ তৈরী করে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার একটি পরিচিতি নম্বর( যাকে MIS নম্বর বলা হয়) প্রদান করে ওয়েব সাইটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে এবং এমআইএস নম্বর ব্যতিত কাউকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন বা উক্ত নম্বর ব্যতিত কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দাবী করতে পারবেনা বলে নির্দেশনা জারী করেছেন। অতএব গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মতে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কাউকে সম্বর্ধনা/ সন্মাননা প্রদানের পূর্বে তাঁদের এমআইএস নম্বর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এমআইএসধারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সন্মানী/ সম্বর্ধনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জ্ঞাপন করছি। একইভাষায় যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইনক-ও আলাদা বিবৃতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকষণার্থে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:২৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar