Advertisement Placeholder

ন্যায্য পারিশ্রমিক দাবিতে ধর্মঘটে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৭৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ন্যায্য পারিশ্রমিক দাবিতে ধর্মঘটে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক-কর্মচারীরা

নিউইয়র্ক টাইমস অফিসের সামনে ধর্মঘটিরা। ছবি-সংগ্রহ।

বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক-সম্পাদক-কর্মীরা বেতন-ভাতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে দর-কষাকষিতে হতাশ হবার পর বৃহস্পতিবার ধর্মঘট পালন করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরাতন এবং লাভজনক গণমাধ্যম হিসেবে টাইমসের সাংবাদিক-কর্মচারীগণের এই ধর্মঘটের সংবাদ সকলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বছরখানেকের বেশী সময় ধরেই বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা ভেঙ্গে যায় বুধবার রাতে। তারপরই শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ‘নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মচারি’রা ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন। মিডটাউন ম্যানহাটানের ব্যস্ততম স্থানে অবস্থিত পত্রিকাটির অফিসের সামনে র‌্যালি করেন ধর্মঘটিরা। সে সময় স্লোগান উঠে, ‘আমরা পত্রিকা তৈরী করি, আমরা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছি।’ বাজার দরের সাথে (নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, বাড়ি ভাড়া) সঙ্গতি রেখেই বেতন-ভাতা ঢেলে সাজানোর দাবি রয়েছে বেশ ক’বছর থেকে। মূলত: পুরনো চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর ২১‘ মার্চে।

তারপর নতুন করে বেতন কাঠামো তৈরীর প্রস্তাব নিয়ে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ ধর্মঘটিদের। র‌্যালি প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা টাইমসের পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমরা এটা ভাল করেই জানি যে, আপনারা আমাদের ওপর ভরসা রাখেন, আমরা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে আসছি।’ টাইমসের ১৪০০ সাংবাদিক-সম্পাদক-কর্মচারির সমন্বয়ে গঠিত ‘নিউইয়র্ক টাইমস গীল্ড’ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, করোনায় ক্ষত-বিক্ষত সকলেই কোন না কোনভাবে ক্ষতিপূরণ পেলেও টাইমসের কেউ তা যথাযথভাবে পাননি। সেটিও রয়েছে মূলদাবির মধ্যে। টাইমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিডিথ কপিট লেভিন বুধবার বলেন, চুক্তির অভিপ্রায়ে কোম্পানীর স্পষ্ট একটি অঙ্গিকার রয়েছে।

যেখানে টাইমসের সাংবাদিক-কর্মীগণের বেতন বৃদ্ধি, বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে যাবতীয় সুবিধাসহ কর্মপরিবেশকে সহনীয় করার ব্যাপারও থাকবে। ধর্মঘটের ঘোষণার পর বুধবার পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক (টাইমসের তিন শতাধিক সম্পাদকের নিয়ন্ত্রক) জো কান হতাশার সুরে বলেন, বেতন-ভাতা নিয়ে চলমান আন্দোলনের পথ ধরে সকলে ধর্মঘটে অবতীর্ণ হলেও পত্রিকাটি তার খ্যাতি অটুট রাখার মত প্রকাশনা অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৮১ সালে আরেকবার টাইমসের সাংবাদিক-কর্মচারিরা সাড়ে ৬ ঘন্টার ধর্মঘটে ছিলেন একই ধরনের দাবিতে। তবে এবারের ধর্মঘটের ব্যপ্তি ১২ ঘন্টা ছাড়িয়ে গেছে। টাইম কোম্পানীর নির্বাহী কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন যে, নানা পরিস্থিতি সত্বেও চলতি বছর মোট সামঞ্জস্যপূর্ণ অপারেটিং মুনাফা হতে যাচ্ছে ৩২০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৩৩০ মিলিয়ন ডলার।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার