
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মোড়ক উম্মোচনের অনুষ্ঠানে লেখকের সাথে অতিথিবৃন্দ। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-সহ বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ইত্যাদি নিয়ে বিশেষ অবদান রাখা মনীষীগণের মধ্যে ৭১ জনের জীবন-আলেখ্য’র সংকলিত গ্রন্থ ‘বঙ্গখ্যাত ৭১স মনীসী’র মোড়ক উন্মোচন করা হলো শনিবার ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে। এটির সম্পাদনা করেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন উত্তর আমেরিকা সংস্করণের সিনিয়র সাংবাদিক ও আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মো. আবুল কাশেম।
হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা উপেক্ষা করে প্রবাসের কবি, লেখক, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার প্রতিনিধিত্বকারিরা উপস্থিত হয়েছিলেন এ অনুষ্ঠানে। উল্লেখ্য, চলতি বছর ঢাকায় অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশক বেহুলা বাংলা এবং পরিবেশক রকমারি ডটকম। এ অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক ছিলো সাদেক আলী ফাউন্ডেশন ও নিউইয়র্কস্থ শেরপুর জেলা সমিতি।
শেরপুর জেলা সমিতির মামুন রাশেদের সভাপতিত্বে এবং আশরাফুল হাসান বুলবুলের উপস্থাপনায় এটি প্রকাশের নেপথ্য কাহিনী বিবৃতকালে লেখক-সাংবাদিক আবুল কাশেম বলেন যে, ২০২০ সালের শুরুর দিকে বিশ্ব কোভিড-১৯ এর কবলে পড়ে যখন নাস্তানাবুদ অবস্থা, এই নিউইয়র্কের মানুষরা কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছিল। স্থবির হয়ে পড়েছিল বিশ্বের বড় বড় শহর। নিউইয়র্কে দিনরাত সাইরেন বাজিয়ে কেবল রোগিদের জরুরি যানবাহনের ছুটে চলা।
ঘরবন্দি সময় কাটানো যখন অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছিলো ঠিক তখনই সাংবাদিক আবুল কাশেম রাজনীতিবিদ, শহীদ বুদিজীবি, সমাজসেবক, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ, কবি, মহাকবি, লেখক, গবেষক, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, জমিদার, নওয়াব, স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষ্যাবিদ, ইতিহাসবিদ, বিপ্লবী, দানবীর, চলচ্চিত্রকর, চিত্রকর ও ভাস্করদের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে তা সংগ্রহ করেন। এরপর মনীষীদের জীবনী নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করার চিন্তা তার মাথায় আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বইয়ে সকল মনীষীর জীবনী যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। দেশ ও প্রবাসের পাঠকেরা যদি আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসকে গ্রহণ করেন তাহলে আগামীতে আরো ৫২ এবং ২১ মনীষীর জীবনী সম্বলিত বই বের করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এ সংকলনে প্রথমেই ১০১ জন মনীষীর তালিকা তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু সেই অনুপাতে বই আকারে বেশি মোটা হতো। সবদিক বিবেচনা করে পরে ৭১ জন মনীষীর জীবনী প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেই। এটি আমার প্রথম প্রয়াস। বইয়ে ভুল-ক্রুটি থাকাটা খবই স্বাভাবিক। পাঠকরা যদি এমন কোন ভুল পেয়ে যান তা ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন এবং পরবর্তী সংস্করণে সংশোধনের সুযোগ দেবেন বলে আশা করছি।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক সাপ্তাহিক বাঙালীর সম্পাদক কৌশিক আহমেদ তার বক্তব্যে ‘বঙ্গখ্যাত ৭১ মনীষী’ বইয়ের নানাদিক উল্লেখ করে বলেন, বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি লেখক ও সাধকের জীবনী এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়নি। হয়তো লেখক আগামীতে তার নতুন কোন সংকলনে তা তুলে ধরবেন।
লেখক-সাংবাদিক মইনুদ্দিন নাসের দু’জন বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের জীবনী এ সংকলনে আসা জরুরি ছিল, কিন্তু এ সংকলনে লেখক তার নিজের পছন্দের মনীষীদের জীবনী নিয়ে যেহেতু সংকলনটি প্রকাশ করেছেন সেখানে আমাদের বলার কিছুই নেই। তিনি আগেই উল্লেখ করেছেন আগামীতে আরো সংকলন করবেন।
কবি ও লেখক ফকির ইলিয়াস তার বক্তব্যে প্রকাশিত গ্রন্থটির ভালো মন্দ নানা বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরেন এবং প্রকাশিত ৭১ জন মনীষীর নাম পড়ে শোনান।
কবি, লেখক এবিএম সালেহ উদ্দিন বলেন, একটি সংকলন বা বই প্রকাশ করতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রবাসে বলে এ কাজ করা একটি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বইযয়ের ভুল-ক্রুটি থাকাটা স্বাভাবিক, এসব বিষয় আলোচনা করে লেখকের মনকে দুর্বল না করে তাকে আরও উৎসাহিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
বিশিষ্টজনদের মধ্যে আলোচনায় আলো ছিলেন মূলধারার রাজনীতিবিদ মোর্শেদ আলম, সাবেক সচিব এ কেএম বদরুল মজিদ, গবেষক-বিজ্ঞানী সুদীপ্ত দেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, লেখক ও রাজনীতিবিদ শামসুদ্দিন আজাদ, প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ী মাহফুজুল হক, জেবিবিএ’র প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান টুকু, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্রবীন আইনজীবি এন মজুমদার, সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, আয়েশা বেগম ও লেখকের বড় মেয়ে শায়লা শারমিন শতাব্দী। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শহীদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিদের মধ্যে আরো ছিলেন চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাজিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মিনহাজ আহমেদ শাম্মু, আইবিটিভির সাংবাদিক হাসান মাহমুদ, লেখক ও কলামিষ্ট শিতাংশু গুহ, একাত্তর টিভির প্রতিনিধি শামীম আল আমিন, সাংবাদিক শাখাওয়াত সেলিম, নারী পত্রিকার সম্পাদক পপি চৌধুরী, সময় টিভির সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকী, সাংবাদিক পুলক মাহমুদ, দেশ পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান, বিডি ইয়র্কের সম্পাদক শাহ ফারুক, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান, লায়ন হাসান জিলানী, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, ফটো সাংবাদিক নীহার সিদ্দিকী, সাংবাদিক আনিসুর রহমান, সাংবাদিক মঞ্জুরুল হক, সাংবাদিক তপন চৌধুরী, সাংবাদিক মশিউর রহমান মজুমদার, আবাসন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাচ্চু, শো টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম, আল আমিন মসজিদের সভাপতি মোঃ জয়নুল আবেদিন, সাংস্কৃতিকর্মি গোপাল সান্যাল, মোঃ ফারুক মিয়া, রাসেল আহমদ, রানা রায়হান, ফেরদৌসী বেগম, শান্ত দত্ত, শারমিন সুলতানা লাকী, ফরহাদ হোসেন মিলন, নাহিদ রায়হান লিখন, ফাহাদ ফাহমি, সরোয়ার আলম, কন্ঠশিল্পী কৌশলী ইমা, শাহরিন সুলতানা, আমিরা ফারাহ শিমিন ও সাবেরা জামান কচি অনুষ্ঠানে ছিলেন।
দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কৌশলী ইমা ও শাহরিন সুলতানা। শিল্পীদের সাথে তবলায় সঙ্গত করেন স্বপন দত্ত।



