
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | সোমবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ৬৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ/বক্তব্য/মন্তব্যের ভয়ংকর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে। মার্কিন শিক্ষা বিভাগে নাগরিক অধিকার নিয়ে কর্মরত দফতরের বার্ষিক পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত অর্থ বছরের এ পরিসংখ্যান ৩১ ডিসেম্বর জানা যায়। এতে দেখা যায়, নানা ধরনের বৈষম্যের অভিযোগের নয়া রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে-১৯ হাজার। অর্থাৎ তা আগের অর্থ বছরের দ্বিগুণেরও বেশী। ২০১৬ অর্থ বছরে ছিল তার আগের যে কোন সময়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড-১৬ হাজার, সেই রেকর্ডও ভঙ্গ হয়েছে গত বছর। সংশ্লিষ্ট সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প আমলকেও হার মানিয়ে দিল বাইডেনের আমল।
অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেকেই ভয়হীন চিত্তে লেখাপড়া কন্টিনিউ করতে সক্ষম হচ্ছেন না। কর্মকর্তারা বলেন, সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ডিজেবল (চলতে অক্ষম) শিক্ষার্থীরা। এরপরেই রয়েছে বর্ণবিদ্বেষ এবং যৌন হামলাবিষয়ক অভিযোগ। এর ফলে শিক্ষাঙ্গনে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরসমূহে এমন নাজুক পরিস্থিতি আর কখনো শিক্ষার্থীদের দেখতে হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন নাগরিক অধিকার নিয়ে কর্মরতরা। করোনা মহামারি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পরিক্রমায় শিক্ষার্থীদের এহেন পরিস্থিতির তথ্যটি অভিভাবকের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরী করেছে।
উল্লেখ্য, করোনাকালে লেখাপড়ায় শির্ক্ষীরা অনেক পিছিয়ে পড়েছেন। মানসিক-স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকে বিচলিত। তারমধ্যে বর্ণ-ধর্ম-জাতি-গোত্র-লিঙ্গ বৈষম্য’র ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গোটা আমেরিকার শিক্ষাঙ্গণ নিয়ে সমগ্র জনগোষ্ঠি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাগরিক অধিকার বিষয়ক এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ক্যাথারিন লেহম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, ভয়ংকর এমন পরিস্থিতির যে অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়েছে, তা সর্বসমক্ষে এখনও প্রকাশ করা না হলেও প্রশাসনের কারো অজানা নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি সম্পর্কে সকলেই অবহিত রয়েছি এবং তা যথাযথভাবে হ্যান্ডেল করার কর্মকৌশল অবলম্বনের কথা ভাবছি। তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের নিবেদন হচ্ছে, তারা যেন হাল ছেড়ে না দেয়। কোনো পরিস্থিতি দেখামাত্রই যেন তারা কর্তৃপক্ষের নজরে আনে।



