Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে ‘জালালাবাদ ভবন’ নিয়ে এসব কী হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৮৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে ‘জালালাবাদ ভবন’ নিয়ে এসব কী হচ্ছে?

সর্বশেষ কার্যকরী কমিটির মাসিক সভায় নেতৃবৃন্দ। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নিজের নামে একটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ভবনকে জালালাবাদ ভবন হিসেবে উদ্বোধনের ঘটনায় উত্তর আমেরিকায় সিলেটবাসীর ঐক্যের ঐতিহ্য ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’ বিভক্ত হতে চলছে। সংগঠনের সদস্যগণের প্রত্যাশার পরিপূরক ভবন ক্রয়ের নামে সংগঠনের অর্থে নিজের নামে বাড়ি ক্রয়ের পর গত কয়েক সপ্তাহে যে ধরনের নাটক শুরু হয়েছিল, তার পরিসমাপ্তি ঘটবে কীভাবে তা এখন দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, এসোসিয়েশনের অর্থ এভাবে বেহাত হবার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ সভা ডাকার পরিকল্পনা নিয়েছিলো কার্যকরী কমিটি।

সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক হচ্ছেন সাধারণ সদস্যরা। পরবর্তীতে সেটি আহবান করা নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছিল। এমনি অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম তার কতিপয় সমর্থক নিয়ে ৮ জানুয়ারি গোটা কম্যুনিটিকে বিস্ময়ে হতবাক করে আবারো সেই ভবনে ‘জালালাবাদ ভবন’র সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে উদ্বোধনের নাটক করলেন। এ সংবাদ জেনে সংগঠনের সভাপতিসহ কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্য-কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়াস্থ সেই ভবনকে ব্যক্তি মালিকানাধীন অভিহিত করে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র ভবনের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার তারা বিবৃতি দিয়েছেন। সভাপতি বদরুল খানসহ কমিটির অধিকাংশ সদস্য এ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মইনুল (সাধারণ সম্পাদক) তার কয়েকজন অনুসারি নিয়ে করপোরেশন করে নিজের নামে বাড়ি কিনেছেন। এটি জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সম্পত্তি নয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র ভবন নয়। ভবনের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাচ্ছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক।

সভাপতি বদরুল হোসেন খান, সহ-সভাপতি মোঃ লুকমান হোসেন লুকু (সিলেট), সহ-সভাপতি মোঃ শফিউদ্দিন তালুকদার শফি (হবিগঞ্জ), সহ-সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলিম, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল আলম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হোসেন আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক মান্না মুনতাসির, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাহিদ আহমেদ খান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুতিপা চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য শামীম আহমেদ (সুনামগঞ্জ জেলা) ও দেলোয়ার হোসেন মানিক (হবিগঞ্জ) এ বিষয়ে বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নিজস্ব কোন ভবন নেই। বর্তমান কার্যকরী কমিটি, প্রাক্তন কার্যকরী কমিটি কিংবা উপদেষ্টা পরিষদ কারো দ্বারা এ ধরনের প্রক্রিয়াও গ্রহণ করা হয়নি। কতিপয় ব্যক্তি তাদের নিজস্ব নামে ক্রয়কৃত ভবনকে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভবন হিসেবে পরিচিতি দিতে প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে আমরা জ্ঞাত হয়েছি। আমরা জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর কার্যকরী কমিটি এ ধরনের হীন উদ্দেশ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ ‘এ ধরনের অযাচিত উদ্যোগ প্রবাসী বৃহত্তর সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত সুশৃংখল ও ঐতিহ্যবাহী মানবিক সংগঠনকে বিতর্কিত এবং বিশৃঙ্খল সংগঠনে পরিণত করার স্বার্থান্বেষী অপচেষ্টা বলে মনে করি। কোন অপশক্তি দুষ্টচক্র কর্তৃক বৃহত্তর সিলেটবাসীর ঐক্য- সংহতির প্রতীক, বিশ্বময় সমাদৃত এ মহতি সংগঠনের নামে অপপ্রচার থেকে সাবধানতা ও দূরত্ব বজায় রাখতে আমরা সংশ্লিষ্ঠ সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।”
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত এই ভবনের একাংশ সম্প্রতি সোনালী এক্সচেঞ্জের নিকট ভাড়া দেয়া হয়েছে। এক্সচেঞ্জের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিইও দেবশ্রী মিত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন যে, ভবনের লীজ (ভাড়া সম্পর্কিত চুক্তি) পেপার সম্পন্ন হয়েছে ব্যক্তি মইনুল ইসলামের সাথে। কারণ, তিনি হচ্ছেন এই ভবনের মালিক। ইতিপূর্বে ভবনটি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল পত্রেও দেখা যায় যে, মইনুল ইসলাম অতিসম্প্রতি একটি কর্পোরেশন ওপেন করেছেন নিজের নামে। সেটি হচ্ছে মালিক এই ভবনের। এ নিয়ে অভিযোগ উঠলে মইনুল রাতারাতি ‘জালালাবাদ ভবন’র সাইন নামিয়েছিলেন। অর্থাৎ নিজের ভুল অনুধাবনে সক্ষম হয়ে কার্যকরী কমিটির সাথে দফা-রফার চেষ্টা করেন। সকলেই ভেবেছেন যে, ভুল শোধরে মইনুল ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের সদস্যগণের প্রত্যাশার পরিপূরক পদক্ষেপ নেবেন। এমনি অবস্থায় কম্যুনিটির কিছু ‘জ্ঞানপাপী’র সংস্পর্শে বিদ্যমান রীতির পরিপন্থি অর্থাৎ পুরোপুরি বেআইনী কাজটিকেই অব্যাহত রাখার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এদিকে, সংগঠনের বোর্ড অব ট্রাস্টি শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

৭ জানুয়ারি বোর্ড অব ট্রাস্টির পক্ষ থেকে যুক্ত স্বাক্ষরের এক পত্রে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খানকে জানানো হয়েছে, ‘অবস্থাদৃষ্টে প্রতিয়মান হয়, জালালাবাদের ভবন ক্রয়-সংকান্ত সকল তথ্য বিভ্রান্তিমূলক এবং কথিত ক্রয়কৃত ভবনের সঙ্গে ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র কোন প্রকার সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের তদন্তে আরো প্রতিয়মান হয়, উল্লিখিত ভবন ক্রয়ে পূর্ববর্তী এবং বর্তমান পরিষদের কোনরুপ অনুমোদন বা সংশ্লিষ্টতা নেই বা ছিল না। আমাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জালালাবাদ ভবন ক্রয়ের নামে সংশ্লিষ্টরা স্পষ্টতই জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৬ এর ধারা ৭(ক), অনুচ্ছেদ ৯(গ) ও অনুচ্ছেদ ১৬(৬) লংঘন করেছেন। আমাদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মইনুল ইসলাম সমুদয় অর্থ অনতিবিলম্বে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের একাউন্টে জমা করার অঙ্গিকার করে সভাস্থল ত্যাগ করেন (এই সভা হয়েছিল ১৬ অক্টোবর, যেখানে মইনুল ইসলামও ছিলেন)।’ ঐ পত্রে বিওটি আরো উল্লেখ করেছে, ‘এ অবস্থায় আমরা আপনাকে পরিষদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এই পত্রে স্বাক্ষর করেছেন আজমল হোসেন কুনু, এম এম শাহীন, তোফায়েল চৌধুরী এবং এডভোকেট মো. নাসিরউদ্দিন।
এদিকে, সর্বশেষ পরিস্থিতির আলোকে ৯ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ওজনপার্কের মমোস পার্টি হলে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র কার্যকরী কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি এম ডি লোকমান হোসেন, সহ-সভাপতি সফিউদ্দিন তালুকদার, সহ-সাধারণ সম্পাধক রোকন হাকিম, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলিম, সাহিত্য সম্পাদক হোসেন আহমদ, ক্রীড়া সম্পাদক মান্না মুনতাসির, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাহিদ আহমেদ খান, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল আলম, কার্যকরী সদস্য শামীম আহমদ, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মানিক। সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহিত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে : (এক) গত ৭ অক্টোবর ২০২২ অনুষ্ঠিত সংগঠনের কার্যকরী পরিষদ ও ট্রাস্টিবোর্ডের যৌথ সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষে আলোচনা ও অবহিতকরণ।

৭ জানুয়ারী ২০২৩ সংগঠনের সভাপতি সমীপে সংগঠনের ট্রাষ্টি বোর্ডের নোটিশ বা নির্দেশনার আলোকে আলোচনা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলামকে নিজের কর্পোরেশন ‘জালালাবাদ ইউ এস এ ইনক’র নামে বাড়ি ক্রয়ে বিগত কমিটির কোষাধ্যক্ষ থাকাবস্থায় সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অগঠনতান্ত্রিক পন্থায় সংগঠনের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলনকৃত সমুদয় অর্থ (উক্ত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক) অনতিবিলম্বে সংগঠনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা ও উপরন্তু উল্লিখিত ভবনকে কার্যকরী কমিটি বা উপদেষ্টা পরিষদের অনুমতি ব্যতিরেকে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কার্যালয় বা ভবন হিসাবে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে “জালালাবাদ ইউএসএ ইনক’ কর্পোরেশনের নামে অসাংগঠনিক পন্থায় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত সমুদয় অর্থ কেন সংগঠনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়া হয়নি এবং উল্লিখিত ভবনকে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র কার্যালয় হিসেবে অপপ্রচারের জন্য কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না” মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

(দুই) সংগঠনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সোমবার। (সভার স্থান ও সময় পরে জানানো হবে)। (তিন) জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে সংগঠনের প্রাক্তন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ই জানুয়ারি সোমবার। (সভার স্থান ও সময় পরে জানানো হবে)। (চার) যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং সাড়ম্বরে আগামী একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শোক দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। (৫) যথাযোগ্য মর্যাদায় বাঙালির মহান স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ-২০২৩ , রবিবার ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে।
(৬) বিগত সময়ে বাংলাদেশে সৃষ্ট বন্যায় দুর্গতদের মাঝে ২৩০০০(তেইশ হাজার ডলার) বিতরণ উপলক্ষে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হলো। কমিটির সদস্যগণ হলেন সহ-সভাপতি শফিউদ্দিন তালুকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, কোষাধ্যক্ষ-মোহাম্মদ আলিম।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার