
প্রতিদিন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ৫৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। আমি দেবী সরস্বতীর পূজা অর্চণা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।’ বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্পদ্রায়িক সম্প্রীতির দেশ। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একত্রে বসবাস করে আসছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সংবিধানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করেছিলেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে। এখন ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’
আমরা সব ধর্মের উৎসব সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাউকে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেব না। আগামী দিনে সব ধর্মের পারস্পরিক সম্প্রীতি আরো সুদৃঢ় হবে।’ প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘শীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি থাকে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পূজা উদযাপন করবেন।’ তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে অটুট রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ করার আহ্বান জানান।
এদিকে, সাম্প্রদায়িক শক্তি যেনো কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে সব ধর্মের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। গত ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত বাণী অর্চনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান বিচারপতি বলেন, একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমরা বাঙালি। এর মধ্যে কেউ মুসলিম, কেউ হিন্দু, কেউ বৌদ্ধ, কেউ খ্রিষ্টান। আমাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত আমরা বাঙালি। এই দেশের প্রকৃতি কেমন হবে তা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নির্ধারণ হয়ে গেছে। এটা বাঙালিদের দেশ, এটা বাংলাদেশিদের দেশ। এই দেশের মানুষ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। এটা কারো করুণা নয়।
সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার গ্যারান্টি দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি কেমন হবে সেটা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ আছে। কার স্ট্যাটাস কেমন হবে সেটাও উল্লেখ আছে। আমরা কেউ মেজরিটি না আবার কেউ মাইনরিটিও না। সবাই আমরা এদেশের নাগরিক। সবার পরিচয় আমরা বাঙালি। কেউ নিজেকে মাইনরিটি কমিউনিটির লোক হিসেবে ভাববেন না। এটা কখনও ভাবার কোনো অবকাশ নেই।
তিনি দুর্নীতি, মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে সবাইকে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ব্যয় সংকোচন করে চলার আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি।



