
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কাউন্সিল অব কানাডিয়ান একাডেমির সর্বশেষ গবেষণা-পর্যবেক্ষণ-বিশ্লেষণ অনুযায়ী করোনার চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ফলে ২০২১ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বহু মানুষ অসহায় মৃত্যুর শিকার হয়েছে। বাতাস থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের কোন চিকিৎসা নেই বলে সে সময় কানাডার গোটা চিকিৎসা-ব্যবস্থাকে হরিবল অবস্থায় নিপতিত করা হয় এবং যারা চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাদেরকে এক ধরনের তামাশার শিকার হতে হয়েছে।
চিকিৎসকরা প্রতিটি রোগী নিয়ে এক ধরনের গবেষণায় লিপ্ত হয়েছিলেন, ফলে কমপক্ষে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের অপচয় ঘটেছে। চিকিৎসার সংকটে ২৮০০ মানুষ বাঁচতে পারেননি। ‘ফোল্ট লাইন’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের আলোকে সেই গবেষণা-পর্যবেক্ষণ টিমের চেয়ার আলেক্স হিমেলফার্ব বলেন, অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, ভুল তথ্য এ সময়ে বড় একটি অবলম্বনে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই গবেষণা প্যানেলের দায়িত্ব ছিল উদ্ভাবন, বিজ্ঞান এবং কানাডার অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি-প্রকৃতি নির্দ্ধারণ করা এবং তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, বিজ্ঞাণ ও চিকিৎসা-ব্যবস্থায় ভুল তথ্য কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে কানাডার জনজীবনের ওপর এবং জনস্বাস্থ্যগত নীতি গ্রহণকে কতটা থমকে দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতি মানবিকতায় কতটা আঘাত করে? এ টিমের আওতায় ছিল পাবলিক পলিসি, সায়েন্স কম্যুনিকেশন, এবং অর্থনীতি।
উদঘাটিত হয়েছে যে, উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মিথ্য তথ্য তৈরী ও ছড়ানো হয় মানবিকতাকে বিপন্ন করার অভিপ্রায়ে। চ্যাপেল হিলে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারলিনার সহযোগিতায় ১৩ সদস্যের এই গবেষক-টিম মূলত: করোনাকালিন সময়ে কানাডার চিকিৎসা-ব্যবস্থার ওপর মনোনিবেশ করেছিল। তাদের ধারণা, করোনা রোগ প্রতিরোধে সুস্পষ্ট কোন চিকিৎসা নেই বলে যে ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছিল তা যদি চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতরা বিশ্বাস না করে বিজ্ঞাণের আলোকে ন্যূনতম একটি প্রয়াস গ্রহণ করতেন (২০২১ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর) তাহলে অন্তত: এক লাখ ৯৮ হাজার মানুষ হাসপাতালে গিয়ে অবহেলার ভিকটিম হতেন না। ১৩ হাজার কানাডিয়ানকে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে হতো না। কমপক্ষে ২৮ হাজার কানাডিয়ানকে বাঁচানো সম্ভব হতো। গবেষণা প্রতিবেদনের আলোকে কানাডা পার্লামেন্টে একটি নোটিশ প্রদাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে।



