
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ১৯৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মাহবুবুর রহমান টুকু। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কালিপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারির সন্তান মাহবুবুর রহমান টুকু পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পথ বেয়ে ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য অধ্যায় পেড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং যুবলীগের নেতৃত্বে প্রশংসনীয় ভূমিকার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। বাংলাদেশের গন্ডি পেড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক সমাজেও নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে বিন্দুমাত্র দূরে সরে যাননি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পেশাগত অঙ্গনেও বিশেষ এক আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন মাহবুবুর রহমান টুকু। উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির ‘জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন’র সভাপতির হাল ধরেছেন বছরখানেক আগে। সে সূত্রে টুকু তার দলীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটাচ্ছেন মার্কিন রাজনীতিকদের মাঝেও। বেশ কটি অনুষ্ঠানে টুকু অংশ নিয়েছেন এবং সম্পর্ক গাঢ় করার চেষ্টা করছেন। টুকুর এমন কর্মকান্ড ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। সর্বশেষ তাকে নিউ আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক ক্লাবের বার্ষিক সমাবেশে ‘ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কল্যাণে অবদান রাখা’র জন্যে ‘বছরের সেরা কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্ট’র বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট হস্তান্তর করা হয়। ডেমক্র্যাটিক পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ ছিলেন এ সমাবেশে। এই সম্মান লাভের অনুভূতি প্রকাশকালে টুকু এ সংবাদদাতাকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আমার বাবা আব্দুল বারী জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। একাত্তরের রনাঙ্গনের বীর সৈনিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে দক্ষিণ বাংলায়।
তার রক্ত ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে। আমিও সেভাবেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যোগ্য উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারি নেতৃত্বের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ-এ বিষয়টি আমি ক্যাটাগরিকেলী মার্কিন বন্ধুদের অবহিত করার চেষ্টা করছি। এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে গ্রহণ করেছি। টুকু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফেরা বাংলাদেশকে আরো উন্নয়ন দিতে হলে মার্কিন বন্ধুদের সহযোগিতা দরকার। বিগতদিনের ন্যায় সহযোগিতার এ দিগন্ত প্রসারিত হবে আমরা সকলে যদি সোচ্চার থাকি। কারণ, বাংলাদেশের কল্যাণ যারা চায়না তারা নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে শেখ হাসিনার ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার। এ অবস্থায় দেশপ্রেমিক প্রতিটি প্রবাসীর দায়িত্ব হচ্ছে নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেসম্যান, সিনেটরসহ নীতি-নির্দ্ধারকদের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা।
৫ ভাই, এক বোনের মধ্যে টুকুর ছোটভাই মুজিবুর রহমান মুজিব হচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। টুকু নিজেও একসময় এ দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে এমএ (এলএলবি) করা টুকু মালয়েশিয়া এবং নেপালে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কোর্সে কম্প্যুটার প্রোগ্রামার সম্পন্ন করেছেন। প্রবাস জীবনে জীবিকার জন্যে জ্যাকসন হাইটসে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন বেশ ক’বছর ধরে। ব্যবসার সূত্রে পরিচিতি ঘটছে সমগ্র আমেরিকার সুধীজনের সাথে। সকলের কাছেই টুকুর প্রধান পরিচয় হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত কর্মী’ হিসেবে। তার ধ্যান-জ্ঞানও শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে গিয়ে প্রিয়-পরিচিতজনের সান্নিধ্যে এলাকা তথা বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান বিধায় এখন পর্যন্ত তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি।



