বৃহস্পতিবার ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চীনের সন্দেহজনক গোয়েন্দা বিমান ভূপাতিত করলো যুক্তরাষ্ট্র, জবাবের হুশিয়ারি বেইজিংয়ের

বিশ্ব ডেস্ক   |   রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট  

চীনের সন্দেহজনক গোয়েন্দা বিমান ভূপাতিত করলো যুক্তরাষ্ট্র, জবাবের হুশিয়ারি বেইজিংয়ের

গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা যাওয়া রহস্যময় চীনা বেলুনটি ৪ ফেব্রুয়ারি গুলি করে নামানো হয়েছে। মার্কিন ফাইটার জেট তাদের আঞ্চলিক জলসীমায় বেলুনটি নামিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীনা বেলুনটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাইটগুলোতে গুপ্তচরবৃত্তি করছিল।

এ লক্ষ্যে সামরিক বাহিনী অভিযান পরিচালনা করায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনার উপকূলে তিনটি বিমানবন্দর এবং আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বার্তা সংস্থা এপি’র ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ছোট বিস্ফোরণের পর বেলুনটি সমুদ্রে পড়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত সপ্তাহে দেশটির আকাশসীমায় প্রথম উপস্থিত হওয়ার পর থেকে বেলুনটি নামানোর জন্য চাপের মধ্যে ছিলেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা যাওয়া চীনা বেলুনটি একটি ওয়েদার ডিভাইস বলে দাবি চীনের। নিজের কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছে বলে ৩ ফেব্রুয়ারি বিবৃতিতে জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় প্রবেশ সম্পর্কিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ও দুঃখও প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যে বেলুনটি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি আসলে একটি ওয়েদার ডিভাইস এবং পুরোপুরি বেসামরিক একটি উপকরণ। মূলত আবহাওয়া পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেই বেলুনটি আকাশে ওড়ানো হয়েছিল।

গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আকাশে রহস্যময় ওই বেলুনটি উড়তে দেখা যায়। প্রথমে এটি আলাস্কার আকাশে দেখা গিয়েছিল, পরে কানাডা এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের আকাশে উড়তে দেখা যায় বেলুনটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মন্টনায় দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রাখা হয়। এ কারণে এই অঙ্গরাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম’ নামেও পরিচিত।

বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অনুসারে, বেলুনটির সম্ভাব্য আকার তিনটি বাসের সমান।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের দাবি, এই বেলুনটি আসলে চীনের উচ্চক্ষমতার গোয়েন্দা নজরদারি ডিভাইস। পেন্টাগন কর্মকর্তারা প্রথমে বেলুনটি গুলি করে ভূপাতিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু বেলুনটির ধ্বংসাবশেষ মাটিতে আছড়ে পড়লে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিতে পারে— আশঙ্কায় তা বাতিল করা হয়।

তবে বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) মন্টানার আকাশে বেলুনটি দেখা যাওয়ার পর জরুরি বৈঠকে বসেন পেন্টাগন কর্মকর্তারা। সেই বৈঠকে যুদ্ধ বিমান ব্যবহারের মাধ্যমে বেলুনটি ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বেলুন সংক্রান্ত জটিলতার জেরে ইতোমধ্যে বেইজিংয়ে নিজের নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা বেইজিংয়ের : যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে নিজেদের বেলুন প্রবেশের ঘটনায় ‘দুঃখ প্রকাশ’ করার পরও মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী সেই বেলুনটি ধ্বংস করায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ জানিয়েছে চীন। এই ঘটনার ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’

৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনার আটলান্টিক উপকূলে বেলুনটি ভূপাতিত করেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা। একটি এফ ২২ ফাইটার জেট থেকে ছোড়া এআইএম-৯এক্স সুপারসনিক এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস করা হয় সেটি।

এ ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দেয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, ‘আমরা আগেও বলেছি—এটা পুরোপুরি বেসামরিক একটি আকাশযান (এয়ারশিপ) এবং বাতাসের গতির কারণে নিজের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে।’

‘কিন্তু যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তার বিমানবাহিনী দিয়ে সেটি ধ্বংস করেছে— তা রীতিমতো অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির লঙ্ঘণ। আমরা তীব্র অসন্তোষ জানাচ্ছি।’

‘সেই সঙ্গে বলছি—চীন তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না এবং অবশ্যই এ ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেবে।’

এদিন দুপুরে ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকদিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় অবস্থান করা সেই বেলুনটিকে চীনের ‘গোয়েন্দা নজরদারি আকাশযান’ বলে উল্লেখ করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন।

এদিন সাউথ ক্যারোলাইনার উপকূলে বিমানবাহিনীর অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন পেন্টাগনে এক বৈঠকে বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর চীন অগ্রহণযোগ্য আঘাত করা হয়েছে এবং এখন একটি পরিকল্পিত ও আইনসঙ্গত অভিযান চালানো আমাদের কর্তব্য।’

বেলুনটি ধ্বংসের সময় মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাৎক্ষনিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম এবং তারা সফলভাবে এটি ভূপাতিত করতে পেরেছে। আমি মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলটদের অভিনন্দন জানাতে চাই।’

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:২৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar