
বিশ্ব ডেস্ক | সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ৭৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে সর্বশেষ খবর পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়াসহ দেশ দুটিতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১২শ ছাড়িয়েছে। দেশ দুটিতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত কয়েক হাজার মানুষ। তুরস্কের স্থানীয় সময় সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ৪টা ১৭ মিনিটে সংগঠিত এ ভূমিকম্পে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে তার দেশে শেষ খবর পর্যন্ত অন্তত ৯১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাড়ে ৫ হাজার মানুষ।
আর সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আপডেটের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে দেশটির আলেপ্পো, লাতাকিয়া, হামা ও তারতুস প্রদেশে অন্তত ৩৮৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয় শতাধিক। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আপডেটে জানানো হয়েছে।
সিরিয়ার আতমেহ নামক একটি শহরের চিকিৎসক মুহিব কাদ্দুর টেলিফোনে বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, এই শহরে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আরও অনেককে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি মৃতের সংখ্যা শতাধিক। আমরা অনেক চাপের মধ্যে আছি।
সীমান্তের উভয় পাশের একাধিক শহরে বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নীচে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে নেমেছেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও বাসিন্দারা। তুরস্কের দিকে এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় শহর রয়েছে। এসব এলাকায় লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান টুইটারে বলেছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। আশা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কম ক্ষতিসহ এই দুর্যোগটি একসাথে কাটিয়ে উঠব।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়লু ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রবেশ না করার জন্য বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা আমাদের প্রথম কাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এক বিবৃতি অনুযায়ী, পর পর দু’টি ভূমিকম্প হয়েছে তুরস্কে। প্রথমটি হয়েছে ভোর ৪ টা ১৭ মিনিটে এবং সেটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮; দ্বিতীয়টি ঘটে তার ১৫ মিনিট পর। সেটি মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খারমানমারাসের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্প দু’টির উৎপত্তিস্থল। তুরস্ক ছাড়াও সিরিয়া, লেবানন ও সাইপ্রাসে কম্পন অনুভূত হয়েছে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি।
পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গাজিয়ানতেপ তুরস্কের অন্যতম শিল্পোৎপাদন কেন্দ্র নামে পরিচিত। এই শহরটি ও তার আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় তুরস্কের অন্যতম জনবসতিপূর্ণ শহর এই গাজিয়ানতেপ। সিরিয়ার সীমান্তবর্তী হওয়ায় গাজিয়ানতেপে অনেক সিরীয় শরণার্থীও আছেন।
গাজিয়ানতেপ সীমান্তের অপর প্রান্তে সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশ। সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের সংবাদে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রদেশের অধিকাংশ ভবন ধসে পড়েছে। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হতাহতের আশঙ্কা আছে আলেপ্পোতেও।



