শুক্রবার ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিভে গেল সাহসী কন্ঠ : আকবর আলি খান

প্রতিদিন ডেস্ক   |   শুক্রবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট  

নিভে গেল সাহসী কন্ঠ : আকবর আলি খান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান (৭৮) চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বাসা থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। নিজের অবস্থা থেকে সাহসী উচ্চারণে স্পষ্টবাদী বক্তব্যের জন্য সমাদৃত ছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে কথা বলে গেছেন। বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী আকবর আলি খান একাধারে ছিলেন অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও ইতিহাসবিদ। তাকে কোনো একটি পরিচয়ে সীমিত রাখা কঠিন। তাঁর লেখা বইগুলো পাঠকের জন্য অমূল্য সম্পদ।

স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত আকবর আলি খান কর্মজীবনে ছিলেন বিচক্ষণ ও সাহসী। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টা আকবর আলি খান বাংলাদেশের একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক ছিলেন। ইতিহাস, সমাজ বা অর্থনীতি—তার যেকোনো চর্চার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশ। নানা জনমতে বিভক্ত বাংলাদেশের জনমুখী উন্নয়নের জন্য তিনি সব সময় সজাগ ছিলেন। তার মধ্যে সব সময় একটা জনস্বার্থ ও কল্যাণমুখী চেতনা কাজ করতো।
আকবর আলি খানের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তাঁর ভাই কবির উদ্দিন খান। তিনি বলেন, বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আকবর আলি খান। তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আকবর আলি খানের স্ত্রী কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর একমাত্র মেয়েও মারা গেছেন।

আকবর আলি খান ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে একই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। আকবর আলি খান চৌকস আমলা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অবসর নিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব হিসেবে। অবসরের পর দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
আকবর আলি খান ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। পরে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কায় তিনজন উপদেষ্টার সঙ্গে তিনিও একযোগে পদত্যাগ করেন। আকবর আলি খান রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।

আকবর আলি খান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন হবিগঞ্জ মহুকুমার প্রশাসক (এসডিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় তিনি সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজও করেন। এতে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান সরকারের আদালত মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই তাঁকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন।

বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদসচিব হিসেবে অবসরের পর আকবর আলি খান লেখালেখিতেই পূর্ণ মনোযোগ দেন। অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা, সাহিত্য বিচিত্র বিষয়ে তাঁর গবেষণামূলক বই পাঠকপ্রিয় হয়েছে। আকবর আলি খানের সর্বশেষ আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘পুরানো সেই দিনের কথা’।

আকবর আলি খানের মৃত্যুতে বিশিষ্ট অর্থনীতি ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘শ্রদ্ধাভাজন ডক্টর আকবর আলি খানের মৃত্যুতে গভীর শোক জানাই। তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি বাংলাদেশের সুধীসমাজকে অনেক সমৃদ্ধ করেছিল। ’ ড. আকবর আলি খানের জানাজা বাদ জুমা গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। আকবর আলী খানের ছোট ভাই কবির উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:১৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar