
প্রতিদিন ডেস্ক | শনিবার, ১১ জুন ২০২২ | প্রিন্ট | ১৪০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাংলাদশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্লক ধরা পড়ায় সেখানে রিং পরানো হয়েছে। শনিবার (১১ জুন) দুপুরে জরুরিভিত্তিতে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। এরপরই ব্লক ধরা পরায় ত্বরিত সেখানে রিং পরানো হয় বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে। তার হার্টে বেশ কয়েকটি ব্লক ধরা পড়েছে। তার মধ্যে একটি ব্লক ছিল ৯৫ শতাংশ। সেটিতে রিং পরানো হয়েছে।
১০ জুন দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় এদিনই রাত ৩টা ২০ মিনিটে বেগম জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয় বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, শুক্রবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে নেওয়া হয়। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন তার সঙ্গে ছিলেন। ৩টা ২০ মিনিটে ম্যাডামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, চিকিৎসকরা তার এনজিওগ্রাম করেন। এতে তার হার্টে ব্লক ধরা পড়ে। তখন চিকিৎসকরা সফলভাবে সেখানে রিং বসান। চিকিৎসকরা আশা করছেন, তিনি হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
শনিবার (১১ জুন) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার বর্তমান এ অবস্থার কথা জানার মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল (১০ জুন) রাতে তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তি করার পর উনার আরেকটি উপসর্গ দেখা দেয়। উনার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘হৃদরোগ-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেওয়ায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চেয়ারপারসনের অসুস্থতার কারণে আজ (১১ জুন) বেলা ১১টায় থাকা জিয়াউর রহমানের মাজারে যুবদলের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রোগ্রাম স্থগিত করা হলো।’
সম্প্রতি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত এক চিকিৎসক বলেছিলেন, এখন ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। দেখার বিষয় হচ্ছে, এই ভালো কতদিন থাকে। কারণ ওনার তো অনেক রোগ। একটার সঙ্গে আরেকটার যোগসূত্র রয়েছে। ফলে কোনো একটা রোগ যদি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তখন বাকিগুলো খারাপ হয়ে যাবে। তবে আশার কথা হচ্ছে ওনার লিভার সিরোসিসের যে সমস্যা সেটা এখন ভালো আছে।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর করোনার মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে থেকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর একাধিকবার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আছেন। এ সময়ের মধ্যে তিন দফায় প্রায় ৬ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি ফুসফুস জটিলতা, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যা, লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে ভুগছেন।



