সোমবার ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে ভানুমতির খেল : পর্নো-তারকা বনাম ট্রাম্প

মোস্তফা সারওয়ার   |   সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট  

যুক্তরাষ্ট্রে ভানুমতির খেল : পর্নো-তারকা বনাম ট্রাম্প

পর্নো-তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় ট্রাম্প গ্রেফতার হয়েছিলেন ৪ এপ্রিল, ২০২৩ সালে। নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজের ১৬ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের আইনজীবী টড ব্লন্স মামলাটি ম্যানহাটনের ক্রিমিন্যাল কোর্ট থেকে ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টে স্থানান্তরিত করার জন্য আর্জি পেশ করেছেন। উদ্দেশ্য হলো সাজা হলেও ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবারও নির্বাচিত হন ২০২৪ সালে, তাহলে তিনি নিজেকে নিজে ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারবেন। স্টেট ও কাউন্টি কোর্টে প্রদত্ত সাজা ক্ষমা করার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।

পুরো ঘটনাটি খোলাসা করে বলতে হলে শুরু করতে হবে ২০১৬ সাল থেকে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের নামজাদা পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এক চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এর মাত্র কয়েক মাস আগে জুলাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে মনোনীত হয়েছিলেন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। রক্ষণশীল এবং রিপাবলিকান দলের পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে স্টর্মি ড্যানিয়েলস নামে এক পর্নোস্টারকে মুখবন্ধ রাখার জন্য প্রদত্ত ঘুষ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। ঘুষের পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক মাসের একটু বেশি সময় বাকি আছে। অনেকেই ভেবেছিল, এই বোমা ফাটানো খবরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় অবধারিত; কিন্তু বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী কাজে লাগেনি! নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হলেন ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্ব›দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে।

এই যৌন কেলেঙ্কারির নায়িকার আসল নাম হলো স্টেফেনি এ. গ্রেগরি ক্লিফোর্ড। পর্নোতারকা হিসেবে তার পরিচয় স্টর্মি ড্যানিয়েলস নামে। তার জন্ম ১৯৭৯ সালের ১৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা স্টেটের রাজধানী শহর ব্যাটন রুজে। আমার বর্তমান নিবাস থেকে আনুমানিক পঞ্চান্ন মাইল দূরে। তিনি পর্নোচলচ্চিত্রের নায়িকা, পরিচালক এবং সাবেক স্ট্রিপার বা এক্সটিক ড্যান্সার। তিনি তার পেশাজীবনে অনেক পুরস্কার ও শিরোপা পেয়েছেন। স্টর্মির জন্মের চার বছর যেতে-না-যেতেই তার মা-বাবার বিয়ে ভেঙে যায়। তিনি মায়ের কাছে শিশুকাল কাটিয়েছেন দারিদ্র্যতার কশাঘাতে। এমন দিনও গেছে যখন ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলেনি। দারিদ্র্যতার মাঝেও স্টর্মি লেখাপড়া শেষ করেছেন ১৯৯৭ সালে ব্যাটন রুজের স্কটল্যান্ডভিল ম্যাগনেট হাইস্কুলে। ইচ্ছে ছিল সাংবাদিকতার পেশা বেছে নেবেন, কিন্তু তা আর হয়নি। মাত্র সতেরো বছর বয়সে অর্থ উপার্জনের জন্য স্ট্রিপারের পেশা গ্রহণ করলেন। পরে পর্নো চলচ্চিত্রের নায়িকা ও পরিচালক হিসেবে স্থান করে নিলেন।

স্টর্মি ড্যানিয়েলসের ভাষ্য অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে নেভাডার টাহোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সেঞ্চুুরি সেলেব্রিটি গলফ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায়। সেখানে ট্রাম্প এ-লিস্ট গলফ খেলার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল আমেরিকান ফুটবলের কোয়ার্টার ব্যাক বেন রোথলিসবার্গার (Ben Roethlisberger) এবং ড্রু ব্রিস মতো সেলেব্রিটি খেলোয়াড়দের সঙ্গে। অপর পক্ষে প্রাপ্ত বয়স্কদের কোম্পানি উইকেড পিকচারসের পক্ষ থেকে উপহার দিচ্ছিলেন এবং স্বাগত জানাচ্ছিলেন সাতাশ বছর বয়স্ক স্টর্মি ড্যানিয়েলস। এরই মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এক্স-রেইটেড চলচ্চিত্রে। ট্রাম্প তার পেশা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন কি না সঠিকভাবে বলা যাবে না। তবে দিব্যি দিয়ে বলা যাবে না যে, ট্রাম্প স্টর্মির বিষয়ে পুরোপুরি অজ্ঞ ছিলেন।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিন স্টর্মির সঙ্গে ট্রাম্পের দেখা হয়। ট্রাম্প স্টর্মির সঙ্গে রাত কাটাবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং ওই রাতেই ট্রাম্পের সঙ্গে স্টর্মির যৌনমিলন ঘটে, এটা স্টর্মির বক্তব্য। স্টর্মি আরও বলেছেন, যৌন মিলন হয়েছিল পরস্পরের সম্মতিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এটাকে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, স্টর্মি ড্যানিয়েলস নামে কাউকে তিনি চেনেন না। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্প ও স্টর্মির যুগল ছবি ছাপা হয়েছে ওই হোটেল চত্বরের। এই ঘটনার সময়ে ট্রাম্পের বয়স ছিল ষাট আর স্টর্মির সাতাশ। ট্রাম্প ছিলেন এনবিসির দ্য অ্যাপ্রেনটিস শোর জনপ্রিয় তারকা। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, এই ঘটনার প্রায় চার মাস আগে ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী মেলানিয়ার গর্ভে জন্ম হয়েছিল ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান ব্যারোন ট্রাম্পের। স্টর্মি এই ঘটনাটির বর্ণনা দিয়েছেন ইন টাচ ম্যাগাজিনে ২০১১ সালে এবং সিবিএস নিউজ শো সিক্সটি মিনিটে ২০১৮ সালে।

স্টর্মির দাবি, উপরোক্ত যৌন মিলনের এক বছর পর ২০০৭ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে স্টর্মির দেখা হয় লস অ্যাঞ্জেলসে বেভারলি হিলস হোটেলে। চার ঘণ্টা সময় কাটে ট্রাম্পের সঙ্গে তার হোটেল পেন্ট হাউসে। আলোচনা হচ্ছিল ট্রাম্পের সেলেব্রিটি অ্যাপ্রেনটিস শোতে স্টর্মির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে। স্টর্মি বলেছেন, আগস্ট মাসে ট্রাম্প ফোন করে তাকে জানিয়ে দেন ওই শোতে স্টর্মির অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।
কয়েক বছর কেটে গেছে মোটামুটি নীরবতায়। ২০১১ সাল। ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশের প্রচেষ্টা শুরু করলেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস। মে মাসে যোগাযোগ হলো (In Touch Magazine)-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নেওয়া হলো এবং ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য স্টর্মি রাজি হয়েছিলেন; কিন্তু সাক্ষাৎকারটি ছাপা হলো না। স্টর্মির অভিযোগ, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কৌঁসুলি মাইকেল কোহেন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছিলেন। এই হুমকির ঘটনাটি ২০১৮ সালে ফাঁস করেছিল সিবিএস নিউজ শো সিক্সটি মিনিট। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন এন্ডারসন কুপার।

স্টর্মির বর্ণনা অনুযায়ী ওই সাক্ষাৎকারের পরপরই ঘটেছিল আরও একটি লোমহর্ষক ঘটনা। লাস ভেগাসের একটি ফিটনেস ক্লাবের পার্কি লটে ফিটনেস ক্লাসে যোগদানের জন্য তিনি গাড়ি থেকে তার শিশুকন্যাকে নামাবার আগে ডাইপার ব্যাগসহ আরও কিছু জিনিস সংগ্রহ করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ এক অপরিচিত আগন্তুকের আবির্ভাব ঘটল। আগন্তুক হুমকি দিলÑট্রাম্পকে ছেড়ে দিন। ট্রাম্পকে নিয়ে কাহিনিটি ভুলে যান। আপনার মেয়েটি সুন্দর। এটা খুব দুঃখজনক হবে যদি এই মেয়েটি তার মাকে হারায়।

২০১৫ সালের ১৬ জুন নিউ ইয়র্ক শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন, যার প্রথম পদক্ষেপ হলো রিপাবলিকান প্রাইমারিতে বিজয় অর্জন। তাই ওই দিনই তিনি আইয়োয়া স্টেটের ডি ময় শহরে তার সমর্থকদের রাজনৈতিক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। আইয়োয়া স্টেট হলো প্রাইমারি নির্বাচনের প্রথম ককাস স্টেট।

পরের বছর ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাদের মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল। অক্টোবর মাসে স্টর্মি ড্যানিয়েলস ও তার কৌঁসুলি কিথ ডেভিডসন ট্যাবলয়েড ম্যাগাজিন দি ন্যাশনাল ইনকোয়েরারকে জানাল, ট্রাম্পের সঙ্গে স্টর্মির সম্পর্কের ব্যাপারে আদ্যোপান্ত জানান দেবে। দি ন্যাশনাল ইনকোয়েরার-এর প্রকাশক এবং ম্যাগাজিনটির মালিক কোম্পানি আমেরিকান মিডিয়া ইঙ্ক-এর সিইও ডেভিড পেকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরীক্ষিত বন্ধু। স্টর্মি ড্যানিয়েলস ও তার কৌঁসুলির যোগাযোগের পরপরই ডেভিড পেকার ফোন করেছিলেন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কৌঁসুলি মাইকেল কোহেনকে। ডেভিড পেকার মাইকেল কোহেনকে স্টর্মির পরিকল্পনাটি ফাঁস করে দিলেন। ট্রাম্পের জন্য যেন আকাশ থেকে নেমে এলো সাহায্যের হাত।

২০১৬ সালের নির্বাচনের মাত্র তিন মাস বাকি। ট্রাম্প ও তাঁর ক্যাম্পেইন কমিটি প্রমাদ গুনলেন। এদিকে ভোটারদের জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রার্থী হিলারী ক্লিনটনের তুলনায় পিছিয়ে আছেন। এর উপর পর্নোস্টারের সঙ্গে যৌন-কেলেঙ্কারির আদি রসাত্মক কাহিনি। রক্ষণশীল, ধর্মপ্রাণ, নিরপেক্ষ ও নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। হাতে সময় খুবই কম। সিদ্ধান্ত হলো স্টর্মির মুখ বন্ধ করতে হবে যে-করেই হোক। ট্রাম্প ভাবলেন, কাকে এই জটিল কাজের দায়িত্ব দেওয়া যায়। দায়িত্ব দেওয়া হলো তাঁর ব্যক্তিগত কৌঁসুলি মাইকেল কোহেনকে।

যুক্তরাষ্ট্রে মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে ‘ক্যাচ অ্যান্ড কিল অপারেশন’ নামে একটি গুপ্ত প্রক্রিয়া চালু আছে। সংবাদমাধ্যম অনেক অর্থ খরচ করে চাঞ্চল্যকর কাহিনির একচ্ছত্র স্বত্ব কিনে নেয়। কেলেঙ্কারির নায়ক যদি সংবাদমাধ্যম-এর দোস্তী কেউ হয়, তাহলে কাহিনিটি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়। স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনিটির করুণ পরিণতি ঘটল তখন। একচ্ছত্র স্বত্ব কেনার দলিলে যুক্ত করা হয়েছিল আরও একটি ধারা। সেই ধারা অনুযায়ী স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনিটি চিরজীবন গোপন রাখতে হবে। তাকে নিশ্চয়তা দিতে হবে যেন এই কাহিনি কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ না পায়। এটাকে বলা হয় ‘অ-প্রকাশ চুক্তি’ (Non Disclosure Agreement)। একচ্ছত্র স্বত্ব ও অ-প্রকাশ চুক্তিতে রাজি হয়ে দস্তখত করার জন্য স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে প্রদান করা হলো- ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এ ধরনের প্রদত্ত অর্থকে বলা হয় ‘হাশ মানি’। অর্থদাতা হিসেবে দস্তখত করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কৌঁসুলি মাইকেল কোহেন। কোহেন তার বাড়ি বন্ধক রেখে অর্থাৎ হোম ইকুইটি লাইন ক্রেডিট-এ ধার-করা ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে প্রদান করে।

এই অর্থ কীভাবে প্রদান করা হলো? বিশ্ববিখ্যাত খবরের কাগজ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর ঊংংবহঃরধষ ঈড়হংঁষঃধহঃং খখঈ নামে একটি কোম্পানি ডেলওয়ার স্টেটে নিবন্ধন করা হয়েছিল। এটি ছিল একটি শেল কোম্পানি। সাধারণত শেল কোম্পানি গঠন করা হয় বেআইনি কাজের জন্য। পরবর্তী সময়ে মাইকেল কোহেনের তিন বছর কারাদÐের অন্যতম কারণ ছিল এই শেল কোম্পানিটি। হোম ইকুইটি লাইন ক্রেডিটে ধার-করা ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মাইকেল কোহেন এই শেল কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছিল। কোম্পানি গঠনের মাত্র ৯ দিন পরে ২৬ অক্টোবর মাইকেল কোহেন এই শেল কোম্পানির নামে ওয়ার ট্রান্সফার করে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। যে ব্যাংকের মাধ্যমে এটা করা হয়েছিল সেটার নাম হলো ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাংক। প্রাপক ছিল স্টর্মি ড্যানিয়েলসের কৌঁসুলি। লেনদেনকারী ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাংক এই লেনদেনকে সন্দেহজনক মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল।

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে বিজয় লাভ করেন। পরের বছর জানুয়ারি মাসে মাইকেল কোহেন স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধের খরচ বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বিল পাঠিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। যৌন-কেলেঙ্কারির হাশ মানি গোপন রাখার জন্য ভুয়া ইনভয়েস দাখিল করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিন আগে নিজের দস্তখত করা চেক দিয়ে মাইকেল কোহেনের বিল পরিশোধ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রায় এক বছর কেটে গেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহচরেরা হয়তো ভেবেছিলেন কেল্লা ফতে। স্টর্মি ড্যানিয়েলস ও ট্রাম্পের যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনি চিরতরে বিস্মৃতির অন্তরালে ঢাকা পড়ে গেছে। ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি যৌন কেলেঙ্কারি গোপনের ‘হাশ মানি’ লেনদেনের খবর প্রকাশ করে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক রক্ষণশীল দৈনিক পত্রিকা ‘দি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। এই খবরটির অর্থমূল্য প্রচুর। পুঁজিবাদী সমাজে ডলার হলো ঈশ্বরতুল্য। ডলারের বিপক্ষে দলীয় আনুগত্য অনেকটা তুচ্ছ। তাই পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্রে অনেক চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে থাকে। ৫ এপ্রিল স্বভাবসুলভ মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাশ মানি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি জ্ঞাত নন-এমনটা জানালেন। অথচ চেকে রয়েছে তার নিজেরই স্বাক্ষর। ২ মে ট্রাম্পের আর এক কৌঁসুলি রুডি জুলিয়ানি বলেন, হাশ মানি দেওয়ার ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্ঞাত।
ট্রাম্প-স্টর্মি জীবন্ত সোপ অপেরার আরও চমকপ্রদ উপাখ্যানের অপেক্ষায় রইল বিশ্ববাসী।

২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কৌঁসুলি মাইকেল কোহেনের তিন বছর কারাদÐের রায় ঘোষণা করা হল। এখানে প্রমাণিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক খুঁটি খুবই মজবুত। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কৌঁসুলিকেও জেলে যেতে হয় প্রেসিডেন্টের ‘হাশ মানি’ দেওয়ার জন্য। ফেডারেল কারাগারে মাইকেল কোহেনের কারাবাস শুরু হলো ২০১৯ সালের ৬ মে।

ঘটনার নাটকীয় পরিবর্তন হল ১ আগস্ট ২০১৯ সালে। নিউ ইয়র্কের অন্তর্গত ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটোর্নির অফিস ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে তলবনামা পাঠাল। তলবনামা অনুযায়ী স্টর্মি ড্যানিয়েলস ও ক্যারেন ম্যাকডুগালকে ‘হাশ মানি’ প্রদান বিষয়ক সব নথিপত্র ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটোর্নির অফিসে জমা দিতে হবে। ২০১১ সাল থেকে সেই পর্যন্ত ট্রাম্পের সব আয়কর দায়েরের কাগজপত্র জমা দেওয়ার তলবনামা জারি করল ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটোর্নির অফিস ১৭ সেপ্টেম্বর। এই নোটিসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন ট্রাম্প। ব্যবহার করেছিলেন প্রেসিডেন্টশিয়াল নিরাপত্তাজনিত রেহাই (Presidential Immunity); কিন্তু ফল হয়নি। ২০২০ সালের ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৭-২ ভোটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাধ্য করে সব নথিপত্র জমা দিতে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ৯ জন বিচারকের মধ্যে ৬ জনই নিয়োগ পেয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের দ্বারা। তিনজনকে ট্রাম্প নিজেই নিয়োগ দিয়েছিলেন। এখানে আবারও প্রমাণিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে আইনের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দারুণ মজবুত। অন্য দেশ হলে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হতো খুবই বিরল ঘটনা।

ইতোমধ্যে ২২ নভেম্বর ২০২১ সালে ৬ মাসের অধিক ফেডারেল কারাগারে জেল খাটার পর মাইকেল কোহেনকে স্থানান্তর করা হল গৃহবন্দি হিসেবে। সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছিল। প্রায় এক বছর পর ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস! চার মাস যেতে না যেতেই ২০২৩ সালের ৯ মার্চ গোটা বিশ্বকে চমক দিয়ে ম্যানহাটানের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটোর্নির অফিস ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানাল। মজার ব্যাপার হলো, গ্রান্ড জুরি গঠন করা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বারা স্টর্মি ড্যানিয়েলস ও ক্যারেন ম্যাকডুগালকে ‘হাশ মানি’ প্রদান বিষয়ক আইনগত তদন্ত সম্পাদনের নিমিত্তে। তিন দিনের মাথায় ট্রাম্পের কৌঁসুলি জানিয়ে দিল যে, ট্রাম্প সাক্ষ্য দেবেন না। কিন্তু তার সাবেক কৌঁসুলি গৃহবন্দি মাইকেল কোহেন সাক্ষ্য দিল দুইবার। দ্বিতীয় বার সাক্ষ্য দিল তিন ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়ে। তাহলে মাইকেল কোহেন কি রাজসাক্ষী হয়ে গেল? তার সব ব্যাপারেই আদ্যোপান্ত জানা। মাইকেল কোহেন ট্রাম্পের বিশ্বাসভাজন এবং ট্রাম্পের ডার্টি লন্ড্রির তদারক। দ্বিতীয়বার সাক্ষ্যের তারিখ ছিল ১৫ মার্চ। ট্রাম্প হয়তো টের পেয়ে গেলেন বিচারব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার দিন শেষ হয়ে আসছে। তিন দিনের মাথায় ১৮ মার্চ ২০২৩ সালে সামাজিকমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন তাঁকে অচিরেই গ্রেফতার করা হবে এবং তিনি সমর্থকদের প্রতিবাদের আহ্বান জানালেন।

৩০ মার্চ গ্রান্ড জুরির সদস্যরা সর্বসম্মত ভোটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমর্থন করেন। ফৌজদারি অপরাধ বিচারের জন্য সিলমোহর করা অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টে। ৩ এপ্রিল ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব জেট প্লেনে মায়ামির কাছে অবস্থিত পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে উড়ে আসেন নিউ ইয়র্কের লাগুরডিয়া বিমান বন্দরে। সেখান থেকে তার মোটরগাড়ির শোভাযাত্রা (গড়ঃড়ৎপধফব) তাকে নিয়ে আসে ট্রাম্প টাওয়ারের পেন্ট হাউসে। সবসময় সঙ্গে ছিল ফেডারেল সরকার প্রদত্ত সাবেক প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তারক্ষীরা। প্রধান বিচারপতি হুয়ান মার্চান কোর্টকক্ষে টেলিভিশন ক্যামেরা নিষিদ্ধ করেছিলেন। স্থিরচিত্র তোলার জন্য শুধু পাঁচজন ক্যামেরাম্যানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কোর্টকক্ষে। নিরাপত্তার জন্য পুরো শহরে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

৪ এপ্রিল ট্রাম্প নিজেই প্রবেশ করেছিলেন ম্যানহাটনের ক্রিমিন্যাল কোর্টে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পকে পুলিশের হেফাজতে সোপর্দ করা হয়। অর্থাৎ ট্রাম্পকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর তাকে আসামি তালিকাভুক্ত (ইড়ড়শবফ) করে তার আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। তাকে হাতকড়া পরানো হয়নি অথবা মুখের ছবি (গঁম ঝযড়ঃ) নেওয়া হয়নি। গ্রেফতারের এক ঘণ্টা পরে তাঁকে হাজির করা হয় (অৎৎধরমহবফ) নিউ ইয়র্ক স্টেটের সুপ্রিম কোর্টের ভারপাপ্ত প্রধান বিচারপতি হুয়ান মার্চান-এর এজলাসে। চৌত্রিশটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ (ঋবষড়হু ঈযধৎমব)-এর বিপক্ষে ট্রাম্প নিজকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। সিলমোহর করা চৌত্রিশটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগগুলো জনসমক্ষে জানান দেওয়া হয়। ট্রাম্পের উপস্থিতিতে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ৪ ডিসেম্বর। মামলার রায় হতে এক বছরের বেশি লেগে যেতে পারে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে প্রতিটি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ জেল হতে পারে চার বছর। সব অপরাধের শাস্তি ভোগ করা লাগতে পারে ধারাবাহিকভাবে।

এতকিছু বর্ণনার পর প্রশ্ন হলো-ট্রাম্পের গ্রেফতারের মূল কারণ কি তাঁর যৌন কেলেঙ্কারি? ভক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য গলফ টুর্নামেন্টে ট্রাম্প চার মহিলার সঙ্গে যৌন প্রমোদে সময় কাটিয়েছিলেন। কিন্তু তার গ্রেফতার ও মামলার মূল কারণ যৌন কেলেঙ্কারি নয়। পরস্পরের সম্মতিতে প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ যৌন কাজ করলে তা আইনত বিচারযোগ্য নয়। চৌত্রিশটি গুরুতর অপরাধের মোদ্দা কারণ হলো দুটি। একটি হলো ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশে ব্যবসাজনিত কাগজপত্রে ভুল খরচ নথিবদ্ধ করা। অন্যটি হলো ‘হাশ মানি’ দিয়ে তথ্য গোপন করা-যাতে ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। আলোচ্য মামলায় ব্যবসাজনিত কাগজপত্রে ভুল খরচ নথিবদ্ধ করা হয়েছিল ‘হাশ মানি’ দেওয়ার তথ্য গোপন করার জন্য। তথ্য গোপন করার জন্য ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল। একটি অপরাধ ঘটানো হয়েছে অন্য একটি অপরাধ করার জন্য। সেই কারণে মামলাগুলোকে গুরুতর অপরাধ (ঋবষড়হু) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন গ্রেফতার হয়েছিলেন গৃহযুদ্ধের মহান বীর জেনারেল ইউলিসিস এস গ্রান্ট। ১৮৭২ সালে তিনি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় তার নিজের ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছিলেন গতিসীমা লঙ্ঘন করে। উইলিয়াম ওয়েস্ট নামে এক আফ্রো-আমেরিকান পুলিশ অফিসার প্রেসিডেন্টকে থামালেন ট্রাফিক নিয়ম না-মানার জন্যে। পুলিশ অফিসার ওয়েস্ট প্রেসিডেন্টকে চিনতে পেরেছিলেন। প্রেসিডেন্ট গ্রান্ট আশ্বাস দিলেন এটা আর কখনো ঘটবে না। পুলিশ অফিসার প্রেসিডেন্টকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন প্রেসিডেন্ট গ্রান্ট আবারও তার শখের ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে গতিসীমার নিয়ম ভঙ্গ করলেন। এবার পুলিশ অফিসার প্রেসিডেন্ট গ্রান্টকে গ্রেফতার করে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেলেন। গ্রান্ট ক্ষমা চাইলেন। আফ্রো-আমেরিকান পুলিশ অফিসারকে তাঁর দায়িত্বশীলতার ও নিয়মানুবর্তিতার প্রশংসা করলেন। প্রেসিডেন্ট বলে অফিসার ওয়েস্টের কাছে পার পেলেন না। তাই তার প্রশংসা। ২০ ডলার জামিনের অর্থ প্রদান করে প্রেসিডেন্ট ছাড়া পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে ট্রাফিক কোর্টে হাজিরা দিতে পারেননি। অতএব, ২০ ডলার গচ্চা গেল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন প্রথম প্রেসিডেন্ট অথবা সাবেক প্রেসিডেন্ট-যার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনিই প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট-যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিচারে তাঁর জেল হতে পারে অথবা খালাস পেতে পারেন। প্রশ্ন হলো-তিনি কি নির্বাচন করতে পারবেন যদি তার জেল হয়? যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নিয়মগুলো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। গুরুতর অপরাধ (ঋবষড়হু)-এ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি অনেক স্টেটে ভোট দিতে পারবে না, কিন্তু প্রেসিডেন্টসহ সকল পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারবে। এর কারণ হলো-জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে নির্বাচিত করা হবে। আদালতের রায় সেখানে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। রাষ্ট্র পরিচালনার তিনটি অঙ্গ-শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও বিধানিক বিভাগ। একটি অন্যটির দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার তিনটি শর্ত। প্রাকৃতিক জন্মলব্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিত্ব, ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স এবং ন্যূনতম টানা ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস। ১৯২০ সালে ইউজিন ভি ডেবস নামে এক সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন তিনি গুপ্তচর আইনে ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অ্যাটলান্টার কারাগারে বন্দি ছিলেন।

অতএব, ট্রাম্পের সাজা হলেও তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ড. মোস্তফা সারওয়ার: এমেরিটাস অধ্যাপক এবং সাবেক উপ-উপাচার্য ও ডিরেক্টটর অব ইউনিভার্সিটি অনার্স প্রোগ্রাম – ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিয়েন্স; সাবেক ডীন এবং ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রভোস্ট – ডেলগাডো কমিউনিটি কলেজ; এবং সাবেক কমিশনার-রিজিওনাল ট্রানজিট অথরিটি অব নিউ অরলিয়েন্স।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৩৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar