সোমবার ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশেষ প্রতিবেদন : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার ও একটি অনুসন্ধান

ফকির ইলিয়াস   |   রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট  

বিশেষ প্রতিবেদন : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার ও একটি অনুসন্ধান

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের একটি নব্য রাজাকারচক্র না না রকমের মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ প্রচার শুরু করেছে। কয়েকমাস আগে সিলেট থেকে সপরিবারে ভিজিট ভিসায় নিউইয়র্কে আসা এক তথাকথিত সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্মানিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা কাহিনি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তাকে মদদ দিচ্ছে, নিউইয়র্ক থেকে প্রচারিত একটি আইপি টিভির মালিকপক্ষ।

বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে একটি টিভির সিলেট প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই অপসাংবাদিক, নিউইয়র্কে অবির্ভূত হয়েছে এক দানবরূপে। সে বিভিন্ন ব্যক্তিকে না না ভাবে ব্ল্যাকমেইল করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।তাকে শেল্টার দিচ্ছে, বাংলাদেশে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন চিহ্নিত আলবদরের পরিবারের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত সেই আইপি টিভি।
সদ্য এই দানব-সাংবাদিকের অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সে তার সামাজিক যোগাযোগ একাউন্টে একটি বহুতল ভবনের ছবি দিয়ে বলে যে, এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মালিকানায় নির্মাণাধীন ভবন!

নিউইয়র্কের এস্টোরিয়া এলাকায় ওই ভবনটি বিষয়ে বিস্তরিত অনুসন্ধানে নামে একটি সাংবাদিক টিম। তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ওই দানব সাংবাদিকের মিথ্যাচারের নমুনা। এস্টোরিয়া এলাকায় নয় তলা ভবনের আঠারোটি এপার্টম্যান্টের ওই বিল্ডিংটি নির্মাণ করা হয়, ২০০৬ সালে।সেই সময় থেকেই এই কন্ডোমোনিয়াম ভবনে মালিক কিংবা ভাড়াটেরা বাস করে আসছেন।একটি স্থায়ী কর্পোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত এবং একটি ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানীর তত্ত্বাবধানে চলছে এই ভবনটি। সম্প্রতি এই ভবনের বাইরের দেয়াল,দরজা-জানালা ঝাড়ামোছার কাজ করছে প্লাটিনাম সার্ভিসেস নামের একটি কোম্পানি।

২৮ জুলাই ২০২৩ সকালে প্লাটিনাম সার্ভিসেস এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মিস টিনা মারীর সাথে কথা হয় এই অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিমের। তিনি জানান, ১৭ বছরের পুরোনো এই বিল্ডিং এ তার কোম্পানী রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে রিপেয়ার/ ম্যান্টেনেন্স এর কাজ করছে মাত্র। এটি কোনো নতুন বিল্ডিং নয়।( যে ফোন নম্বরে কথা হয়েছে তা টিমের কাছে সংরক্ষিত আছে)। এরপরে এই টিমের কথা হয়, বিল্ডিংটির ম্যানেজম্যান্টের দায়িত্বে থাকা নিউইয়র্কের ‘গার্ডেন হাইটস প্রোপার্টি ম্যানেজম্যান্ট’র কর্নধার মি. জোসেফ ব্রুনকেন’র সাথে। (সেই ফোন নম্বরও টিমের কাছে সংরক্ষিত আছে)। তিনি জানান, তারা দীর্ঘ বছর থেকেই এর ম্যানেজম্যান্টের দায়িত্বে রয়েছেন। ভবনের মালিক মূলত বিল্ডিং এ বসবাসকারী সকলেই। যেহেতু এটি একটি কন্ডোমোনিয়াম বিল্ডিং তাই মালিকদের

নির্বাচিত কর্পোরেশনই মালিকপক্ষ। মি. জোসেফ আরও বলেন, এখানে তো লুকানোর কিছুই নেই। নিউইয়র্ক বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সব তথ্যই বিভিন্ন দফতরে সংরক্ষিত আছে। যা, যে কেউ চাইলেই দেখতে পারেন।
এসব তথ্যের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে ওই দানব-সাংবাদিক চক্রের প্রকৃত মতলব। এখানে উল্লেখ করা দরকার, এই বানোয়াট কাহিনিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, এমন মিথ্যা কাহিনি প্যাচানোর নেপথ্যে উদ্দেশ্য কি? চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেও বলা হয়। এর জবাব না দিয়েই ওই দানব-সাংবাদিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী অন্যান্য

পারিবারিক সদস্যদের নাম জুড়ে মিথ্যা আক্রমণ শুরু করে! পরে ওই পোস্ট টি সরিয়েও নেয়! সে লিখে, ‘নিউইয়র্কের কয়েকজন অভিভাবকের অনুরোধে’ সে পোস্ট হাইড করে দিয়েছে! এখানে বলা দরকার, যাদের নাম উল্লেখ করে সে যে পোস্ট দিয়েছিল, তারা চাইলেই তার বিরুদ্ধে, তার ওই আইপি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন কিংবা পারবেন। এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, এই ভবনটি ২০০৬ সালে নির্মিত, ফুল’লি অকোপাইড কন্ডোমোনিয়াম। ধারা অনুযায়ী বাসিন্দারাই মালিক। এখানে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করার যে অপসাংবাদিকতার ফণা দেখানো হয়েছে, তা খুবই দুঃখজনক। এখানে মিথ্যা বলে মূলত চরিত্রহননের অপচেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। যে ব্যক্তিটি এমন নোংরা অপপ্রচার করেছে, যে হয়তো সেই সময়ে প্রাইমারী স্কলে পড়ে- যখন উত্তর আমেরিকায় বাঙালীদের ব্যবসা-বানিজ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা কৃতিত্ব রেখে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও বলেন, একাত্তরের পরাজিত একটি অপশক্তির ছায়া আজ আমাদের ধাওয়া করতে চাইছে। এটা হতে দেয়া হবে না। ওদের যেকোনো প্রান্তে রুখে দেয়া হবেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হীন কর্মের প্রতিবাদ করেছেন অনেকেই। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি আগুনসন্ত্রাসী চক্র যে সক্রিয়- এটা তারই প্রমাণ। এদের চিহ্নিত করতে হবে। সামাজিকভাবে এদের বয়কট করারও আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar