Advertisement Placeholder

২০২৩ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশি আমেরিকান ড. রায়ান সাদী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ২৫২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

২০২৩ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন পেলেন  বাংলাদেশি আমেরিকান ড. রায়ান সাদী

ড. রায়ান সাদী।

সকল অঞ্চলের এবং স্বল্প আয়ের রোগীর জন্যে সহজলভ্য একটি চিকিৎসা-পদ্ধতির আাবিস্কারক বাংলাদেশি আমেরিকান ড. রায়ান সাদী এবং তার মালিকানাধীন সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের ওষুধ প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান ‘টেভজেন বায়ো’কে আগামী বছরের (২০২৩) নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিখ্যাত চিকিৎসা-বিজ্ঞানী, খ্যাতনামা সংক্রমণ রোগ-বিশেষজ্ঞ এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যক্তিত্ব ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এমিরিটাস ড. কারটিস প্যাটোন এই মনোনয়ন দিয়েছেন (Dr. Curtis Patton, Professor Emeritus at Yale University, is a world-renowned scientist, infectious disease expert, and authority on Public Health )। ২ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় কানেকটিকাট থেকে টেলিফোনে এ সংবাদদাতার সাথে কথা বলার সময় ৮৭ বছর বয়েসী অধ্যাপক প্যাটোন উল্লেখ করেন, মানবতার কল্যাণে নিবেদিত এবং মেধাবী চিকিৎসা-বিজ্ঞানী ড. রায়ানকে আগামী বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্যে মনোনয়ন দিতে পেরে নিজেকে গৌরবান্বিতবোধ করছি। ড. প্যাটোন বলেন, সততায় উদ্ভাসিত ড. রায়ান মানবতার কল্যাণে নিজেকে বহুদিন ধরেই নিয়োজিত রেখেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে আরো দুই ব্যক্তিত্বকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন ড. প্যাটোন।

কোন কোন মাধ্যমে চলতি বছরের জন্যে ড. রায়ানকে মনোনয়ন প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে ২০২৩ সালের জন্যে এই মনোনয়ন গৃহিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পাবনার সন্তান এবং নিউজার্সি ও ফিলাডেলফিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ৩টি ওষুধ গবেষণা ও প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ার এবং সিইও ড. রায়ান সাদী এ সংবাদদাতাকে বলেন, আমার এই সেল থেরাপি প্রয়োগে বিশেষভাবে পারদর্শী কোন চিকিৎসক/নার্স কিংবা অত্যাধুনিক সাজ-সরঞ্জামও লাগবে না। এর দামও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ড. রায়ান উল্লেখ করেন, নতুন ওষুধ অথবা থেরাপি তৈরীর জন্যে অনেক অর্থ লাগে। ফলে সেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে সক্ষম হন না মাঝারি, স্বল্প আয়ের মানুষেরা। অতি সম্প্রতি গ্যাালপ জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. রায়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮ মিলিয়ন মানুষ ঐ জরিপে অংশ নিয়ে জানিয়েছেন যে, অর্থ সংকটে ওষুধ ক্রয় করতে পারেন না অসংখ্য রোগী। তারা অসহায় মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।
ড. রায়ানের এই থেরাপি কভিন১৯ তে আক্রান্ত জটিল রোগী, অধিকাংশ ক্যান্সার রোগী, অন্য কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জটিল আকার ধারণকারি এবং নিউরোলজি রোগের চিকিৎসায় মহৌষধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হবার পরই চিকিৎসা-বিজ্ঞানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে টেভজেন-বায়োর এই চিকিৎসা পদ্ধতি।

ড. রায়ানের এই পদ্ধতিকে নয়া একটি ব্যবসা-মডেল হিসেবে অভিহিত করছেন সংশ্লিষ্ট সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা। ড. রায়ান উল্লেখ করেন, নতুন ওষুধ অথবা ধেরাপি তৈরির পর একেকটি ডোজের দাম ৫ লাখ ডলার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এজন্যে অনেক রোগী তা গ্রহণে সক্ষম হয় না। এমনকি, সে সব থেরাপি প্রয়োগের উপযোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সাজসরঞ্জাম রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৪০টি হাসপাতালে। প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং আলাবামা, টেনেসির মত এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির পক্ষে নিউইয়র্কে এসে সেই উচ্চমূল্যের থেরাপি কিংবা ওষুধ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এহেন পরিস্থিতি থেকে বিরাটসংখ্যক রোগীর স্বার্থে নয়া এই থেরাপি তৈরীূ করা হয়েছে। ড. রায়ানের মতে, তুলনামূলকভাবে অনেক কমদাম এবং তা সহজলভ্য হওয়ায় সিংহভাগ রোগী তা গ্রহণে সক্ষম হবেন। এরফলে দাম কম হওয়া সত্বেও লাভের পরিমাণ বেশী হবে। এটাই হচ্ছে মূলমন্ত্র আমার আবিস্কৃত এই পদ্ধতির। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, কোন ব্যবসাই সফল হতে পারে না যদি তা মানুষের উপকারে না আসে। ড. রায়ান উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেউলে ঘোষণার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে হেলথ কেয়ার খরচ আকাশচুম্বি হওয়া। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের অভিপ্রায়ও রয়েছে আমার এই আবিস্কার-প্রক্রিয়ায়।

পাবনায় জন্ম নেওয়া রায়ান সাদী ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে (ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪০ ব্যাচের)এমবিবিএস ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৯২ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা-বিজ্ঞানে লিডারশিপ এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে হেলথ পলিসি এবং অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করেন। এরপর তিনি দুই দশকেরও অধিক সময় হেলথ কেয়ার নিয়ে কাজ করেছেন। তার কর্মপরিধি ছিল যুক্তরাষ্টেুর সীমানা পেড়িয়ে ইউােপ-আফ্রিকার বহুদেশে। সেই কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা-ব্যবস্থাকে সহজলভ্য করার জন্যে ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। তারই সুফল হিসেবে জটিল রোগির জন্যে থেরাপি পদ্ধতি সহজলভ্য হতে চলেছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার