
বিশেষ সংবাদদাতা | রবিবার, ১২ জুন ২০২২ | প্রিন্ট | ১৭৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকানরা পুলিশ-প্রশাসনের বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ১০ জুন শুক্রবার দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স ভিলেজে ‘হলিস মুসলিম কম্যুনিটি সেন্টার’র সামনে এলাকার মুসল্লিরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। এর অন্যতম উদ্যোক্তা নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-২৪ থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার প্রার্থী মাজেদা এ উদ্দিন সমাবেশে উল্লেখ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে ওজোনপার্ক মসজিদ সংলগ্ন বাসার সামনে গাড়ি পার্ক করার পরই দুর্বৃত্তের বুলেটে মারা গেছেন খন্দকার মোদাচ্ছের (৩৬)। এরপর চার মাস অতিবাহিত হলো ঘাতক গ্রেফতার দূরের কথা, এখন পর্যন্ত শনাক্তই করতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তারা।
গত মাসের ১১ তারিখ রাতে জিনাত হোসেনের (২৪) লাশ পাওয়া যায় ব্রুকলীনেরই একটি পাতাল ট্রেনের স্টেশনে। সেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও উদঘাটনে সক্ষম হয়নি তদন্ত কর্মকর্তারা, ঘাতক গ্রেফতার দূরের কথা। এরপর সেলিনা হায়দার নামক এক গৃহবধূ (হিজাব পরিহিত) রেল স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষারত অবস্থায় এক দুর্বৃত্ত তাকে ভয় দেখায়, সেলিনা এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি। কুইন্সে দিন-দুপুরে এক দুর্বৃত্ত ধাক্কা দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনকে গুরুতরভাবে আহত করেছে। তিনি এখনও কোমায় রয়েছেন। সর্বশেষ ৭ মে মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কুইন্স ভিলেজের সেন্ট আলবেন্সে ১১৩ রোডে অবস্থিত নিজ বাসার ডাইনিং রুমে বসে লেখাপড়ার সময় তামিমা সামিরা (১৫) বুলেট বিদ্ধ হয়। অন্তত ৪টি বুলেট তাদের ঘরে বিদ্ধ হয়। লক্ষহীন (এলোপাতাড়ি ভাবে ছিটানো গুলি) একটি গুলি তার পায়ে লাগে। এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এমন আরো অনেক পরিস্থিতির অসহায় ভিকটিম হয়েছেন প্রবাসীরা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য কোন দুর্বৃত্তই গ্রেফতার হয়নি। এ অবস্থায় শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশি আমেরিকানরা ভীতির মধ্যে নিপতিত হয়েছেন।
মাজেদা উদ্দিন ক্ষোভের সাথে বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সহ্যেরও সীমা আছে। আর নয়। আমাদের নিউইয়র্ক হতে হবে নিরাপদ সিটি। ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠি সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
নিউইয়র্ক সিটির সেরা হাই স্কুল হিসেবে পরিচিত ‘ব্রঙ্কস সায়েন্স হাই স্কুল’র মেধাবি ছাত্রী গুলিবিদ্ধ সামিরার বাবা মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এই সমাবেশে বলেন, তিন বছর যাবত এখানে বাস করছি। নিকট প্রতিবেশী একজন ১৬ বছর যাবত রয়েছেন। কখনোই এমন পরিস্থিতি হয়নি এ এলাকায়।
এলাকার বাসিন্দা এবং ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও সিইও লিটন আহমেদ ক্ষোভের সাথে বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সিটি মেয়র, সিটি পুলিশ কমিশনারও সকল কর্তৃপক্ষ সমীপে স্মাকলিপি প্রদানের পাশাপাশি সকলকে সবসময় সরব থাকতে হবে।
হলিস মুসলিম কম্যুনিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলম বলেন, সকল বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিকট প্রতিবেশী সকলের সাথে বন্ধুত্ব জোরদার করতে হবে। দুর্বৃত্তপনা প্রতিরোধে ঐক্যের বিকল্প নেই।
মাজেদা এ উদ্দিন বলেন, বাংরাদেশীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শান্তিপ্রিয় বলে শুধু তারা মার খেয়েই যাবে-এটা মেনে নেয়া যাবে না। সকলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে কম্যুনিটির নিরাপত্তার স্বার্থে।
কম্যুনিটি লিডার শেখ ফরহাদ এলাকাভিত্তিক ঐক্যমোর্চা গঠন করতে হবে এবং মূলধারার রাজনীতির সাথে জড়িয়ে থাকা জরুরি। মসজিদভিত্তিক কম্যুনিটিকেও জোরদার করতে হবে। তাহলেই পুলিশ প্রশাসনের নজর বাড়বে এবং সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে দুর্বৃত্তরাও সাহস পাবে না।



