
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২ | প্রিন্ট | ৫৩৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন জাকির হোসেন বাচ্চু। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
‘রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে আছে ‘৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগ। অথচ কী বিচিত্র সেলুকাস। সেই আওয়ামী লীগই আজ দেশ চালাচ্ছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ছত্রছায়ায় তথা পাকিস্তানী ধারায়’-এমন অভিমত পোষণ করা হয় প্রোগ্রেসিভ ফোরাম-ইউএসএর তৃতীয় বার্ষিক সম্মেলনে। ১৯ জুন নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে একটি মিলনায়তনের এ সম্মেলনে মস্কোপন্থি ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এদের কেউ কেউ পরবর্তীতে আওয়ামী রাজনীতির সাথেও জড়িয়ে গেছেন। মঞ্চেও ছিলেন তারা।
সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের বার্ষিক রিপোর্টে আলিম উদ্দিন আরো উল্লেখ করেছেন, ‘ যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপিয় মিত্রগণ ন্যাটো যুদ্ধজোট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাশিয়া-ই্ডক্রেন এর মধ্যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন শতশত নিরীহ মানুষ কারণ ছাড়াই মৃত্যুবরণ করছে শত্রুর বুলেটের আঘাতে। এই যুদ্ধের ক্ষত ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক সীমানায় খাদ্য, জ্বালানী তেলের সংকট,দ্রæব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ইত্যাদি জীবন-যাপনের দুর্বিসহ মাত্রিকতায়।’
সম্মেলনের জন্যে গঠিত কমিটির কনভেনর জাকির হোসেন বাচ্চু তার স্বাগত বক্তব্যে বিভিন্ন স্থান থেকে আগতদেরকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি সামনের দিনগুলোতে নিরলসভাবে কাজের আহবান জানান দেশমাতৃকার কল্যাণে।
শুরুতে এই সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হারুনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। একইসাথে ঘোষণা করা হয় যে, সম্মেলনটি তাঁরই স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হলো। শোক প্রস্তাবে সংগঠনের উপদেষ্টা কাশেম আলীর সহধর্মীনি সুফিয়া কাশেম,সংগঠনের উপদেষ্টা নিনি ওয়াহেদের স্বামী বাংলাদেশের সাবেক ক্রীড়াবিদ ওয়াহেদুল করিম বাবুল,উদিচির সফিকুর রহমান হারুন এবং সীতাকুন্ডে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন খোরশেদুল ইসলাম। সাংগঠনিক কর্মকান্ডের আলোকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হোসনে আরা, সৈয়দ ফজলুর রহমান, শ্যামচন্দ, ডা. রফিকুল ইসলাম, মীরচন্দ, শুবক্তগীণ সাকী প্রমুখ। সম্মেলনে “প্রকৃতিকে ধবংস ও যুদ্ধের বিভীষিকায় কোন পথে আজ মানব জাতি” শিরোনামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের প্রধান ড. নজরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপিকা হুসনে আরা, উৎপল দত্ত সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সম্মেলনে হাফিজুল হককে সভাপতি ও গোলাম মর্তুজাকে সাধারন সম্পাদক করে প্রোগ্রেসিভ ফোরামের নতুন কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন জাকির হোসেন বাচ্চু, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বাবুল, সামশাদ হুসাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ রেজাউল করিম,ওবায়দদুল্লাহ মামুন, এডভোকেট শেখ আখতার ইসলাম। সহ সাধারন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন হিরো চৌধুরী ও কল্লোল দাশ। আন্তর্জাতিক ও আন্তসংগঠন সম্পাদক মিনহাজ্ব আহমেদ শাম্মু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুকিত চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক এবাদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক রীনা সাহা, নারী বিষয়ক সম্পাদক শারমিন সুলতানা। এবারই প্রথম নিউইয়র্কের বাইরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফোরামের কার্যকরি কমিটিতে ডা. আবদুল হক খান সামাদ, মিলটন বড়ুয়া, ডাঃ মোরশেদুল হাকিম শুভ্র, গাজী গোলাম মোস্তফা, কাকলী বিশ্বাস, শ্যাম চন্দ, মোকলেছ মুনতাসির, ডাঃ মো আজিজুল হক, সাকি সবুক্তগীন, নুসরাত শাহ আজাদ, ইলা চন্দকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়। নিউইয়র্ক থেকে সদস্য হিসেবে রয়েছেন খোরশেদুল ইসলাম, আলীম উদ্দিন, মুসাব্বির আলী, আশীষ রায়, নাজমুল হক লনি, শোয়েব আহমেদ,সালেহ আহমদ মুনিয়া, ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার হোসেন বকুল, আবদুল্লাহ চৌধুরী, শামীম আহমদ, জহিরুল ইসলাম, কামাল চৌধুরী, সুলেখা পাল, নাজমা আহমদ, প্রতিমা সরকার ও লিলি মজুমদার।
বিদায়ী কমিটির সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম নব নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মেরিল্যান্ডের ডা. আবুল হক খান সামাদ। উদ্বোধনী সংগীত সহ সমাপ্তিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেয় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যবৃন্দ। সব শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অংশ নেন লিলি মজুমদার,শান্তা দত্ত, ফুলু রায় চৌধুরী, স্নিগ্ধা আচার্য্য, ক্লারা রোজারিও, সুচরিত দও,আবদুল হাফিজ চৌধুরী,সবুক্তগীন সাকি,রমিসা রাইসা, সংগীতা বড়ুয়া,চামেলী গোমেজ। পরিচালনায় ছিলেন সুলেখা পাল।
উল্লেখ্য, ‘মুক্ত মানবের মুক্তসমাজ, মুক্ত চিন্তার চর্চা, দেশ ও প্রবাসে মেহনতি নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্যে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তার অনুভব থেকেই ২০০৪ সালে গঠিত হয় ‘প্রোগ্রেসিভ ফোরাম, ইউএসএ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সংগঠন দেশ ও প্রবাসের সংকট-সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামর্থ্য অনুযায়ী আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত রয়েছে’ বলে সম্মেলনে দাবি করা হয়।



