
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২ | প্রিন্ট | ২১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কবি শামস আল মমীন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে ৫ আগষ্ট শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো প্রবাসের শক্তিমান কবি শামস আল মমীনের একক কবিতা পাঠের দ্বিতীয় আসর। আয়োজনে ছিলো ‘আমরা কজনা’। ঘড়ির কাটায় সন্ধ্যা ৮টা ১৫ মিনিট। মেধাবী সংগঠক নতুন প্রজন্মের সেমন্তী ওয়াহেদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় শুরু হলো কবি মমীনের কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান। কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী উপস্থাপন করলেন অভিনেত্রী শিরীন বকুল।
নিউইয়র্কের সাহিত্য-বোদ্ধা ও কবিতা নিয়ে যে কজন ভাবনা করেন, তাদের মতানুসারে ১৯৫২ সনের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের উপজেলা বদরগঞ্জে জন্ম নেয়া কবি, কবিতার জগতকে দেশে থাকা অবস্থায় দেখা ও ধারন করা শুরু করে ১৯৮২ সনে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর পর থেকে আজো হৃদয়ে, মননে ও অস্তিত্বে¡ কবিতা নিয়ে যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত উপভোগ করছেন শামস আল মমীন। পৃথিবীর দু প্রান্ত থেকে কবিতা ও কবিতার বিষয়কে সযত্নে লালন করেছেন এবং সর্বক্ষেত্রে দুঃখ আর আনন্দে কবিতাকে আপন ভালবাসায় সিক্ত করেছেন।
কবি কন্ঠে কবিতা পাঠ শুরুর পূর্বে কবির আপন উপলব্ধি এবং কবিতা লেখার তাড়না সহ কবির কবিতা বিষয়বস্তু নির্বাচনে বৈচিত্রতা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জট খুলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের নিকট খোলাসা করে দিতে গিয়ে কবি ও কবিতার প্রধান বিষয়কে সরল ও সহজে আলোচনা করলেন প্রাবন্ধিক আহমাদ মাজহার। কবির জীবনীপাঠে শুধু উনার জন্মলাভ ও শুধু শহুরে হয়ে উঠার কাহিনী জানা যায়নি।

কবির সাথে ‘আমরা কজনা’। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
দর্শক ও শ্রোতারা জানলেন ‘৮২ সালে আমেরিকার ওহাইও রাজ্যের সেন্ট্রাল স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক হন। পরে নিউইয়র্কের টোরো কলেজ থেকে শিক্ষাশাস্ত্রে এবং এডেলফাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইএসএল বিষয়ে হন স্নাতকোত্তর। পেশা হিসেবে বেছে নেন শিক্ষকতাকে।
১৯৮৯ সাল থেকে তিনি নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগে ইংরেজির শিক্ষক এবং মেন্টর অর্থাৎ নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন দীর্ঘপ্রায় ৩০ বছর। মোট প্রকাশিত কাব্য গন্থের সংখ্যা ৯। যার মধ্যে আছে চিতায় ঝুলন্ত জ্যোৎস্না, মনোলগ (২য় সংস্করণ) সাম্প্রতিক আমেরিকান কবিতা আমি সেই আদিম পুরুষ, আমি বন্দী খোলা জানালার কাছে , কেউ হয়তো আমাকে থামতে বলবে, নির্বাচিত কবিতা, অনেক রাত জেগে থাকার পর। এছাড়া সম্পাদনা করেছেন ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সাপ্তাহিক দিগন্ত (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক), যেটি ছিল এই আমেরিকায় বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে ‘আকার ইকার’ লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছিলেন।
দুই পর্বের অনষ্ঠানে মোট ২৪ টি কবিতা পাঠ করেন কবি। যার মধ্যে বাংলা ভাষায় রচিত কবিতা ছিল ২১ এবং ইংরেজী ভাষায় ৩ টি। প্রায় দু ঘন্টা ধরে পিনপতন নিরবতায় কবির কন্ঠে অসাধারন সব কটি কবিতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে নিউইয়র্কের সর্বস্তরের সাহিত্যমোদী ও সাংস্কৃতিক-যোদ্ধারা শ্রবন এবং উপভোগ করেন। কবিতা নির্বাচনে কবির
মুন্সিয়ানার প্রশংসা উপস্থিত সকল শ্রেনীর শ্রোতাদের নিকট দ্রুত পৌঁছে যায়। উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে জাতির পিতাকে নিয়ে লেখা কবিতা, বাসার গৃহকর্মীর সুখ দুঃখের চিত্র, সামাজিক অন্যায়-সহ জাতিগত বিদ্বেষ এবং মানবতার বিরুদ্ধাচরণকারীদের সৃষ্ট অনাচারের প্রতিবাদ সম্বলিত কবিতা শুনে শ্রোতাদের বিরাট অংশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মধ্য প্রহরের দু’ঘন্টা আগে কবির কন্ঠে শ্রোতারা শুনলেন শেষ কবিতা।
তার এই অসামান্য পরিবেশনার জন্য উপস্থিত সকল দর্শক ও শ্রোতামন্ডলী উঠে দাঁড়িয়ে কবিকে সম্মান জানালেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দর্শকদের জন্য চা-কফির সুবন্দোবস্থ ছিলো।



