বুধবার ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কের সিনেটর জন ল্যু

বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্বেও বিশেষ স্থানে অধিষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০২২ | প্রিন্ট  

বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্বেও বিশেষ  স্থানে অধিষ্ঠিত

বক্তব্য দিচ্ছেন স্টেট সিনেটর জন ল্যু। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নিউইয়র্কের সিনেটর জন ল্যু বললেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর দূরদর্শিতাপূর্ণ নেতৃত্বে স্বাধীন একটি ভূখন্ড প্রতিষ্ঠা করে শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্বের ইতিহাসে বিশেষ একটি স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এই স্বাধীনতার বিশেষ একটি গুরুত্ব রয়েছে, একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের পর তাকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব আজ প্রশংসিত এবং তারই ধারাক্রম হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশীরাও নিজ নিজ অবস্থানে কৃতিত্ব প্রদর্শনে সক্ষম। আমি সব সময় বাংলাদেশীদের পাশে রয়েছি।’

বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সংগঠন ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র উদ্যোগে ২৮ অগাস্ট রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে এক আলোচনা সমাবেশে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই স্টেট সিনেটর আরো বলেন, ‘তিন বছর আগে ঢাকা, সিলেট এবং কক্সবাজার পরিভ্রমণের সময় আমি বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছি। শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগুচ্ছে।

এটি আমার ভালো লেগেছে। কারণ, আমার এলাকার ভোটারগণের জন্মভূমি উন্নতি সাধন করলে তারা ভালো বোধ করেন এবং আমিও এক ধরনের তৃপ্তি লাভে সক্ষম হই।’ সিনেটর বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ দেন।

হোস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজের সভাপতিত্বে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আনোয়ার বাবলুর সঞ্চালনায় এ আলোচনার শুরুতে জাতিরজনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান নারী এবং প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় নেতৃত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শাহানা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘আপনারা বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের সঠিক ইতিহাস জানালে কেউই বিকৃত করতে সক্ষম হবে না। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মাইনি তাদেরকে সঠিক ইতিহাস জানাতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মুনিরুল ইসলাম এমন আয়োজনের জন্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের প্রশংসা করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপি-জামাতের চেলাচামুন্ডারা কোস ফায়দা পাবে না। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার উন্নয়নের সমর্থনে একিভূত।

যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নির্বাচিত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নৃশংসতার নেপথ্য কুশিলবদের চিহ্নিত এবং শাস্তি প্রদানে অবিলম্বে একটি কমিশন গঠনের বিকল্প নেই। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারিদের মুখোশ উম্মোচন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়া সহজ হবে।

সাপ্তাহিক বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু এত বড়মাপের নেতা ছিলেন যে, কিশোর বয়স থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত কোন ভুল করেননি। ৬৯ সত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি ছিলেন অবিচল। সত্তরের নির্বাচনে মাওলানা ভাসানী অংশ গ্রহণে মানা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা শুনেননি। যদি শুনতের তাহলে হয়তো স্বাধীনতা আসতো না। কৌশিক উল্লেখ করেন, একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করার মত। কোন সংবাদপত্রই বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতকার নেয়নি।

সে সময়কার খ্যাতনামা সাংবাদিক-সম্পাদকগণ অনেকেই ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ। তবুও একটি সাক্ষাতকার নেননি কেউই।
গভীর শ্রদ্ধায় বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্ব গুণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নিনি ওয়াহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ প্রমুখ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar