Advertisement Placeholder

জর্জিয়ায় বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদের আত্মহত্যার জন্য দায়ীদের শাস্তি চান প্রবাসীরা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ২৪৬১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জর্জিয়ায় বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদের আত্মহত্যার জন্য দায়ীদের শাস্তি চান প্রবাসীরা

পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যাকারী ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ হাসান (৪১)’র জানাযায় অংশ নেয়া ৭ শতাধিক প্রবাসীর সকলেই ক্ষুব্ধ। কেন আত্মহত্যা করলেন? আত্মহত্যার মত কঠিন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোন বিষয়টি প্রভাব ফেলেছিল? ফুটফুটে দুই শিশু সন্তানের কথা বিবেচনা করেও কেন আত্মহত্যার পথ পরিহার করেননি সাজ্জাদ? ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জর্জিয়া স্টেটের টাকের সিটিতে বাস করতেন। ২০১৯ সাল থেকে জর্জিয়া পাওয়ার কোম্পানিতে সিনিয়র ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করতেন। এমনি অবস্থায় ১৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় আটলান্টার পুলিশ সাজ্জাদের লাশ উদ্ধার করে। সে সময় সাজ্জাদের হাতে লেখা একটি চিরকুটও পায় পুলিশ। সেটিকে পুলিশ ‘স্যুইসাইড নোট’ হিসেবে সংরক্ষণ করেছে। কী লেখা রয়েছে সেখানে-তা ছিল প্রধান প্রশ্ন জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।

১৯ জানুয়ারি শুক্রবার জুমআর নামাজের পর লরেন্সভিলে ইসলামিক সেন্টার জামে মসজিদে সাজ্জাদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। কম্যুনিটির সর্বস্তরের প্রবাসী এতে ছিলেন। এই স্টেটের সিনেটর শেখ রহমানও ছিলেন শোকার্ত প্রবাসীদের মাঝে। সিনেটর রহমান এ সংবাদদাতাকে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদের সাথে কয়েক মাস আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ ঘটেছিল। অমায়িক যুবক হিসেবেই মনে হয়েছে। সাথে ছিলেন তার শিশু দুই সন্তান ও স্ত্রী। তার মৃত্যুর সংবাদে আমিও প্রচন্ডভাবে হতাশ। কেন ঘটছে এমন ঘটনা? কোথায় চলেছে আমাদের কম্যুনিটি? আমাদের সন্তানেরা কী ভাবছে অভিভাবকের আত্মহত্যা নিয়ে? সিনেটর শেখ রহমান বললেন, সুদর্শন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদের ‘স্যুইসাইড নোট’ থেকে অজানা অনেক কিছুই হয়তো জানা সম্ভব হবে।

Sajjad Hassan with family

জানাযায় ছিলেন সাজ্জাদের বাবা। ৮০ বছর বয়েসী এই ভদ্রলোক কিছুদিন আগে এসেছেন সন্তান আর নাতীদের সান্নিধ্যে কটা দিন কাটাতে। তিনি সাজ্জাদের সতীর্থদের কাছে বলেছেন যে, ‘আমার একমাত্র সন্তানটি এই আটলান্টায় যে ব্যক্তিটিকে সবচেয়ে বেশী বিশ্বাস করতেন, আমার পর যে ব্যক্তিটির ওপর তার ভরসা ছিল, সেই ব্যক্তিটি সাজ্জাদের প্রাণ সংহারের কারণ হতে পারে তা ভাবতেও অবাক লাগছে।’ কে সেই ব্যক্তি-যার কারণে সাজ্জাদের মত অমায়িক একজন মানুষকে আত্মহত্যা করতে হলো-এটাই সকলের কৌতুহল। আটলান্টা কম্যুনিটির পরিচিত ব্যক্তিত্ব কাজী নাহিদও ছিলেন জানাযায়। তিনি এ সংবাদদাতাকে বললেন, এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়া সমীচিন হবে না। যদি কারো আচরণে সাজ্জাদ অতীষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়ে থাকেন-তাহলে সেই লোকটিকে চিহ্নিত করা দরকার কম্যুনিটির স্বার্থে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টের শেষার্ধে সাজ্জাদের স্ত্রী এমা তাঞ্জিমের পরকিয়া ধরা পড়েছিল নিকটজনের কাছে। তা গণমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মনোকষ্টে ছিলেন সাজ্জাদ। ধারণা করা হচ্ছে, শতচেষ্টা করেও হয়তো স্ত্রীকে ফেরাতে সক্ষম না হওয়ায় এমন চরম একটি পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ।

এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাজ্জাদের এহেন আত্মহত্যার জন্যে দায়ীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পন্থা অবলম্বনের।

উল্লেখ্য, ঢাকার সন্তান সাজ্জাদকে দাফন করা হয় শুক্রবার বিকেলে আটলান্টার বেথেলহ্যাম মুসলিম গোরস্থানে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার