
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | সোমবার, ০৩ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৩৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেল মেক্সিকো। ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেন ক্ষমতাসীন মরেনা পার্টির প্রার্থী ক্লাউডিয়া শেইনবাম। মেক্সিকো সিটির সাবেক মেয়র মরেনা পার্টির ক্লাউডিয়া গৃহিত ভোটের ৫৮ শতাংশের বেশী পেয়ে বিজয়ী হলেন বলে ‘ন্যাশনাল ইলেক্টরাল ইন্সটিটিউট’ জানিয়েছে। আগামী ৬ বছরের জন্যে নির্বাচিত হলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লোপেজ অবরেডোর উত্তরসূরি হিসেবে ক্লাউডিয়াই জয়ের মুকুট পড়বেন বলে বিভিন্ন জরিপে আভাস দেয়া হয়। আরো উল্লেখ্য, এই প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেল মেক্সিকো। আড়াই শত বছরের ইতিহাসে নিকট প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত নারী প্রেসিডেন্ট পায়নি। ক্লাউডিয়ার (৬১) নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী যোসিটি গ্যালভেজ ছিলেন সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী। ‘ফোয়েরজা ওয়াই কোরাজন ফর মেক্সিকো’ পার্টির নেত্রী গ্যালভেজ এর আগে মেক্সিকো সিনেটের সদস্য ছিলেন। ক্লাউডিয়া এবং গ্যালভেজ উভয়েই জুইশ বংশোদ্ভ’ত মেক্সিকান। প্রেসিডেন্ট পদে একমাত্র পুরুষ প্রার্থী জর্জ অ্যালভারেজ ম্যাইনেজ ভোটের হিসেবেও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ভোট গণনার পরই গ্যালভেজ অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্লাউডিয়াকে। মেক্সিকোর এক লাখ ৭০ হাজার ভোট কেন্দ্রের মধ্যে গোলযোগের কারণে ১৭০টিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি স্থানে মারদাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরী হলেও ফলাফল ঘোষণা আটকে থাকেনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইউএস সিনেটর হিলারি ক্লিন্টন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে অন্যতম বৃহত্তম ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পেয়েও ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হেরে গেছেন। অর্থাৎ উন্নয়নের শীর্ষে এবং মানবাধিকার নিয়ে সদা মুরুব্বিয়ানায় ব্যস্ত আমেরিকা তার নেতৃত্ব নারীর কাছে সঁপে দিতে চায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিসহ নানাক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা মেক্সিকো-তে নারী ক্ষমতায়নে বিপ্লব ঘটলো এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে-এমন অভিমত পোষণ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির থিঙ্কট্যাংক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’র সিনিয়র ফেলো শ্যানন ও’নীল। শ্যানন মনে করছেন, মেক্সিকোতে এমন কিছু বাজে কান্ড ঘটে-যার ফলে সুধীজনের পক্ষে দেশটিতে নিরাপদে অবস্থান করা কঠিন। তবে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং প্রকারান্তরে প্রভাবিত করতেও যাচ্ছে। নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্যদিয়ে মেক্সিকোর ইতিহাসের গতি-প্রকৃতি পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ নির্বাচনে মরেনা পার্টির প্রার্থীরাও মেক্সিকো সিনেটের অধিকাংশ আসনে বিজয় পেয়েছে। এরফলে মেক্সিকোর সংবিধানকে যুযোগযোগী করার অঙ্গিকারের বাস্তবায়ন ঘটাতে কোন সমস্যা হবে না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ফলাফল ঘোষণার পরই মেক্সিকো সিটি হোটেলের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকদের বিজয় উল্লাসে বক্তব্যকালে ক্লাউডিয়া বলেন, এটা হচ্ছে মেক্সিকানদের অবিস্মরণীয় বিজয়-যা আমাদের জাতীয় অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে ভ’মিকা রাখবে। এবং জনগণের এই রায় নিয়ে কখনোই আমি গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করবো না। ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভ’ত করার প্রশ্নই উঠে না। ঐতিহাসিকভাবেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করবো। একদলীয় স্বৈরশাসনের প্রশ্নই উঠে না। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লোপেজ অবরেডোর বামপন্থি এবং ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক ছিলেন। তবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভ’ত করেন এবং অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কঠোর সমালোচনা রয়েছে সুধীজনে।
মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের শুধু নিকট প্রতিবেশীই নয়, এক নম্বর ট্রেডিং পার্টনারও। গাড়ি প্রস্তুত থেকে ফল-মূল উৎপাদনেও মেক্সিকো সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে আসছে বহুদিন যাবত। ক্লাউডিয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মেক্সিকানদের ঢুকে পড়ার সমস্যাটির অবসান ঘটবে এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করছে বাইডেন প্রশাসন। বিজয়-সমাবেশে ক্লাউডিয়া আবারো অঙ্গীকার করেছেন যে, তিনি ব্যবসায়ী সমাজের সহযোগিতা নিতে কুণ্ঠা করবেন না। বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সমতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করবেন। আমরা সীমান্তের অপর পাড়ের বাসিন্দাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সদা তৎপর থাকবো।



