
বিশ্ব ডেস্ক | বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ৭৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে সিয়াটল জাতপাতজনিত বৈষম্যকে বেআইনি ঘোষণা করল। শহরটির বৈষম্যবিরোধী আইনগুলোতে জাতপাতকে যুক্ত করতে স্থানীয় কাউন্সিলে ভোটের পর মঙ্গলবার এ ঘোষণা এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে থাকা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, বিশেষ করে ভারতীয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। ভারতের জাতপাত ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন কঠোর সামাজিক স্তরবিন্যাস।
“জাতপাতের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই সকল ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত,” বলেছেন সিয়াটল সিটি কাউন্সিলের সদস্য, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ক্ষমা সাওয়ান্ত।
ভারতীয় এই জাতপাত ব্যবস্থা কয়েক হাজার বছরের পুরনো। এতে উঁচু জাতের লোকজন অনেক সুযোগ-সুবিধা পায়, নিচের দিকে থাকা জাতগুলো শিকার হয় বৈষম্যের।
এই হিন্দু জাতপাত ব্যবস্থায় একেবারে নিচের দিকে রয়েছে দলিত সম্প্রদায়, এই সম্প্রদায়কে বিবেচনা করা হয় ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে। “জাতপাত বৈষম্য কেবল অন্য দেশেই হয় না। দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান এবং অন্য অভিবাসী কর্মীদেরকে তাদের কর্মস্থলেও এই বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়, এমনকী প্রযুক্তি খাতেও, সিয়াটলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে,” সিয়াটলে জাতপাতজনিত বৈষম্য নিষিদ্ধের প্রস্তাব করার সময় কাউন্সিলে এমনটাই বলেছিলেন সাওয়ান্ত।
ভারতে জাতপাত বৈষম্য ৭৫ বছর আগে নিষিদ্ধ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া একাধিক গবেষণা বলছে, দেশটিতে এখনও উচ্চ বর্ণের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বিদ্যমান। নিচু জাতের লোকজনকে যে বেশি বেতনের চাকরিতে খুব একটা দেখা যায় না, এসব গবেষণার একটিতে তাও উঠে এসেছে।
ভারত ‘অস্পৃশ্যতাকে’ নিষিদ্ধ করলেও দলিতরা আজও দেশটিতে ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে, সমাজের বিকাশে তাদের সংযুক্ত করার চেষ্টা কখনও কখনও সহিংসভাবে থামিয়েও দেওয়া হচ্ছে।
এই হিন্দু জাতপাত ব্যবস্থার শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে ভারত ও বাইরে তুমুল বিতর্কও আছে, এর সঙ্গে ধর্মও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।
অনেকে বলছেন, এখন এই ধরনের বৈষম্য বেশ বিরল। শীর্ষ ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিচু জাতের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ রাখার নীতি আছে ভারত সরকারের। এই নীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিচু জাতের অনেককেই পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তি খাতে চাকরি পেতে সহায়তা করেছে।
জাতপাত বৈষম্যের সঙ্গে যে বর্ণ বা জাতিগত বৈষম্যের মতো অন্য বৈষম্যগুলোর কোনো পার্থক্য নেই এবং এটিকে নিষিদ্ধ করা দরকার, অ্যাক্টিভিস্টরা তা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে দেশ, জাতি, গোষ্ঠী বা উত্তরাধিকারজনিত যে কোনো ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ হলেও সুস্পষ্টভাবে জাতপাতবাদকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।



