
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট | ৫৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউজার্সি স্টেটের ক্যাসিনো সিটি হিসেবে বিশ্বখ্যাত আটলান্টিক সিটির কাউন্সিলম্যান মোহাম্মদ হোসেন মোর্শেদ করোনাকালিন বেকার ভাতা গ্রহণে প্রতারণার আশ্রয় এবং স্থায়ী অধিবাসী নন এমন লোাকজনকে ভোটার বানিয়েছেন বলে এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে। গত ১৭ মার্চ বাংলাদেশি মোর্শেদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদালতে মামলা দায়েরের পর ইউএস অ্যাটর্নি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। নিউজার্সির আটলান্টিক সিটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে প্রথম টার্মের দায়িত্ব পালন করছেন মোর্শেদ। বরিশালের সন্তান মোর্শেদকে (৪৯) এ ধরননের অপকর্মে লিপ্ত থাকার জন্যে ডেমক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে তাকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহবান জানানো হয়েছে।
মোর্শেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, এ আহবানে সাড়া না দিয়ে সামনের নভেম্বরে পুনরায় প্রার্থী হবার প্রস্তুতি নিয়েছেন মোর্শেদ। ভোটার তালিকায় জালিয়াতি এবং বেকার ভাতা গ্রহণে প্রতারণার যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে মোর্শেদকে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদন্ড এবং ৫ লাখ ডলারের জরিমানা করা হতে পারে বলে আটলান্টিক কাউন্টি অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ২০১৯ সালের জুনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনের সময় ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্তির একটি বিবরণ জমা দেন। সেখানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাস করেন বলে একজনের নামও ছিল। প্রকৃত অর্থে ওই লোকটি অন্যত্র বাস করেন। এই ভোটারের ব্যালট ডাকযোগে সংগ্রহের সময়েও মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। তদন্তে তা উদঘাটিত হয়েছে। এমন ভ’য়া ভোটারের মাধ্যমে মোর্শেদ ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তদন্তে মোর্শেদের সাথে ওই ভোটারের কথোপকথনের রেকর্ড উদঘাটিত হয় যে, মোর্শেদ লোকটিকে মিথ্যা বলার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
মোর্শেদ নিজেই যে ভোটার তালিকাভুক্তির ফরম তার নামে পূরণ করেছেন সেটিও গোপন করার আহবান জানিয়েছেন। তদন্তের এক পর্যায়ে এফবিআই যখন মোর্শেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, সে সময়েও মোর্শেদ সাফ জানিয়েছেন যে, কোন ভোটারের ফরম কখনোই তিনি পূরণ করেননি। এমনকি আটলান্টিক সিটির বাইরে বসবাসরত কাউকেই নাকি তিনি এই সিটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হতে আহবান জানাননি।
মামলার বিবরণে আরো জানা গেছে, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেকার ভাতা বাবদ নিউজার্সি শ্রম দফতর থেকে ৩৯২০৮ ডলার ড্র করেন। অথচ সে সময় তিনি সিটির কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়মিত ভাতা নিয়েছেন এবং তার মূলপেশা ট্যাক্সি ড্রাইভিং করেছেন।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, মোর্শেদ এর আগে আরেকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন পারিবারিক সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ায়। তার স্ত্রী একবার মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে ১২ বছরের সন্তানকে নির্যাতনের মামলাও হয়েছিল। উভয় মামলা পরবর্তীতে খারিজ হয়ে গেছে অভিযোগের সমর্থনে যথাযথ ডক্যুমেন্ট না পাওয়ায়। কম্যুনিটির লোকজন জানিয়েছেন, মোর্শেদের সাথে সিটি মেয়রের দারুন ভাব। এ কারণে স্থানীয় পুলিশ বেশী দূর যায়নি। তবে মিউনিসিপ্যাল কোর্টে মোর্শেদের স্ত্রীর দায়েরকৃত একটি মামলা এখনও রয়েছেন।
জাল ভোট এবং প্রতারণামূলকভাবে বেকার ভাতা গ্রহণের মামলার শুনানি হওয়ার কথা ২৪ মার্চ। এই মামলা নিয়ে কম্যুনিটিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আটলান্টিক সিটিতে তিনিই হচ্ছেন প্রথম কাউন্সিলম্যান, তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গোটা কম্যুনিটি বিব্রত।



