
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীর সঙ্গে যৌন-উত্তেজনার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৪) কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন। ২১ এপ্রিল তিনি রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আত্মমর্পণ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পর মাননীয় আদালত তাকে জামিন প্রদান করেছেন এবং মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে জুলাই মাসে।
ক্যান্সার প্যাথলজিতে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে একই ডিপার্টমেন্টের ছাত্রী (যিনি ইব্রাহিমের অধীনস্থ ল্যাবে গবেষণা কর্ম করেন) পুলিশকে আরো অভিযোগ করেছেন, গত ফেব্রয়ারিতে ইব্রাহিম তার স্পর্শকাতর অঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন। একইধরনের অসভ্য আচরণ আরেকবার করেন ইব্রাহিম। বারবারই ছাত্রীটি আপত্তি জানিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করার সাহস পাননি। সেটি করলে তাকে ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এক পর্যায়ে ছাত্রীকে তার স্বামীর কাছে থেকে তালাক নেয়ার আহবানও জানান মোহাম্মদ ইব্রাহিম। অন্যথায় তাকে ল্যাবরেটরিতে আর ঢুকতে দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
একদিন ল্যাবরেটরিতে ছাত্রীটির সাথে এমন নোংরা আচরণের দৃশ্য আরেকটি ছাত্রী দেখার পর নিজেকে আর সংবরণ করতে না পেরে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির মুখপাত্র ব্রায়ান ক্লার্ক জানান,অভিযোগের পরই মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। গতমাসে আদালতের নির্দেশ জারি হয়েছে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ঐ ছাত্রীর আশপাশে না যেতে। মামলা, গ্রেফতারের ব্যাপারে নিজে মুখ না খুলে তার আইনজীবী জন গ্র্যাসোর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ ইব্রাহিম এমন অপকর্মে লিপ্ত হননি। ছাত্রীটি মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেছেন। আদালতে মোহাম্মদ ইব্রাহিম লড়াই চালিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, ছাত্রীটি পিএইচডি করছেন ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে। গত ডিসেম্বরে ডক্টরেট প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেই মোহাম্মদ ইব্রাহিম ল্যাবরেটরির দায়িত্ব পেয়েছেন। এবং ছাত্রীটির গবেষণার সুপারভাইজ করেন বিধায় ভীত ছিলেন ছাত্রীটি। আরো জানা গেছে, ছাত্রীটি পড়তেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা কলেজ অব মেডিসিনে। সে সময়েই অর্থাৎ ২০২০ সালে অনলাইনে বন্ধুত্ব হয় মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সাথে। ২০২১ সালে তারা দেখা-সাক্ষাৎও করেন। দুই সন্তানের বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাউথ আলাবামা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অতীশ দ্বিপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজিতে ফার্মাসিউটিক্যালস সায়েন্সে সহকারি অধ্যাপকের চাকরি করেছেন।
শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রীর সাথে এমন আচরণের সংবাদ মার্কিন টিভিতে প্রচারের পর কম্যুনিটিতে ছি ছি রব উঠেছে।



