
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | মঙ্গলবার, ০২ মে ২০২৩ | প্রিন্ট | ৬৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টেলিনা জর্জিয়েভা শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন যে, পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে একটি মডেল। কোভিডের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতাবস্থায় রয়েছে। এছাড়া আরো বহুক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য রকমের উন্নতি করেছে।
২৯ এপ্রিল শনিবার অপরাহ্নে ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ার রিজ কার্লটন হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএমএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পদস্থ কর্মকর্তারা। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ সাক্ষাতের আলোকে সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন আরো জানান, গোটাবিশ্ব যখন অস্থিরতায় নিপতিত, তার মধ্যেও বাংলাদেশের বহু সেক্টরের উন্নয়ন-অগগতি অব্যাহত থাকার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন।
বৈঠকে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রৌফ তালুকদার, অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং ইআরডি সচিব শরিফা খান। গভর্নর রৌফ তালুকদার ব্রিফিংকালে বলেন, গত ১৪ বছর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট হচ্ছে ম্যাক্রো ইকনোমিক স্ট্যাবিলিটি। এজন্য অবশ্য আইএমএফ সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিল, তারা আমাদের পরামর্শ দিয়েছে। এজন্যে প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বর্তমানে আমরা ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রোগ্রামে আছি। গতক নভেম্বরে মাত্র দু’সপ্তাহের নেগোসিয়েশনের পরই আমরা এটি পেয়েছি। অথচ অনেক দেশ অনেক বেশী সময় ধরে দেন-দরবার চালিয়েও তা পায়না। এজন্যেও আইএমএফকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর উল্লেখ করেন, আইএমএফ’র এমডি অঙ্গিকার করেছেন যে তাদের এমন সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো জানিয়েছেন যে, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশের জন্যে আইএমএফ’র দরজা খোলা রয়েছে।
অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে আইএমএফ পাশে থাকায় অন্যান্য ডেভেলপমেন্ট পার্টনারও ¯^স্তিতে আছে, আমাদের ম্যাক্রো-ইকনোমিক স্ট্যাবিলিটি থাকায়। এমডি আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর আশংকা থেকে জনগোষ্ঠিকে রক্ষার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা সুফল আনছে। স্কুলসমূহকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়-স্থল হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপারটিকে শুধু মানুষের জন্যেই নয়, গৃহপালিত পশু-পাখীর সুরক্ষার্থেও কাজে আসছে। এছাড়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাসের সিস্টেমও খুবই কার্যকর হচ্ছে। মানুষের মধ্যে আস্থা এসেছে এই সিস্টেমের প্রতি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বেশ কিছু পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেছেন আইএমএফ’র এই শীর্ষ কর্মকর্তা। বলেছেন, মুরগীর স্থলে হাঁস পালনের বিষয়টি তার অন্যতম। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবকিছু সয়লাব হলেও হাঁস বেঁচে থাকে। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবিবরনী কালেও এমডি সম্মিলিত ভাবে কাজের কথা স্বীকার করেছেন আইএমএফ এমডি।
ইআরডি সচিব শরিফা খান বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফ দ্রুত বাংলাদেশের বিভিন্ন আহবানে সাড়া দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইএমএফকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিসমূহকে গ্লোবাল মডেল হিসেবে মনে করেন বলে আইএমএফ এমডি উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস-ঘূণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের কাছে অনেক দেশ শিখতে পারছে বলেও এমডি জানান। উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অনুকরণীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিশ্বের অনেক অংশে-একথাও বলেছেন এমডি।
বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কি কি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা সবিস্তারে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। প্রথম অর্থ সচিব, ইআরডি সচিব পর্যন্ত এখন নারীরা। এছাড়া ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রাম পর্যায়ে চালু হওয়ায় সকল মানুষ তাদের সুযোগ-সুবিধার তথ্য যেমন জানতে সক্ষম হচ্ছেন, একইভাবে সরকার প্রদত্ত অর্থ সহায়তাও সরাসরি হাতে পাচ্ছেন।
আইএমএফ এমডি বলেছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কানেকটিভিটি এবং আইনের শাসন বাংলাদেশে বহাল থাকার কারণে আজকের এত উন্নতি। এ সময় শেখ হাসিনা তাকে জানান যে, আজকের যে উন্নতি সেটি হঠাৎ করে আসেনি। তাঁকে যখন গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সে সময়েই তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে যদি তিনি ক্ষমতায় আসেন তাহলে কীভাবে বাংলাদেশকে গরিবের অপবাদ ঘুচিয়ে উন্নয়নের তিলক পরানো যাবে। এখন সে অনুযায়ী তিনি কাজ করছেন বলেও বাংলাদেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছেন।
বিশ্বব্যাংকের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে এসেছেন। ১ মে সোমবার বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশিদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত থাকবেন শেখ হাসিনা। এছাড়া, দ্বি-পাক্ষিক এবং বিনিয়োগ সম্পর্কিত কয়েকটি কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ২ মে প্রবাসীদের এক সমাবেশেও ভাষণ দেয়ার কথা শেখ হাসিনার। ৪ মে তার লন্ডনের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগের কথা।



