Advertisement Placeholder

হত্যাকাণ্ডের ৮ দিনেও শনাক্ত হয়নি ঘাতক : জেমসের জানাযা পরিণত হলো বিক্ষোভ সমাবেশে

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি   |   রবিবার, ১৪ মে ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৭৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হত্যাকাণ্ডের ৮ দিনেও শনাক্ত হয়নি ঘাতক :  জেমসের জানাযা পরিণত হলো বিক্ষোভ সমাবেশে

পেনসিলভেনিয়া স্টেটের ফিলাডেলফিয়া সিটি সংলগ্ন আপার ডারবির সকলের প্রিয় এবং সুদর্শন আরিফুল হক জেমস (৩১) কে দুর্বৃত্তরা নির্দয়ভাবে প্রহার করে হত্যার ৮ দিনেও দুর্বৃত্ত/ঘাতকদের শনাক্ত করতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। এর ফলে সমগ্র কম্যুনিটিতে সৃষ্ট ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে ১২ মে শুক্রবার জেমসের জানাযায়। আপার ডারবিতে আলমদিনা মসজিদ প্রাঙ্গনে এই জানাযায় শতশত শোকার্ত মানুষের ক্ষুব্ধ হয়ে উঠার সাথে সাথে পুত্রের লাশ সামনে রেখে বাবা তোজাম্মেল হক তোজা এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে ফিলাডেলফিয়া সিটির কাউন্সিলওম্যান অ্যাট লার্জ পদপ্রার্থী ড. নীনা আহমেদসহ অনেকেই অবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ‘আর যাতে কোন বাবার সন্তানের এমন মৃত্যুর শিকার হতে না হয় সেজন্যেই সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বিচার দাবিতে’-অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন জেমসের বাবা এবং বিটিএসপির সাবেক সভাপতি তোজাম্মেল হক তোজা।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা এবং ফিলাডেলফিয়াবাসীর প্রিয় নেতৃ ড. নীনা বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পুলিশের পাশাপাশি কম্যুনিটির সকলকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে দুর্বৃত্তদের শনাক্তে। জেমসের ঘাতকেরা গ্রেফতারের পর দৃষ্টান্ততমূলক শাস্তির সম্মুখীন হলে ভবিষ্যতে অন্যেরা সাবধান হবে অর্থাৎ কম্যুনিটিকে আর এমন নিদারুণ কষ্টের পরিস্থিতির ভিকটিম হতে হবে না।

আরিফুল হক জেমস ৫ মে শুক্রবার বাসা থেকে বের হবার পর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন ভোরে স্থানীয় টেম্পল হাসপাতালে মুমুর্ষাবস্থায় জেমসকে ভর্তি করে স্থানীয় পুলিশ। এরপর জেমসের পরিবারকে বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয় শনিবার সকাল ১১টার দিকে। ৮ মে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জেমসকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা আরো জানান যে, মাথা এবং বুকে প্রচন্ড আঘাত এবং রক্তপাতে জেমসের মৃত্যু হয়েছে। হকিস্টিক দিয়ে জেমসকে পেটানো হয় বলে সকলের ধারণা। পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী দুর্বৃত্তরা আরিফকে বেধড়ক পিটিয়ে অচেতন করার পর ফিলি এলাকায় রাস্তার পাশে পার্ক করা দুটি গাড়ির মধ্যখানে ফেলে যায়। অর্থাৎ সহজে যাতে পথচারিদের দৃষ্টিতে না পড়ে।

জেমসের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর ১২ মে শুক্রবার বাদ জুমআ জানাযা অনুষ্ঠিত হলো। সেখানে এলাকার হাজারো মুসল্লী ছাড়াও ভিনদেশীরাও জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে। উল্লেখ্য, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ভাতকুড়ি গ্রাম থেকে বেশ ক’বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসে জেমসের বাবা সপরিবারে ফিলাডেলফিয়ায় বসতি গড়েছেন। দুই ভাই, এক বোনের জেষ্ঠ্য ছিলেন জেমস।

জানাযায় ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলের প্রবাসীদের ২৭টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ছিলেন সাধারণ মানুষেরাও। ছিলেন আপার ডারবিসহ আশপাশের সিটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও। জানাযার পর জেমসকে দাফন করা হয় মসজিদের পাশেই ‘ফ্রেন্ডস কবরস্থানে’।

ফিলাডেলফিয়ার সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম আরিফ আরো জানান, কয়েক বছর আগে আরেকজন প্রবাসী এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছিলেন। সমগ্র কম্যুনিটি সোচ্চার থাকায় ওই ঘাতককে আটলান্টা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তদন্ত কর্মকর্তারা। জেমসের ঘাতকরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে জানাযায় অংশগ্রহণকারী বিশিষ্টজনেরা উল্লেখ করেন। প্রবাসী নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফিলডেলফিয়া সিটি এবং আশপাশের এলাকায় আইন-শৃক্সখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সিটি ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তারা উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন দুর্বৃত্ত দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার