
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | সোমবার, ০৩ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট | ১৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউজার্সির আটলান্টিক সিটির জিম হুয়েলান বোর্ডওয়াক হলে চলমান ৩দিনব্যাপী ৪৩তম বঙ্গ সম্মেলনে শনিবার ১ জুলাই বিকেলে ‘ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট পার্টিশন ডকুমেন্টেশন প্রজেক্ট’ (ওঝচধউ)-এর উদ্যোগে এক আলোচনায় ‘বাংলাদেশে কয়েক যুগ ধরে অব্যহত সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে আর সময়ক্ষেপণ না করে ২০১৮সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র অঙ্গীকার ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ বিলটি জরুরি ভিত্তিতে পাস করা দরকার বলে মন্তব্য করা হয়।
ইন্ডিয়ানসাব-কন্টিনেন্ট পার্টিশন ডকুমেন্টেশন প্রজেক্ট’র চেয়ারম্যান ড. দিলীপ নাথের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা এবং একুশে পদক প্রাপ্ত লেখক ও কাউন্সিলম্যান ডক্টর নূরন নবী, ডিষ্টিংগুয়িশড্ প্রফেসার, মানবাধিকার প্রবক্তা ও লেখক ডক্টর সব্যসাচী দস্তিদার, লেখক, চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ তথাগত রায়, লেখক, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী শিতাংশু গুহ, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, এটর্ণি ও মানবাধিকার কর্মী অশোক কর্মকার, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মানবাধিকার কর্মী ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য এবং অর্কিটেক্ট ও মানবাধিকার কর্মী উৎসব চক্রবর্তি।
সভায় বক্তারা এবার সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজকে নির্বিঘ্নে পূজা এবং শারদোৎসব উদযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। বক্তারা বলেন, সরকার চাইলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ঠেকানো সম্ভব। তারা বলেন যে, ২০১৩ সালে রামুর বিভৎসতা থেকে শুরু করে ২০২১ সালের পুজা পর্যন্ত কিছুদিন পর পর ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী, মৌলবাদী ও উগ্রপন্থী চক্র দেশেরসংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের উপর বর্বর অত্যাচার করে আসছে, সরকারের উচিত ভবিষ্যতেএ ধরণের সা¤প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহাওে প্রতিশ্রুত ‘সংখ্যালঘু কমিশন’ ছাড়াও আরও কিছু আইনকে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’র অন্তর্ভুক্ত করে একটি কঠোর বিল পাস হলে সংখ্যালঘুরা কিছুটা রেহাই পেতে পারে, কারণ তখন নির্যাতকদের বিচার হয়ে শাস্তি পাওয়ার ভয় থাকবে।
বক্তারা বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে, নির্বাচনের আগে-পরে সংখ্যালঘুরা যাতে নির্যাতিত না হয়, সরকারকে এ বিষয়ে এই বিল পাস করার মাধ্যমে সতর্ক হতে হবে। বক্তারা সবাই স্বীকার করেন যে, সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-ভিত্তিক ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর সুযোগ নিয়ে সংবিধানের ৮ম সংশোধনী বাতিল করা উচিত ছিলো, যা না হওয়ায় সা¤প্রদায়িক সন্ত্রাস বহুগুন বেড়ে গেছে। সরকার ২০১৮ নির্বাচনের পরপরই ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনটি প্রণয়ন করলে সা¤প্রদায়িক সন্ত্রাস এতটা বাড়তো না। তাঁরা বলেন, তাই অবিলম্বে এই আইনটি প্রণয়ন করা হউক।
বৈঠকে ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ জানান যে, ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনটি যাতে প্রকৃতই একটি টেকসই আইন হয়, অর্থাৎ সংখ্যালঘু নির্যাতন চিরতরে বন্ধ করতে সক্ষম হয়, এবং ভবিষ্যতে সামপ্রদায়িক সহিংসতা ঠেকাতে পারে এজন্য এতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা থাকা চাই। সভায় এই আইনের একটি খসড়া কিছুটা পড়ে শোনানো হয় এবং জানানো হয় যে, এই খসড়াটি ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। সভা সর্ব্বসম্মতিক্রমে এমন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।



