
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | সোমবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৩ | প্রিন্ট | ৪২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা অফিসে পুলিশী অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা আর ধিক্কার উঠেছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্ণাল, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট-সহ সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরতরা অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, ক্যানসাস স্টেটের ছোট্ট একটি শহর থেকে প্রতি বুধবার প্রকাশিত হয় ‘দ্য ম্যারিয়ন কাউন্টি রেকর্ড’ নামক একটি সাপ্তাহিক।
ব্যক্তি মালিকানার পত্রিকাটির সার্কুলেশন মাত্র চার হাজার। এই পত্রিকায় স্থানীয় একটি রেস্ট্ররেন্টের অনিয়মের উপর গত বুধবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই রেস্টুরেন্টের মালিকের দায়ের করা অভিযোগের পর শুক্রবার পত্রিকাটির অফিসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কম্প্যুটার, সার্ভার, সম্পাদক ও সাংবাদিকের সেলফোন আটক করেছে। শুধু তাই নয়, পত্রিকাটির মালিক এবং সম্পাদকের বাসায়ও অভিযান চালানো হয়। এই সিটির একজন কাউন্সিলওম্যানের বাসায় তছনছ করেছে সিটির পুলিশ।
উল্লেখ্য, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পুরনো ঐতিহ্য রয়েছে। এমনি অবস্থায় এই অভিযানের সংবাদে সর্বত্র ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
একটি রেস্টুররেন্টের গোপন তথ্য প্রকাশ করে পত্রিকাটি ওই রেস্টুরেন্ট মালিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লংঘন করা হয়েছে বলে মনে করেই পুলিশ এ অভিযান চালায়-যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হামলার সামিল। এর আগে ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্যান্সিসকো সিটিতে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ব্রায়ান কারমোডির বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। সেই সাংবাদিক পাবলিক ডিফেন্ডার জেফ এডাসির মৃত্যু রহস্য নিয়ে রিপোর্ট করেছিলেন।
মাঝেমধ্যেই স্থানীয় এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে কোনো সংবাদ প্রকাশ এবং প্রচারিত হলেই সংশ্লিষ্ট মহল সংবাদপত্র/টিভি এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেন। তবে এবারের ঘটনাটি অতীতের সকল বর্বরতাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কানসাস প্রেস এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক এমিলি ব্র্যাডবারী। তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর এটি হচ্ছে ভয়ংকর একটি হামলার ঘটনা। এটা ঠিক নয়। এটা নিতান্তই ভুল। একে চলতে দেয়া যায় না। এটা রুখতে হবে সকলকে।
পত্রিকাটির মালিক এবং সম্পাদক এরিক মায়ার ১৩ আগস্ট প্রদত্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমরা কোন ভুল করিনি, অন্যায়ও করিনি। কারণ, প্রকাশিত সংবাদে সরকারের গোপন কোন তথ্য-সম্বলিত ডক্যুমেন্ট ছাপানো হয়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে অনিয়ম-অনাচারের ডক্যুমেন্ট হাতে পেলেও আমরা তা ছাপাইনি। তবে সেই ডক্যুমেন্টের সত্যতা যাচাইয়ের পরই সংবাদটি ছাপানো হয়েছে।
অপরদিকে, পত্রিকার অফিস, সম্পাদক/প্রকাশকের বাসায় অভিযানকে সঠিক বলে দাবি করেছেন ম্যারিয়ন সিটি পুলিশের প্রধান গিডিয়েন কোডি।
অভিযানের ব্যাপারে প্রদত্ত বিবৃতিতে সারাবিশ্বের সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন নিউইয়র্কভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সিপিজে’র (কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিষ্টস) পক্ষ থেকে রোববার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সিপিজের প্রেসিডেন্ট জডি হিন্সবার্গ বলেছেন, ম্যারিয়ন কাউন্টি রেকর্ড পত্রিকার অফিসে অভিযান চালানোকে কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়নি। তা একেবারেই অমার্জনীয় অপরাধের সামিল। নির্ভয়ে সত্য সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ অব্যাহত রাখার পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের।
আদালতের নির্দেশ ব্যতিত পত্রিকার অফিসে অভিযান চালানো এবং সাংবাদিকের কম্প্যুটার, সেলফোন আটকের এখতিয়ার নেই কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারই। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সে নিশ্চয়তা দিয়েছে। এতদসত্তে¡ও ম্যারিয়নের পুলিশ কিভাবে এমন আচরণ করলো তা এখন সকলের প্রশ্ন। সিপিজের প্রেসিডেন্ট জডি হিন্সবার্গ এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পুলিশের এহেন আচরণে হতভম্ব হওয়া পত্রিকাটির পার্টনার ৯৮ বছর বয়সী যোন মেয়ের শনিবার অপরাহ্নে পরলোকগমন করেছেন।



