সোমবার ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাথে বৈঠক : দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট  

যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাথে বৈঠক :  দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে বলে আশ্বাসস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সময়কালে পূজার সংখ্যা বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সে অধিকার সংহত রাখতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায় একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় উত্থাপিত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের দাবি প্রসঙ্গে ষ্পষ্ট কিছু না বললেও পুরো বিষয়টি তিনি শুনেছেন। গত ১৫ বছরে সংখ্যালঘুদের জন্য কি কি করেছেন তার একটি পরিসংখ্যানও বৈঠকে তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে সংগঠনটির পক্ষে অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, শিতাংশু গুহ, রূপ কুমার ভৌমিক, ড. দিলীপ কুমার নাথ, শ্যামল চক্রবর্তী ও শুভ রায় অংশ নেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত এ সংবাদদাতাকে জানান, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। তিনি আমাদের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলেছেন। ঐক্য পরিষদের অপর নেতা শিতাংশু গুহ বলেন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও আগামী শারদীয় দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

ড. দিলীপ নাথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশের দাবি জানিয়েছেন। কারণ, যে হারে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিলুপ্তি ঘটছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০/২৫ বছর পর বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু খুঁজেই পাওয়া যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি কী টেকসই উন্নয়নের সহায়ক? গণতান্ত্রিক পরিবেশকেও কী প্রশ্নবিদ্ধ করবে না? এমন অভিমত আমরা পোষণ করেছি বঙ্গবন্ধু কন্যা সমীপে। তিনি অত্যন্ত সহানুভ’তি প্রকাশ করেছেন আমাদের আবেদনের প্রতি। রুপ কুমার ভৌমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, বিএনপি-জামাতের অত্যাচারে অনেকেই দেশ ছেড়েছিল। তারা চেষ্টা করছেন পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে। এজন্য বহুজন ভারত থেকে ফিরেছেন। একইসঙ্গে দেশে পূজার সংখ্যাও বেড়েছে।

এর আগে একই সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন নেতারা। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ২০১৯ সালে সংসদের প্রথম অধিবেশনে পুরণ করা হলে ধর্মীয় মৌলবাদী ও উগ্রপন্থীরা ২০২০ সালে মুরাদনগরে কিংবা ২০২১ সালে কুমিল্লায় শারদোৎসবে নারকীয় তান্ডব চালানোর দু:সাহস তো করতই না, এতদিনে হয়তো সম্পূর্ণভাবে বন্ধই হয়ে যেত সংখ্যালঘু নির্যাতন, যেমন বন্ধ হয়ে গেছে এ্যাসিড সন্ত্রাস।

প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাঁচ বছর পরও আইনটি পাশ না করা এবং ২০১১ সালে কয়েক হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতককে সনাক্ত করে জজ সাহাবুদ্দীন কমিশন যে তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল তাদের বিচার এখনও শুরু না করায় গভীর হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করে নেতারা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেতার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রধর্ম আইন পাশ করাসহ ধর্মীয় মৌলবাদীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। নেতারা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যেসব কথা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও তারা একই কথা বলেছেন। কিন্তু সংখ্যালঘুদের জন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী অধিবেশনেই সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করবেন কি না –এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৫৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar