
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | ১০১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাথিক্স কমিটি (নীতি-নৈতিকতা যাচাই কমিটি) কর্র্তৃক নিজের পরিচয় প্রদানে মিথ্যাচার, নির্বাচনী তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ বিদ্যমান আইন লংঘনের ‘গুরুতর অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জর্জ স্যান্টোস ২৫ নভেম্বর গণমাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে পিলে চমকানোর অভিযোগ উত্থাপন করে বলেছেন যে, ‘এটি ত্রুটিপূর্ণ, উদ্দেশ্যমূলক। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে করা হয়েছে। আমাকে কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেয়ার মতলবে এমন রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। তদন্তের নামে তারা বিশেষ একটি মতলবে তাড়িত হয়েছেন। সত্য উদঘাটনের ধারেকাছেও ছিলেন না।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে (নিউইয়র্ক-৩ ) রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসম্যান হওয়ার পর গত তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী তহবিলের যথেচ্ছার, নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং আরো কিছু অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠে। প্রাথমিক পর্বে অভিযোগগুলো সত্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রতিনিধি পরিষদের আথিক্স কমিটি ১০ মাস আগে তদন্ত শুরু করেছিল।
গত ১৬ নভেম্বর সেই কমিটি জর্জ স্যান্টোসের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেয়। সেই রিপোর্টে ক্ষ্রিপ্ত হয়েই শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ প্রদত্ত সাক্ষাতকারে স্যান্টোষ আরো বলেছেন, ‘কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে অনেক অপরাধী আছেন। সেখানে নানা ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকজনও আছেন। এমনি অবস্থায় জর্জ স্যান্টোসের মত একজন মানুষ কংগ্রেসের সদস্য হয়েছেন, এটি তারা মানতে নারাজ। এ ধরনের নোংরা, ভণ্ড মানসিকতার লোকজনের সাথে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। জর্জ স্যান্তোষ আরো অভিযোগ করেছেন, ‘নগদ অর্থের লোভে অনেকে আমাকে কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। কারণ তারা লবিস্টের নামে মোটা অর্থ নিয়ে বিলাসিতা করছেন, মাতাল হয়ে হোটেল-মোটেলে মনোরঞ্জন করছেন। তারা আমেরিকানদের বিক্রি করছেন। তারা মনে করেন যে, আমরা তার কিছুই জানি না। এমন কান্ড-কারখানা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমি তার প্রতিবাদ করেই যাবো।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জর্জ স্যান্টোসের বিরুদ্ধে আদালতেও মামলা হয়েছে। সেখানেও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাথিক্স কমিটির রিপোর্টকে তিনি আমলে নিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি তাকে পেতে হবে বলে আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন। তবে সামনের বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি পুনরায় লড়বেন না বলে এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই জানিয়ে দিয়েছেন।এতদসত্বেও কেন সহকর্মীদেরকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর মত অভিযোগ করছেন-তা নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠেছে। এমন অভিযোগের পক্ষে অ্যাথিক্স কমিটি হয়তো তা কাছে তথ্য-উপাত্ত চাইতে পারে। তা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরো গুরুতর অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলেও আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এখন রিপাবলিকানদের দখলে। তাদেরই নেতৃত্বাধীন অ্যাথিক্স কমিটি নবাগত একজনকে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত করায় ওই আসনটি নিশ্চিতভাবেই ডেমক্র্যাটদের দখলে যাবে বলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।



