Advertisement Placeholder

পাসপোর্ট ইস্যুর ৬১ বছর পর ধরা পড়লো ত্রুটি!

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পাসপোর্ট ইস্যুর ৬১ বছর পর ধরা পড়লো ত্রুটি!

১০ বার পাসপোর্ট নবায়নের পর একাদশতম বারে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট তথা ইউএস ইমিগ্রেশন বিভাগ স্বীকার করলো যে, পাসপোর্ট-টি ভুলে ইস্যু হয়েছে। ৬১ বছর বয়েসী সেই সিবাশ সোবহানীকে এখন গ্রীনকার্ডের আবেদন করতে বলা হয়েছে। যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণকালে সোবহানীর বাবা ওয়াশিংটনে ইরানের দূতাবাসের কূটনীতিক ছিলেন। রীতি অনুযায়ী বিদেশি কোন কূটনীতিকের সন্তান (যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায় না। উল্লেখ্য, সোবহানী নর্দান ভার্জিনিয়ায় ৩০ বছর যাবৎ চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। ৬১ বছর পর তিনি দেশহীন নাগরিকে পরিণত হবার দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির ধারাবিবরণী প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। সাম্প্রতিক সময়ে ইউএস পাসপোর্ট নবায়ন ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন অনেক অবিশ্বাস্য বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। সিটিজেনশিপের আবেদন এবং পারিবারিক কোটায় নিকটাত্মীয়দেরকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার আবেদনের প্রক্রিয়াতেও নানা অসঙ্গতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোবহানী ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি নতুন পাসপোটের জন্যে আবেদন করেন। জুন মাসে পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। এজন্যে আগেই নতুন পাসপোর্টের জন্যে আবেদন করেন। কারণ ছেলের বিবাহ উপলক্ষে পাত্রী দেখতে জুলাই মাসে পর্তুগালে যেতে হবে। তাই ঝক্কি-ঝামেলার পরিবর্তে আগেই নতুন পাসপোর্ট হাতে পাবেন বলে আশা ছিল। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন যে, তার জন্মের সময় বাবা ছিলেন ইরানি কূটনীতিক। তাই তাকে গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে হবে।

ইন্টারনাল মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ সোবহানী চিঠি পেয়েন হতভম্ব। কারণ এদেশেই জন্ম, বেড়ে উঠা, শিক্ষা গ্রহণ এবং চাকরিকালীন প্রতি বছরই ট্যাক্স প্রদান করছেন। বেশ কবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। করোনাকালে জীবনবাজি রেখে ভার্জিনিয়ার লোকজনকে চিকিৎসা সেবা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এ অবস্থায় পরিস্থিতিতে তিনি নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন। জর্জ টাউন মেডিকেল স্কুল থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে গ্র্যাজুয়েশনকারী ডা. সোবহানী মানতে চান না যে, এটা একটা সাধারণ ভুল। তিনি স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাকে পরামর্শ দিয়েছেন গ্রীণকার্ডের আবেদন করতে। সে অনুযায়ী তিনি এটর্নী নিয়োগ করেছেন।

কিন্তু স্বস্তি পাচ্ছেন না, ৩০ বছরের কর্মজীবনে যে সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বরের বিপরীতে ট্যাক্স দিয়েছেন, তার সুফল পাবেন কিনা। তার স্ত্রীর ভাগ্য কী হবে। সামনের বছর পুত্রের বিয়ে-তে ইউরোপে যাওয়া সম্ভব হবে কিনা। গ্রীণকার্ডের আবেদনটি ত্রান্বিত করতে ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন এটর্নী ফি বাবদ। তার কারণে তারিখ পিছিয়ে দেয়া পুত্রের বিয়ে-তে তিনি পর্তুগালে যেতে পারবেন এটাই প্রত্যাশা তার।

উল্লেখ্য, চলতি নভেম্বরেই সোবহানীর বয়স ৬২ হয়েছে। সহসা অবসরে যাবার কথা ভাবছিলেন। স্ত্রী-সহ কয়েকটি দেশ পরিভ্রমণের কথা ছিল। সুন্দর পরিবেশে স্বপ্নের বাড়ী ক্রয় করতে চান বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে। ইমিগ্রেশন বিভাগের ভুলে সবকিছু ভণ্ডুল হতে চলেছে। তার শ্বশুর গুরুতরভাবে অসুস্থ। থাকেন লেবাননে। তাকে শেষবারের মত দেখার প্রত্যাশাও এখন মিলিয়ে যেতে বসেছে। শ্বশুর যদি মারা যান, তার দাফন-কাফনেও যেতে পারবেন বলে সোবহানী মনে করছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোবহানী খুবই ব্যথিত, দুঃখিত এবং হতাশায় নিপতিত।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার