সোমবার ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লসএঞ্জেলেসে বিজয় র‌্যালিতে বঙ্গবন্ধু-ভাসানীর প্রতিকৃতির লেশমাত্র নেই!

শুধু জিয়া-খালেদা-তারেকের ছবি-স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট  

শুধু জিয়া-খালেদা-তারেকের ছবি-স্লোগান

জিয়াউর রহমানের ছবি প্যারেডের ফ্লোটে। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

লসএঞ্জেলেস বিজয় দিবসের র‌্যালিতে নেই বঙ্গবন্ধু। ছিল না মজলুম জননেতা ভাসানীর কোন ছবি। ছিল জিয়া, খালেদা এবং তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ফ্লট। এমনকি ‘বাংলার বিজয় বহর’ নামক এই কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগানও উঠেছিল। অথচ এই বিজয় বহরে ‘প্যারেড মার্শাল’ ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দাবিদার সোহেল রহমান বাদল। বহরের পেছনের অংশের একটি গাড়ি চালাচ্ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের অর্থসচিব জাহাঙ্গীর আলম। ভিডিওতে পুরো প্যারেড ধারণকারীকে শুনিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, এই ছবি-ব্যানার লাগাইছে কেন এখানে? আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ থেকে।’ প্রতিবাদে তিনি অবশ্য প্যারেড বর্জন করেননি। এই প্যারেডে আরও ছিলেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৈয়দ এম হুসেন বাবু। অবলিলায় তারা বিএনপির পুরো নিয়ন্ত্রণের এই প্যারেডে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে লিটল বাংলাদেশ এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও ছিলেন আওয়ামী লীগের কথিত অনেকে সপরিবারে। উল্লেখ্য, ১৭ ডিসেম্বর রবিবারে এটি ছিল ১৩তম বাংলার বিজয় বহর। এর আয়োজক কমিটির সভাপতি ইসমাইল হুসেন এবং সেক্রেটারি ওয়াহিদুজ্জামান-উভয়েই বিএনপির স্থানীয় নেতা। গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলওম্যান হেদার হাট। অতিথির মধ্যে আরও ছিলেন সিটি অব প্যারিসের মেয়র মাইকেল ভার্গাস, আর্টিশিয়ার মেয়র সাজ্জাদ আলী তাজ এবং নেবারহুড কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ফিলিপস আরমস্টন। অর্থাৎ এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের জাতিরপিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিসম্বাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ‚মিকা সম্পর্কে তেমন একটা জানতে সক্ষম হননি বলে সহজ-সরল প্রবাসীরা এ সংবাদদাতার কাছে মন্তব্য করেছেন। আয়োজকরা দাবি করেছেন যে, বিজয় বহরে দুই শতের মত ফ্লট ছিল। এই প্যারেডে অংশগ্রহণকারি মুজিব (?) সৈনিকের কেউ কেউ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধিক্কার ধ্বনি, নিন্দাসূচক মন্তব্য করছেন বলে জানা যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের মোরদ ছিল না শুরুতেই সাহসী উচ্চারণের। কারণ, প্যারেডের নামে যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি, তারেক রহমানের প্রশংসা উচ্চারিত হবে-এটি প্রচারণা-পোস্টারেই দৃশ্যমান হয় কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই। এমনকি, মুজিব আদর্শ লালনকারি মোমিনুল হক বাচ্চু, কাজী মশহুরুল হুদার নেতৃত্বে লিটল বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে ১০১ ফ্রি ওয়ের ওপর লাল-সবুজ বেলুনসহ বাংলাদেশের পতাকা জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেওয়ার পৃথক একটি কর্মসূচিতেও তারা অংশগ্রহণের তাগিদ বোধ করেননি সে সব আওয়ামী লীগাররা। বাচ্চু-হুদার কর্মসূচিতে দেখা গেছে প্রবাস প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদেরকেও। এটাই আশার কথা এবং এই ধারাতেই লসএঞ্জেলেস ডাউন টাউনে বাঙালি পাড়ায় একসময় সত্যিকারের বিজয় দিবস বিপুল উৎসাহে উদযাপিত হবে বলে বিদগ্ধ প্রবাসীরা মনে করছেন।
বাংলার বিজয় বহরের কথিত কালচারাল শো-তে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল মাহমুদ জামিকে বিশেষ সম্মান জানানো হয় সকলে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জ্ঞাপণের মাধ্যমে। এ সময় সাজিয়া হক মিমি ও মিঠুন চৌধুরীকে ‘দশকের সেরা উপস্থাপক’ এবং মেহদী হাসানকে ‘রোমিং অ্যাম্বাসেডর’ খেতাবে ভ‚ষিত করা হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন হাফিজুর রহমান, উর্মি আতাহার, কাবেরী রহমান, সার্থী বড়ুয়া, সিমি ইসরায়েল, আরজিন কামাল। নৃত্য পরিবেশন করেন সানতিপা রিম্পি। অতিথি শিল্পীর মধ্যে ছিলেন শাহ মাহবুব এবং নাজ আহমেদ।
বাংলার বিজয় বহরের সহ সভাপতি সুলতান শাহরিয়ার বাবু বলেন, দল-মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও শান্তির স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা তলে উপস্থিত হয়ে প্রবাসে একখন্ড বাংলাদেশ আজ তুলে ধরেছেন সকলে। আজ আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন আজও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। আমাদের দেশে এখনো গণতন্ত্রের চর্চা নেই, আইনের শাসন নেই, দুর্নীতি ও অনিয়ম বিরাজমান। তাই আমাদের সবার উচিত এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করা।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ লসএঞ্জেলেস (বালা)’র সাংগঠনিক সম্পাদক আহতাশামল হক শ্যামল জানান, এবারের আয়োজন অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত, এবার লোক সমাগমও অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বাংলার বিজয় বহরে উপদেষ্টা সৈয়দ এম হোসেন বাবু বলেন, যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন হচ্ছে সেই সঙ্গে আমাদের নতুন প্রজন্মের রং ও তুলিতে স্বাধীনতা ও মক্তিযুদ্ধ ফুটে উঠেছে।
বাংলার বিজয় বহরে চ্যান্সেলর ডা. মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ বলেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য ও বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন আজ।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বাংলার বিজয় বহরের উপদেষ্টা সৈয়দ এম হোসেন বাবু বলেন, আজকের এই মহান বিজয় দিবসে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনিই ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তির মহান নেতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন আজ।
বিজয় বহরের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। বিজয় দিবস বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে একটি গৌরবময় দিন। এই দিনেই পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম লেখা হয়। বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান নিরু বলেন, বিজয় দিবসের এই দিনে আমরা আবারও স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস। আমরা জানি, এই বিজয় আসেনি সহজে। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা এ বিজয় অর্জন করি। এই বিজয়ের নেপথ্যে রয়েছে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ ও বীরত্ব।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহেদুল মাহমুদ জামি বলেন, বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে এনেছি আমরা। বাংলাদেশের এই যুদ্ধ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জন্য যুদ্ধ। পরাধীনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ, মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য যুদ্ধ। মহান বিজয় দিবস আমাদের জন্য একটি আনন্দের দিন। এই দিনটিতে আমরা আনন্দ-উৎসব করি। আমরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাই। আমরা আমাদের বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করি।
বাংলার বিজয় বহরের প্রাক্তন আহবায়ক আবু হানিফা, নতুন প্রজন্ম আরিফুল নীরব, শামসুদ্দিন মানিক, সাংবাদিক মো. জাফরুল্লাহ, ডা. মোয়াজ্জেম ও ডা. রুবী হোসেন, কে এম জামান, ইয়াহিয়া, সৈয়দ দিলির হোসেন দিলির, অভিনেত্রী নিপা মোনালিসাও নিজনিজ মতামত ব্যক্ত করেন বিজয় দিবস আলোকে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:০৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar