Advertisement Placeholder

মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি ড. শিকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৫০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি ড. শিকদার

বক্তব্য দিচ্ছেন কংগ্রেস প্রার্থী ড. শিকদার। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়া কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১২ থেকে লড়ছেন ড. আব্দুর রহমান শিকদার। ডেমক্র্যাটিক পার্টির তৃণমূলের এই বাংলাদেশি আমেরিকানের নির্বাচনী তহবিল গঠন উপলক্ষে ৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বরিশালের সন্তান ড. শিকদারের জন্যে এ আয়োজনের নেপথ্য সংগঠকগণের মধ্যে ছিলেন জাকির হাওলাদার, লুৎফর রহমান লাতু, রিমন ইসলাম, মাহবুবুর রহমান এবং মোশারফ হোসেন। তবে উপস্থিতি ঘটেছিল কম্যুনিটির সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারিগণের। সকলেই সমস্বরে উচ্চারণ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসে আজ অবধি হান্ড্রেড পার্সেন্ট বাংলাদেশি আমেরিকানের সুযোগ ঘটেনি। সেই অভাব কাটিয়ে উঠতেই ড. শিকদারের বিজয়ে সকলে সাধ্যমত সরব থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া, সিলিকনভ্যালী খ্যাত সানফ্রান্সিসকো বে এলাকার অ্যকলান্ড সিটিতে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-রাহাজানি কমাতেও সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা গ্রহণের অঙ্গিকারও করেছেন ড. আব্দুর শিকদার।
সাংবাদিক রিমন ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মূলধারার রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ। তিনি সকলকে আহবান জানিয়েছেন আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের সিঁড়ি হিসেবে কংগ্রেসে অন্যতম অবলম্বন হিসেবে ড. শিকদারের বিজয়ে সকলকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে।
ড. শিকদারকে বিজয় দেয়ার সংকল্প ব্যক্ত করে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলম, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের উপদেষ্টা ফাহাদ সোলায়মান, ডেমক্র্যাট এডভোকেট মুজিবুর রহমান, ডেমক্র্যাট আহনাফ আলম, বাংলাদেশ প্রতিদিন উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নির্বাহী সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, অনুষ্ঠানের হোস্ট জাকির হাওলাদার, কম্যুনিটি লিডার লুৎফর রহমান লাতু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, মূলধারার রাজনীতিক দেলোয়ার মানিক, নীরা রাব্বানী প্রমুখ।
বক্তব্যকালে লাবলু আনসার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বর্তমানে ৪৫ বাংলাদেশি আমেরিকান রয়েছেন যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্তত: দুটি সিটির পুরো নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকানরা। জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে রয়েছেন ৪ প্রবাসী এবং নিউ হ্যামশায়ার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ হচ্ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা আরো জোরদারকল্পে দরকার সকলের ঐক্য।
বাংলাদেশের রাজনীতির বিভক্তি দূরে ঠেলে সকলের উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার উদাত্ত আহবান জানিয়ে ডেমক্র্যাট ও কম্যুনিটির বিশিষ্ট আইনজীবী মুজিবর রহমান বলেন, বিভক্ত নয়, সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার গুণ রয়েছে এমন ব্যক্তিকে সম্মুখে এগিয়ে দেয়া জরুরী।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ড. শিকদার জানান, এলাকার কংগ্রেসওম্যান বারবারা লী ইউএস সিনেটে লড়ছেন বলে আসনটি খালি হয়েছে। বিশ্বখ্যাত বার্কলে ইউনিভার্সিটি এবং তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্ব রাজধানী হিসেবে খ্যাত সিলিকন ভ্যালি নিয়ে গঠিত সানফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার এ আসনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় নিপতিত হলেও কেউই তা আমলে নিচ্ছেন না। ফলে অসহায় নাগরিকেরা এক ধরনের জিম্মি দশায় দিনাতিপাত করছেন। সেই ইস্যুটিকে আমি প্রাধান্য দিচ্ছি।
বহুজাতিক একটি সমাজের মানুষেরা, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গরা কেন তাকে ভোট দেবেন সে প্রসঙ্গে ড. শিকদার বলেন, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে স্কুল বোর্ড পরিচালনা পর্যদ এবং কাউন্টি এডুকেশন বোর্ডে, তখোন আমি ৮ হাজারের অধিক ভোট পাই সে পদে বহাল থাকা একজনের বিরুদ্ধে। সে সময় আমি ১০ জন ভোটারকেও চিনতাম না। ভোটারের সিংহভাগই শ্বেতাঙ্গ। আমি একজন অধ্যাপক, গবেষক, এবং আমার সন্তানেরা ঐ সমাজে বেড়ে উঠছে, এসব বিষয়কে ভোটারেরা গুরুত্ব দিয়েছেন। অপরদিকে, আসন্ন প্রাইমারিতে আমার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন আফ্রিকান আমেরিকান মহিলা, যার ব্যাকগ্রাউন্ড খুবই দুর্বল, বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, এছাড়া গত ২৬ বছর ধরে বারবারা লী নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, কিন্তু জননিরাপত্তা নিয়ে ন্যূনতম দৃষ্টি দেননি। গত বছর এই এলাকায় ১২৬ জন খুন হয়েছে, হাজারো গাড়ি চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ নির্বাচনী এলাকার অ্যকল্যান্ড সিটির বাসিন্দা হচ্ছে সাড়ে চার লাখেরও কম। তাহলে দেখুন কতটা নাজুক অবস্থায় নাগরিকেরা। আমি নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে এহেন পরিস্থিতির অবসানে চেষ্টা করবো-এটা এলাকার মানুষের প্রত্যাশা। ড. শিকদার উল্লেখ করেন, বিদায়ী কংগ্রেসওম্যান বারবারা লী আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি (লতিফা সাইমন )কে সাপোর্ট দিচ্ছেন, লতিফাও আফ্রিকান-আমেরিকান, অর্থাৎ রেজাল্ট একই হবে। আমি নাগরিকগণের মৌলিক সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এলাকাবাসী উপলব্ধি করতে সক্ষম যে, মানুষের কল্যাণে আমার যোগ্যতা অনেক বেশি।
ড. শিকদার উল্লেখ করেন, আমাদের মত অসহায় ইমিগ্র্যান্টদের জন্যে সত্যিকারের কোন প্রতিনিধিত্ব কংগ্রেসে নেই। সেই শুন্যতা পূরণের অভিপ্রায়ে শূন্য হওয়া আসনটি দখলে নিতে চাচ্ছি। ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে ভোটারের মধ্যে। ড. শিকদার বলেন, বিশ্ব আজ সঠিক নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেস থেকে সে নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে সামনের নির্বাচনে। এদেশে আমাদের সন্তানেরাও উৎসাহিতবোধ করবেন আমরা যদি কংগ্রেসে অধিষ্ঠিত হতে পারি। তাই এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রতিটি প্রবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান রাখছি আমার বিজয়ে সাধ্যমত সহযোগিতার জন্যে।
বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর অধিকতর মর্যাদার ডিগ্রি গ্রহনের জন্যে সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া, এবং পরিশেষে আমেরিকায় বসতি গড়ার অভিজ্ঞতা উপস্থাপনকালে ড. শিকদার বলেন, আমি ৫ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত। সে আলোকে কংগ্রেসে অধিষ্ঠিত হতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের ভঙ্গুর অভিবাসন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর যথাযথ পরামর্শ প্রদানে সক্ষম হবো বলে বিশ্বাস রাখি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার