
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন বোর্ডের (the National Security Education Board) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হলেন বাংলাদেশি আমেরিকান এম ওসমান সিদ্দিক (৭৪)। ২২ মার্চ হোয়াইট হাউজ আরো ৬ জন বোর্ড মেম্বারের সাথে রাষ্ট্রদূত ওসমান সিদ্দিকের নাম ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জের সন্তান ওসমান সিদ্দিক এর আগে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ফিজিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ওসমান সিদ্দিক ছিলেন প্রথম আমেরিকান মুসলিম যিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান হচ্ছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড জে অস্টিন থার্ড। এর স্থায়ী সদস্যরা হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী, জ্বালানি মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক এবং ন্যাশনাল এ্যানডোউমেন্ট ফর দ্য হিউম্যানিটিজের চেয়ারপার্সন।
এ ব্যাপারে ওসমান সিদ্দিক এ সংবাদাতাকে জানান, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্সটিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগে নিজেকে সম্মানিত বোধ করেছি। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদূত ওসমান সিদ্দিক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্বাচনী টিমের এশিয়া বিষয়ক চিফ এডভাইজারের দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত। এরপর বাংলাদেশি আমেরিকানসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ানরাই অধীর আগ্রহে ছিলেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে অধিষ্ঠিত করা নিয়ে। তার এই নিয়োগের প্রভাব বাইডেনের মুসলিম আমেরিকান ভোট ব্যাংকেও পড়বে বলে অনেকের প্রত্যাশা। কারণ, গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতাকে প্রকাশ্যে সাপোর্ট দেয়ায় মুসলিম আমেরিকানরা বাইডেনের প্রতি নাখোশ। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে নেতানিয়াহুকে অসহায়-নারী পুরুষ হত্যা থেকে বিরত হতে উপযূপরি আহবানের পর সর্বশেষ ২২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির রেজ্যুলেশন উত্থাপন করায় মুসলিম আমেরিকানসহ নতুন প্রজন্মের ভোটারের মধ্যে বাইডেনের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণায় অনেকটা চিড় ধরেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করছেন।
মেট্রপলিটন ওয়াশিংটন ডিসিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় ট্র্যাভেল ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে ওসমান সিদ্দিকের সাথে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের সম্পর্ক রচিত হয়। সেই থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির সাথে ওতপ্রোতভাবে কাজ করছেন ওসমান সিদ্দিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ ওসমান গণির ছেলে ওসমান সিদ্দিকও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রির জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সেই থেকে ভার্জিনিয়া এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। তার এক ভাই ড. ওসমান ফারুক বাংলাদেশে বিএনপি আমলে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। আরেক ভাই ওসমান ইউসুফ যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে এবং দু’দশক ধরে ডেমক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্য।
ওসমান সিদ্দিকের এ নিয়োগে প্রবাসীরাও আনন্দিত। ওসমান সিদ্দিক নিয়োগ প্রাপ্তির পর সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং দোয়া চেয়েছেন এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্যে।



