
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ১১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গত বছর ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী তাপমাত্রা এবং অত্যধিক গরমজনিত রোগে মৃত্যু হয়েছে ২৩০০ আমেরিকানের। আর এ সংখ্যা হচ্ছে ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যেকার যে কোনো বছরের তুলনায় দিনগুণ। ফেডারেল ‘রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ’ (সিডিসি) সংস্থা এ সংবাদ জানার সময় আরো ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে যে, চলতি গ্রীষ্মে গরমের তীব্রতা আরো বাড়বে এবং ইতিমধ্যেই তার আলামত শুরু হয়েছে। গত উইকেন্ডে ফ্লোরিডার মায়ামির তাপমাত্রা ১১২ ডিগ্রিতে বৃদ্ধি পায়। আগের সপ্তাহের প্রতিদিনই তা ছিল ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট করে।
সিডিসির গবেষকরা আরো উল্লেখ করেছেন যে, অসহনীয় গরমে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশী। কারণ অনেক মৃত্যুরই সঠিক তথ্য উপস্থাপিত হয় না। জলবায়ু পরিবর্তণের ভয়ংকর প্রভাব ক্রমান্বয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ৩০ জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করেছেন যারা ‘দ্য অ্যকুপেশনাল সেইফটি অ্যান্ড হেলথ এডমিনিস্ট্রেশন’ আওতায় এ নিয়ে কাজ করবেন। করণীয় সম্পর্কে প্রশাসনকে সুপারিশমালা অবহিত করবেন। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ওয়্যারহাউজ কর্মী, এয়ারবাস পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং বাণিজ্যিক রান্না ঘরের প্রায় ৫ কোটি কর্মীকে অসহনীয় গরমের মধ্যে কাজ করতে হয়, এদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ পেশ করতে হবে এই ৩০ জনের টিমকে।
ফেডারেল স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মানুষ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে অত্যধিক গরমজনিত রোগের। গরমে মৃত আমেরিকানদের সংখ্যা হারিকেন, বন্যা এবং টর্নেডোতে নিহতের চেয়েও বেশী। গত দু’বছর ধরেই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, এবং আইনজীবীরা জনস্বাস্থ্য সংকট নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে কর্মস্থলে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাসের ব্যপারটিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কৃষি শ্রমিক, ওয়্যারহাউজের কর্মী, গরু-ছাগল-মুরগীর খামার কর্মী, রান্না ঘরের শেফরা যাতে ঘনঘন ঠান্ডা পানীয় গ্রহণের সুযোগ পায়, প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কিছুক্ষণ বিশ্রামের সুযোগ নিতে পারেন-এমন ব্যবস্থা অবলম্বনের কথাও ভাবছে প্রশাসন। বাইডেন প্রশাসনের স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার দফতরের জলবায়ু পরিবর্তন ও চিকিৎসা-সমতা বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. জন এম ব্যালবাস ২৫ মে গণমাধ্যমে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মানব স্বাস্থকে ক্রমান্বয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যা মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপের বিকল্প নেই। কারণ এই ছোবল থেকে ধনী-গরিব কেউই রক্ষা পাবো না।



