
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | ১২৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক দু’দিন আগে বন্দুক হামলার শিকার হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবুও তিনি দমেননি। রক্তাক্ত ট্রাম্প সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যগণ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠানোর সময়েও ট্রাম্প মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে উঠিয়ে ‘ফাইট ফাইট ফাইট’ বলে সমর্থকদের উজ্জীবিত করেন। পেনসিলভেনিয়া স্টেটের বাটলার সিটির একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা প্রদানের পর ট্রাম্প সহকর্মীদের জানান যে, ১৫ জুলাই সোমবার থেকে শুরু রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনে তিনি যোগদান করবেন। উইসকনসিন স্টেটের মিলওয়াকি সিটির ফিসার্ভ ফোরামে চারদিনব্যাপী এই সম্মেলনে দলীয় প্রতিনিধিরা নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের নাম ঘোষণা করবেন। এ সম্মেলনে ২৪২৯ ডেলিগেট, ২৩২৫ প্লিজ ডেলিগেট এবং ১০৪ জন আনপ্লিজ ডেলিগেটের মধ্যে ১২১৫ জনের সমর্থন পেতে হবে ট্রাম্পকে। ইতিমধ্যেই সেটি প্রায় নিশ্চিত বলে রিপাবলিকান পার্টির নীতি-নির্দ্ধারকেরা উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী বছরের শেষার্ধে দলীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সম্মেলন ২০২০ সালের ২৪-২৭ আগস্টে ভার্চুয়ালে অনুষ্ঠিত হয়েছে নর্থ ক্যারলিনার শার্লটি সিটির শার্লটি কনভেনশন সেন্টারে।
এদিকে, শনিবার অপরাহ্নে পেনসিলভেনিয়া স্টেটের বাটলার সিটিতে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্যের সময় ট্রাম্পকে গুলিবর্ষণকারী ২০ বছর বয়সী তরুণ থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি এফবিআই। তদন্ত চলছে বলে আপাতত বিস্তারিত জানাতে চাচ্ছে না। এফবিআই দায়িত্ব নিয়েছে সামগ্রিক তদন্তের। ট্রাম্পকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলেই মনে করছে এফবিআই।
৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প বক্তৃতা শুরু করার পরপরই গুলির শব্দ পাওয়া যায়। তিনি হাত দিয়ে ডান কান স্পর্শ করেন এবং রক্তে ভেজা হাত দেখে পডিয়ামের পেছনে হাঁটুর ওপর বসে পড়েন। সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন এসময় চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ধরেন। মিনিটখানেক পর ট্রাম্প যখন উঠে দাঁড়ান, তার মাথার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা লাল রঙের টুপি আর জায়গামত নেই। সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন ঘিরে ধরে গাড়িতে তোলার সময়ও ট্রাম্প বলছিলেন, ‘দাঁড়াও দাঁড়াও’ ফাইট ব্যাক, ফাইট ব্যাক।
গুলিবর্ষণের ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ ধরনের সহিংসতার কোনোই স্থান নেই আমেরিকায়। এটা সুস্থ মানুষের কাজ নয়। এটা হতে পারে না। আমরা এহেন আচরণকে মেনে নিতে পারি না। বাইডেন বলেন, আমি এখনো বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় আছি। পেলেই সবিস্তারে কথা বলতে পারবো। মন্তব্য জানাতেও সক্ষম হবো। নির্বাচনী সমাবেশ কোন ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে চলবে-এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের রীতি। বাইডেন ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলে রাত সাড়ে ১০টায় হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান।
এদিকে, রিপাবলিকান এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির সকল শীর্ষ নেতাই অভিন্ন বিবৃতিতে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুক হামলার নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইসরাইয়েল, বৃটেন, কানাডাসহ বহুদেশের নেতারাও ট্রাম্পের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুক হামলা এবং প্রধান বিরোধী দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে হত্যা-ষড়যন্ত্রের এ ঘটনায় হতভম্ব সচেতন মহল। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট ক্ষোভ ছাড়িয়ে গেছে ট্রাম্পের প্রতি গুলিবর্ষণের এই ঘটনা। কোথায় চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি-এমন মন্তব্য সকলের।



