
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ২১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জ্যাকসন হাইটসে জাতীয় শোক দিবস’র অনুষ্ঠানে তবারক গ্রহণ করেন সর্বস্তরের প্রবাসীরা।
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ আগস্ট বৃহস্প্রতিবার নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্নস্থানে ৮টি দোয়া-মাহফিল ও হাজারো প্রবাসীর মধ্যে তবারক বিতরণের কর্মসূচির পাশাপাশি নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, বস্টনসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কটি শোক-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’ আয়োজিত দোয়া-মাহফিলে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসীর সমাগম ঘটেছিল। জাতিরজনকের আত্মার মাগফেরাত কামনা শেষে বিকেল থেকেই তবারক বিতরণের কর্মসূচি শুরু হয়ে তা চলে রাত অবধি। শতশত নারী-পুরুষ বিনম্র শ্রদ্ধায় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তবারক গ্রহণ করেন। এ সময় সকলেই উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয় এবং স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলেই লাল-সবুজ পাসপোর্ট বহন করে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে সক্ষম হয়েছি। সেই নেতার শাহাদৎ বার্ষিকীর সমাবেশে যোগদান করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। এবং সে তাগিদ থেকেই দূর-দূরান্ত এসেছি। অনেক প্রবাসী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের সরকারী ছুটি বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জ্যাকসন হাইটস এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের উদ্যোগে আরেকটি দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকপাত করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমদাদুল হক, খুরশেদ আনোয়ার বাবলু, কমান্ডারস ফোরামের কোষাধ্যক্ষ আলিম খান আকাশ, নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার নিশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমদাদুল হক প্রমুখ। বক্তারা বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
ডাইভার্সিটি প্লাজায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি এবং আওয়ামী পরিবারের পক্ষ থেকেও জাতিরপিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এ সময় ড. প্রদীপ কর, আবুল হাসিব মামুন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, খোরশেদ খন্দকারসহ বেশ কয়েকজন নেতার সমন্বয়ে জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে মুখরিত করা হয় গোটা এলাকা। এ কর্মসূচিতে প্রবাসের শিল্পীরাও ছিলেন সরব। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পৃথক একটি কর্মসূচিতেও বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটেছিল কুইন্স প্যালেসে। নেতৃত্ব দেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
ব্রুকলীনে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের শোক-সমাবেশ ও দোয়া-মাহফিলে সর্বস্তরের প্রবাসীর সমাগম ঘটেছিল। সকলেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ‘জাতীয় শোক দিবস’র ছুটি বাতিলের জন্যে। এছাড়া, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরও ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন লুটতরাজের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত তথ্য-উপাত্ত পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাকে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। এহেন অপকর্মে লিপ্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন কোন কোন বক্তা। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মিয়া এবং আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন সংগঠনের কম্যুনিকেশন ডাইরেক্টর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফজলুল হক, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোর্শেদ খান বদরুল, আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাদী, জহিরুল ইসলাম ইরান, আলী আক্কাস, জসীমউদ্দিন প্রমুখ। শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে শাহাদৎ বরণকারী সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন ফাউন্ডেশনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এম এ জলিল।



