
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘আমাদের ভবিষ্যত এখানে তৈরী হয়’ (আউয়ার ফিউচার ইজ ক্রিয়েটেড হিয়্যার)মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ভারতীয় আমেরিকান ও কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণার মধ্যদিয়ে আরেকটি ইতিহাস রচনার অভিপ্রায়ে শিকাগো সিটিতে ১৯ আগস্ট সোমবার শুরু হচ্ছে ডেমক্র্যাটিক পার্টির চারদিনের জাতীয় সম্মেলন। আর এই নতুন ইতিহাসের রানি হচ্ছেন কমলা হ্যারিস। এর ১৬ বছর আগে বারাক ওবামা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং হাফ মুসলমান হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আরেকটি ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বখ্যাত স্থপতি এফ আর খানের স্মৃতি বিজড়িত শিকাগোতে এই সম্মেলনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ৫ সহস্রাধিক ডেলিগেট ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ ৫০ হাজারের অধিক আমেরিকান অংশ নেবেন।
দেশ বিদেশের হাজার খানেক মিডিয়া কর্মীর সাথে বাংলাদেশ প্রতিদিনও রেজিস্ট্রেশন করেছে সম্মেলন কভারের জন্যে। বাইডেন, ওবামা, হিলারি এবং বিল ক্লিন্টন-সহ ডেমক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় সকল নীতি-নির্ধারকরাইএ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। এখানেই দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন ডেলিগেটরা। প্রথম দিনেই বক্তব্য দেবেন প্রেসিডেন্ট যো বাইডেন এবং সম্মেলনের উদ্বোধনের সন্ধ্যায়ই ভাষণ দেবেন হিলারি ক্লিন্টন। পরদিন মঙ্গলবার বারাক ওবামা ভাষণ দেবেন। এদিনই উপস্থিত ডেলিগেটসহ সুধীজনের বিপুল করতালিতে প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করবেন কমলা হ্যারিস। পরদিন বুধবার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টিম ওয়াল্জকে সাথে নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস নিজের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন এবং এরপর দিনই সকলের সমর্থনে সামনের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হবেন। বুধবার টিম ওয়ালজের বক্তব্যের প্রাক্কালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের বক্তব্য দেয়ার কথা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হেরে গিয়েছিলেন হিলারি। তবে প্রধান কোন রাজনৈতিক দল থেকে নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার যোগ্যতা হিলারি ক্লিন্টনেরই হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ট্রাম্পের সাথে লড়বেন কমলা হ্যারিস। কমলা যদি জয়ী হতে পারেন তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আরেকটি নয়া অধ্যায়ের মধ্যমনি হবেন কমলা। অর্থাৎ তিনিই হবেন নির্বাচিত প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যো বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর অনেকের ধারণা ছিল যে, কমলার পক্ষে ডেমক্র্যাটরা হয়তো ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেন না বা হবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একেবারেই উল্টো। সকল ভেদাভেদের উর্দ্ধে উঠে ডেমক্র্যাটরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন ট্রাম্পকে পরাজিত করার এ লড়াইয়ে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ের সবকটি জরিপেই ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন কমলা। আরো উল্লেখ্য, জুলাইয়ে রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্টদের মঞ্চে আনা দূরের কথা, শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেই ছিলেন অনুপস্থিত। এরফলে কমলার পাল্লা আরেক দফা ভারি হয়েছে বলে মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এদিকে, এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত সময়ে ডেমক্র্যাটিক পার্টির আসন্ন সম্মেলনে বক্তা তালিকায় মিশেল ওবামার নাম উঠেনি। মিশেল হচ্ছেন শিকাগোর বাসিন্দা। তাই অনেকে ধারণা করছেন মিশেলকে মঞ্চে ডেকে সকলকে সারপ্রাইজ দেয়া হতে পারে।
ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই সম্মেলন চলাকালে বাইরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারির উপস্থিতি ঘটবে বলে জানা গেছে। তারা বাইডেনের অনেক সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ফিলিস্তিনিদের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে ইসরাইলকে সহযোগিতা, ইমিগ্রেশন ইস্যুতে অঙ্গিকার ভঙ্গ এবং সীমান্ত খুলে দিয়ে লাখ লাখ বিদেশিকে প্রবেশের সুযোগদান, করোনা থেকে জেগে উঠার পরিক্রমায় নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ সহায়তা ইত্যাদির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিকাগো সিটি পুলিশ প্রশাসন সরব রয়েছে বলে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। তবে সম্মেলনের মূলমঞ্চের আশেপাশে বিক্ষোভের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার প্রয়াস নিলে ডেমক্র্যাটদের জন্যে তা হবে লজ্জাজনক এবং এই পরিস্থিতি ভোটের ময়দানেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।



