Advertisement Placeholder

ড. ইউনূসকে চার ইউএস সিনেটরের চিঠি

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৫১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ড. ইউনূসকে চার ইউএস সিনেটরের চিঠি

মার্কিন সিনেটে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর বেঞ্জামীন এল কারডিন (ডেমক্র্যাট-ম্যারিল্যান্ড)সহ ৪ সিনেটর ২০ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে এক পত্রে বাংলাদেশের অত্যন্ত ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব গ্রহণের জন্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানের ক্রান্তি কালে আমরা বাংলাদেশকে সাপোর্ট দিতে প্রস্তুত রয়েছি এবং আপামর জনতার প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে সত্যিকারের গণতন্ত্রে উত্তরণে সহযোগিতা দিয়ে যাবো।’

এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারি ডেমক্র্যাটিক পার্টির অপর সিনেটররা হলেন ক্রিস মারফি (কানেকটিকাট), জেফ মারকলী (ওরেগণ) এবং ক্রিস ভ্যান হলেন (ম্যারিল্যান্ড)। চিঠিতে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ তথা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রধান দাবি ছিল রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার, এবং সর্বস্তরে জবাবদিহিতার। এই দাবি জরুরীভাবে পূরণের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সিনেটরদের চিঠিতে। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা রিফ্যুজি-সহ আওয়ামী লীগের লোকজনের ওপর হামলার জন্যে দায়ীদের জবাবদিহিতার জন্যে তথা বিচারের আওতায় আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরো শক্তিশালী এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটররা।

আইন প্রণেতারা লিখেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গোটাবিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে যে, কীভাবে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসের সাথে সম্মিলিত পদক্ষেপে উদ্বুদ্ধ করতে রুপান্তরকারি শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আর এই ক্রান্তিকালটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মানবাধিকার রক্ষা এবং সুশাসন কায়েমের পথ নিশ্চিতের জন্যে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষুব্ধ জনসাধারণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তাদের আওয়াজে সবচেয়ে চরমে উঠা আধিপত্যবাদি এবং কর্তৃত্ববাদি নেতাদেরকেও ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য করে। তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বিনা ত্যাগে আসেনি। বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ জানাতে অথবা আওয়াজ উঠানোর সুযোগ দানের পরিবর্তে র‌্যাব-সহ বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বর্বরতা চালিয়েছে, শতশত বিক্ষোভকারিতে হত্যা করেছে, আহত করেছে অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে। হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্বরতার ভিকটিম হওয়া ছাত্র-জনতার জন্যে আমরা শোক প্রকাশ করছি এবং নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রক্রিয়া অবলম্বনের অনুরোধ জানাচ্ছি।

চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যখন অনেকেই বাংলাদেশের এই পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং অভিনন্দিত করছে, ঠিক তেমনি সময়ে উচ্ছ্বাসের ব্যাপারটি প্রতিহিংসায় পর্যবসিত হচ্ছে, যেখানে পুলিশ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সমর্থক এবং রোহিঙ্গা শরনার্থীরাও সহিংসতার ভিকটিম হচ্ছে। বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে আইনের আওতায় সুরক্ষিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার ভবিষ্যত প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম হতে পারবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার