শনিবার ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ওয়াশিংটন ডিসি ও জাতিসংঘে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট  

ওয়াশিংটন ডিসি ও জাতিসংঘে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে সংবর্ধনা-সমাবেশে অতিথিবৃন্দ। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

৫১তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ২১ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে সংবর্ধনার আয়োজন করে। দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর আন্ডার সেক্রেটারি গীবে ক্যামারিলো ছিলেন। সন্ধ্যায় দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল টি প্লেহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরো) আফরিন আক্তারও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী তার বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন যে, তিনি বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের লালিত স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মুক্তিযুদ্ধে সামরিক ও বেসামরিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা-কবলিত অঞ্চলে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে তারা বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর আন্ডার সেক্রেটারি গীবে ক্যামারিলো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ৫১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম সৈন্য প্রেরণকারী দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেয়।
রাষ্ট্রদূত ইমরান বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যার নেতৃত্বে নয় মাসব্যাপী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জমাদি সংগ্রহ ও সফর বিনিময় ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ, ডিফেন্স অ্যাটাচে এবং পেন্টাগন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও অন্যান্য মার্কিন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাহেদুল ইসলাম সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মিনিস্টার (রাজনৈতিক-১) দেওয়ান আলী আশরাফ। আমন্ত্রিত অতিথি কর্তৃক কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয় বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) এজেডএম সাজ্জাম হোসেন।

এদিকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, ডিপার্টমেন্ট অব সেইফটি এন্ড সিকিউরিটিজের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল গিলেসমিশউড, জাতিসংঘের মিলিটারি এডভাইজর জেনারেল বিরামেডিওপ সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ (স্থায়ী প্রতিনিধি), ও সামরিক উপদেষ্টাগণ (মিলিটারি এডভাইজর) অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিফেন্স এডভাইজর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাদেকুজ্জামান আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত। পরবর্তীতে স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আগত অতিথিদের নিয়ে কেক কাটেন এবং সকলকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। এসময় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধেও ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষেরও বেশী নির্যাতিত নারীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন তাঁদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কারণেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। এসময় তিনি ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হওয়া মহান মুক্তিযুদ্ধে নবগঠিত সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান এবং সর্বোপরি দেশের অভ্যন্তওে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের উপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতঅতিথিবর্গ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ যে অবদান রেখে যাচ্ছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এসময় তাঁরা সশস্ত্র বাহিন দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar