Advertisement Placeholder

আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে বস্টনে প্রবাসীদের স্লোগান ‘আমরা বাঁচতে চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১২০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে বস্টনে প্রবাসীদের স্লোগান ‘আমরা বাঁচতে চাই’

সাঈদ ফয়সাল আরিফ হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে সিটি হলের সামনে র‌্যালি। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

‘হে ক্যাম্ব্রিজ, আমরা বেঁচে থাকতে চাই’ ( Hey Cambridge-we eant to be alive ), ‘আমরা বাঁচতে চাই’, ‘স্পীক আপ-স্ট্যান্ড আপ’, ‘জাস্টিস ফর ফয়সাল’, ‘স্টপ পুলিশ ব্রুটালিটি’ ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম একটি শান্তিপ্রিয় সিটি ‘বস্টন’। ৪ জানুয়ারি বুধবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে প্রকাশ্য রাস্তায় সংঘবদ্ধ পুলিশের একটি টিমের উপর্যুপরি গুলিতে নিহত ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসেচুসেটস’র বস্টন ক্যাম্পাসের নবীন ছাত্র সাঈদ ফয়সাল আরিফ(২০) হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে ৫ জানুয়ারি দুপুরে ক্যাম্ব্রিজ সিটি হল প্রাঙ্গনে তাৎক্ষণিক এ র‌্যালিতে সর্বস্তরের প্রবাসী ছাড়াও অংশ নেন আরিফের সহপাঠিরা। উল্লেখ্য, মা-বাবা একমাত্র পুত্র সন্তান আরিফ ৭/৮ বছর আগে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। বস্টনের ক্যাম্ব্রিজে ২০০২ সালের পর এটাই প্রথম পুলিশী বর্বরতা বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
হত্যাকান্ডের আলোকে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী ম্যারিয়েন রায়ান বলেন, ক্যাম্ব্রিজপোর্টের এক বাসিন্দার ফোন করে পুলিশের জরুরী বিভাগকে জানান যে, গায়ে শার্ট নেই এমন এক তরুণ ঘরের জানালা দিয়ে লাফিয়ে রাস্তায় নেমেছেন এবং হাতে বড় ধরনের একটি ছুরি রয়েছে। তরুণটি নিজেকে ছুরিকাঘাতে আহত করার চেষ্টা করছেন। এ তথ্য জেনেই ডজনখানেক পুলিশ অফিসার অকুস্থলে যায় এবং তাকে বিরত থাকার আহবান জানায়। কিন্তু সে পুলিশের আহবানে সাড়া না দিয়ে চেস্টনাট স্ট্রিট দিয়ে দৌড়াতে থাকে। সে সময়ও তার হাতের ছুরিটি গলার দিকে তাক করা বলে তদন্তকারিদের উদ্ধুতি দিয়ে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী উল্লেখ করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ছুরিটি ফেলে দেয়ার আহবানেও সাড়া না দিয়ে তরুণটি উল্টো ছুরি উঁচু করে পুলিশের দিকে আসছিলেন। এ অবস্থায় পুলিশ তাকে লক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বস্টনের জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ক্যাম্ব্রিজ পুলিশ কমিশনার ক্রিস্টিন ইলো এ সময় জানান, যে কোন মৃত্যুই বেদনাদায়ক। আমরা আরিফের মৃত্যুকেও সহজভাবে নিচ্ছি না। সরেজমিনে তদন্ত চলছে। যদি অন্যায়ভাবে গুলি চালানো হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট অফিসার (৮ বছরের পুরনো) বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর কথাও জানান পুলিশ কমিশনার।
এদিকে, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসির র‌্যালিতে কম্যুনিটি লিডার ইকবাল ইউসুফ বলেন, বস্টন হচ্ছে সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষের সিটি। আমরাও কখনো কোন মারদাঙ্গা পরিস্থিতিতে লিপ্ত হইনি। তবুও কেন আমাদের টার্গেট করা হয়েছে? কেন আমাদের নিস্পাপ আরিফের বুক বিদ্ধ হবে পুলিশের বুলেটে। ইকবাল ইউসুফ উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে যে পুলিশের বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির মধ্যে অন্তত: ৫টি বিদ্ধ হয়েছে আরিফের বুকে। এ অবস্থায় নিরব থাকার অবকাশ নেই। আমাদের সংঘবদ্ধ আওয়াজ উঠাতে হবে এহেন বর্বরতার বিরুদ্ধে। র‌্যালিতে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট পারভিন চৌধুরী, সেক্রেটারি তানভির মুরাদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ চৌধুরী, সেলিম জাহাঙ্গির, আশরাফউদ্দিন তালুকদারও ছিলেন।
নিহত আরিফের পিতা মো. মুজিবউল্লাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেছেন, সে ছিল খুবই মেধাবি ছাত্র। আশা করেছিলাম আরিফ ইঞ্জিনিয়ার অথবা ডাক্তার হবে। কিন্তু এখন সব আশা শেষ হয়ে গেল।
সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে, ক্যাম্ব্রিজের মেয়র সম্বুল সিদ্দিকী সোমবার ফিরবেন বিদেশ থেকে। সেদিনই বিকেল সোয়া ৪টায় কম্যুনিটির নেতৃবৃন্দের সাথে তিনি মিলিত হয়ে উদ্ভ’ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ এবং ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের সহায়তা চাওয়া হয়েছে পুলিশের গুলি বর্ষণের সময় আরিফের হাতে আদৌ কোনস ছুরি ছিল কিনা।
বস্টন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ইকবাল ইউসুফ পুলিশের এহেন নির্দয় আচরনে হতবাক হয়ে এ সংবাদদাতাকে বলেন, বস্টন হচ্ছে সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষের সিটি। এখানে যদি পুলিশের গুলিতে মানুষের প্রাণ ঝরে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে কেউই নিরাপদ নন ভাবতে হবে। তিনি সোমবার অপরাহ্নে মেয়র অফিসে সর্বস্তরের প্রবাসীর উপস্থিতি কামনা করেছেন। সেই উপস্থিতি বিচারের দাবির পক্ষে মেয়রসহ প্রশাসনের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন কম্যুনিটির অপর নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, স্থানীয় একটি টিভিতে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে এলাকার এক নারী বলেছেন যে, আরিফের হাতে কোন ছুরি দেখেননি তিনি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার